দুনিয়া পাল্টানো নারী
নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানীএশিয়ার মহীয়সী নারী
১৫ জুন, ২০১৫ ইং
n সেলিম হোসেন

 

এশিয়ার মহীয়সী নারী নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী। লাকসামের ডাকাতিয়া নদীর উত্তর তীরে খান বাহাদুর বাড়িতে নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী জম্ম গ্রহণ করেন। নবাব ফয়জুন্নেছার জম্ম ১৮৩৪ সালে। রূপজালাল নামে গ্রন্থ বাংলা ভাষায় লিখিত মহিলাদের মধ্যে সর্বাগ্রে প্রকাশিত বই। লেখিকাদের পথ প্রদর্শক ছিলেন নবাব ফয়জুন্নেছা। সাহিত্যের ইতিহাসে এটি এক বিরল দৃষ্টান্ত।

নবাব ফয়জুন্নেছার রূপজালাল কাব্যগ্রন্থ তার স্বামী গাজী চৌধুরীর নামে উত্সর্গ করেন। নবাব ফয়জুন্নেছার পিতার নাম সৈয়দ আহম্মদ আলী চৌধুরী। তার মাতার নাম আরফান্নেছা চৌধুরানী। ফয়জুন্নেছার ভাই বোনদের মধ্যে তিনিই জমিদারি পরিচালনার প্রশিক্ষণ পান। তত্কালীন হোমনাবাদ পরগনার বিরাট জমিদারি তিনি পরিচালনা করেন।

নবাব ফয়জুন্নেছার গৃহশিক্ষক ছিলেন তাজ উদ্দিন। ১৯০৩ সালের অক্টোবর মাসে ১৩১০ বাংলা ২০ আশ্বিন নবাব ফয়জুন্নেছা ইন্তেকাল করেন। তার জমিদারির ১১টি কাচারির মধ্যে প্রত্যেকটির পাশে বিশুদ্ধ পানির জন্য পুকুর কাটান এবং মক্তব ও প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন। তত্কালীন ব্রিটিশ সরকারের রানী লাকসামের নবাব ফয়জুন্নেছাকে বেগম উপাধিতে ভূষিত করে।

সাহিত্য চর্চায় নবাব ফয়জুন্নেছার প্রতিভা দুনিয়ার মানুষ সম্মানের সাথে স্বীকার করে। কুমিল্ল­া শহরে ১৮৭৩ সালে নবাব ফয়জুন্নেছা দুটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। শহরের পূর্ব প্রান্তে নাজুয়া দীঘির পাড়ে প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয় এবং অপরটি বাদুরতলাতে উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।

নবাব ফয়জুন্নেছা ছিলেন নারী শিক্ষার অগ্রনায়িকা। অন্ধকার যুগের আলোর দিশারী মহীয়সী নারীর স্মৃতি বহন করছে। নবাব ফয় ১৮৯৯ সালে কুমিল্ল­া ভিক্টোরিয়া কলেজ প্রতিষ্ঠালগ্নে নবাব ফয়জুন্নেছা প্রচুর অর্থ সাহায্য করেন। নবাব ফয়জুন্নেছার প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি ওয়াকফে দান করা হয়। নবাব ফয়জুন্নেছা রচিত কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৮৭৬ সালে। মিশ্র ভাষারীতির লেখা গদ্য ও পদ্যে তিনি গ্রন্থ রচনা করেন।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৫ জুন, ২০১৯ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন