২১ জুন বাবা দিবস
বাবা আমার অনন্য
১৫ জুন, ২০১৫ ইং
বাবা আমার অনন্য
n রাজেশ্বরী প্রিয়রঞ্জিনী

 

একটি প্রবাদ আছে, পৃথিবীর সব স্বামীর কাছে তার স্ত্রী মহারাণী তুল্য নাও হতে পারে! কিন্তু সকল বাবার কাছে তার কন্যা . . . রাজকন্যা হয়েই জন্মায়। আবার অনেকেই বলেন, বাবা হতে গেলে কন্যা সন্তান না হলে জীবন অপূর্ণ রয়ে যায়। কিন্তু না, জীবনপাত্র উচ্ছলিয়া কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে আছেন এক বাবা, যিনি সারাদিন প্রচণ্ড কর্মব্যস্ত, গুরুত্বপূর্ণ পেশার দায়িত্বে নিয়োজিত। অফিসের ডেস্কের ডানদিকে তাকালেই দেখা যাবে মেয়ের ছবি, বাবাকে দেয়া মেয়ের বার্থ-ডে উইশ . . .স্বযত্নে ল্যামিনেট করে রেখে দিয়েছেন বাবা। দিনের শুরুতেই প্রায় প্রতিদিন ফেসবুকে মেয়ের একটি চমত্কার ছবি আপলোড করেন তিনি, অনুভবে, অনুরণনের প্রতিটি পরতে পরতে রয়েছে কন্যার অস্তিত্ব। তিনি আজম খান। স্নেহ বাত্সল্যের পরম নিমজ্জনে তার স্বপ্ন ছিল, তিনি এক রাজকন্যার বাবা হবেন। মহান সৃষ্টিকর্তা সেই পরম স্বপ্ন পূর্ণ করলেন, পৃথিবী আলো করে জন্ম নিল কন্যা, নাম হলো ‘অনন্যা’! অনন্যাকে নিয়েই আজম খানের পৃথিবী। এক রাজসিক বাবা তিনি। আনন্দ, ভালোবাসা, স্বপ্ন .. সত্য ও সুন্দরে জীবনের পরম অস্তিত্বের নাম কন্যা ‘অনন্যা’। ফুল টাইম ফাদার হুডে বিশ্বাসী তিনি। কোয়ানটিটির চেয়ে কোয়ালিটি টাইমটা মেয়েকে দিতে ভালবাসেন। বাবা ও মেয়ের শেয়ারিং ও বন্ধুত্বের বন্ধন এক নন্দিত স্বর্গ যেন! অনন্যার জন্মদিন! দীর্ঘ এক মাস আগে থেকেই শুরু হয়ে যায় বাবা ও মেয়ের পরিকল্পনা। মেয়ের ছোট্ট ছোট্ট চাওয়াগুলোকে পরম যত্নে রূপ দিতে চেষ্টা করেন আজম খান। সহজ ও সুন্দর একটি জীবনের আদর্শিক ছায়াকল্প তিনি মেয়েকে দিতে চান। যেখানে জীবন দর্শনের সৌন্দর্য শিক্ষা, শৃঙ্খলা, সংযম ও মানবিক গুণগুলোর সমন্বয়ে মণিকাঞ্চন হয়ে ওঠে মহার্ঘ্য জীবন।

নৈমিত্তিক জীবনের ক্লান্তি ভর করলেই মেয়েকে নিয়ে ঘুরতে বের হন আজম খান। মেয়ের মধ্যেই যেন ফিরে পান নব-জীবনের সঞ্জীবনী প্রেরণা। মেয়ে যখন বাবাকে খাবার সাজিয়ে এনে দেয় কিংবা ক্লান্ত বাবার কপালে তার কোমল হাত দুটি রাখে, বিস্ময়ে বিভোর হন বাবা .. সাক্ষাত্ জননীর স্নেহরূপে। মেয়ের সঙ্গে বন্ধুত্বের এক চমত্কার সম্পর্ক। এই শেয়ারিংটা জীবনে খুব জরুরি বলে তিনি মনে করেন। শিক্ষকসুলভ আচরণে না শিখিয়ে সন্তানকে স্নেহ ও বন্ধুত্বের ভঙ্গিমায় অনেক বেশি মূল্যবোধে উদ্দীপ্ত করা যায় বলে তিনি বিশ্বাস করেন। যে আদর্শ ও মূল্যবোধে তিনি নিজে বড়ো হয়েছেন, সময়ের পাল্লা এগিয়েছে এখন ভিন্ন মাত্রায়। কিন্তু সন্তানকে সঠিক পথটি দেখাতে একজন বাবার দায়িত্ব বহুমাত্রিকতার স্পন্দনে, যা নিরন্তর বহমান রেখেছেন প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তের পথ চলায়। মেয়ে অনন্যা ক্লাস থ্রীতে পড়ছে। মনটা আনন্দে উদ্বেল হয়ে যায় যখন পরীক্ষার খাতায় মেয়ের স্টার ও নম্বর বেড়ে যায়। মন বলে . . . যেন বাবাই জিতে গেছে।

মেয়ে ছবি আঁকতে ভালবাসে। প্রতি সন্ধ্যাতেই অফিস থেকে ফেরার পথে মেয়ের আব্দার থাকে, ‘বাবা রঙ এনো, ঐ যে ব্লু আর ইয়োলো কালারের স্টিকার, ওগুলো কিন্তু আনবেই। আনতে কিন্তু হবেই।’

বাড়ি ফেরার আনন্দ যেন দ্বিগুণ হয়ে যায় বাবার, মেয়ের ছোট্ট ছোট্ট আব্দার, ছোট্ট ছোট্ট স্বপ্ন, ছোট্ট ছোট্ট অম্ল-মধুর গল্পে যেন বাবাও সওয়ার হয়ে যান। সকালটা যেন অনেক বেশি আলোর বার্তা নিয়ে আসে যদি মেয়ে এসে বাবার গলা জড়িয়ে থাকে। স্বগর্বে বলছিলেন আজম খান, ‘পৃথিবীতে সবচাইতে সুখের দিন ছিল যেদিন আমি বাবা হই। মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে মনে হয়েছিল আমি পৃথিবীর সবচাইতে বেশি সুখী মানুষ। তাই প্রতিটি দিনই আমার কাছে উত্সব যখন আমি মেয়ের সাথে থাকি। ইদানীং আমাদের মধ্যে এস.এম.এস. আদান-প্রদান হয়। অনন্যার এস.এম.এস. পেলে এতো ভাল লাগে। ওকে আমি সঠিক যেটা মনে করি, বন্ধুর মত শেয়ার করি। ওর উপর কখনোই কিছু চাপিয়ে দেই না, জীবনে ও যা হতে চাইবে সেটাই হবে। কিন্তু ও যেন একজন ভালো মানুষ হয়- এটাই বাবা হিসেবে আমার চাওয়া। সবচাইতে ভালো  লাগে- যখন বুঝি না আমি ওর বাবা নাকি ও আমার মা। ওর ছোট্ট হূদয়ে কি অসম্ভব মাতৃ-রূপ, যা এই পৃথিবীতে আমার কাছে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার। বাবা দিবস বা জন্মদিনে আমার কাছে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ও প্রিয় উপহার হলো আমার মেয়ের উইশ! সত্যিই পৃথিবীতে বাবা হওয়ার মত সুখের অন্য কিছুই না’।

প্রতিটি সকালেই আজম খানের ঘুম ভাঙে মেয়ের ডাকে। মেয়ে অনন্যার মুখের দিকে তাকিয়ে মনে হয়, জীবন কত সুন্দর! যেন এক অনন্য রূপকথা! যেখানে মেয়ের বাবা মানেই রাজা আর অনন্যা . . . এক ফুটফুটে রাজকন্যা!

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৫ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন