জাতিসংঘে বাংলাদেশের কিশোরীদের প্রতিনিধি মণি বেগম
শিশু বিয়ে বন্ধের প্রত্যয়
রাবেয়া বেবী১৩ জুন, ২০১৬ ইং
শিশু বিয়ে বন্ধের প্রত্যয়
১ ৬ বছরের মণি বেগম কুলাউড়া সুলতানপুর গার্লস হাইস্কুলে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পড়াশুনা বিষয় তার বাণিজ্য। এ বিষয় পড়া শেষ করে আইনে পড়তে চায় মণি বেগম। উদ্দেশ্য দেশের শিশু বিয়ে বন্ধে কাজ করা। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের কিশোরীদের প্রতিনিধি হিসেবে শিশু বিয়ে প্রতিরোধকল্পে বক্তব্য রাখে কিশোরী ক্লাবের এই নেত্রী। এ যাবত্ সে আলাপকালে ২০টি ও বর আসার দিন ২টি শিশু বিয়ে ভেঙে দেয়। ৫ জুন ‘মেয়ে আমার অহংকার, ১৮’র আগে বিয়ে নয় এ আমার অঙ্গীকার’ শীর্ষক শিশু সুরক্ষা মেলায় প্রান্তিক এই কিশোরী জানায় স্বপ্নময় এক জগতের কথা।

সিলেট মৌলভীবাজারের কুলাউড়া শিশু বিয়ে অনেক কমে গেছে। এখন আর কেউ শিশু বিয়ে দিতে চায় না। কেউ কেউ চাইলেও আমাদের দলের কর্মতত্পরতা তা বন্ধ করে দেয়। আমাদের এলাকায় অনেক দূরে দূরে শিশু বিয়ে হতে শুনি। এগুলোও বন্ধ করতে হবে। সচেতনতাই পারে শিশু বিয়ে বন্ধ করতে-এভাবে আত্মবিশ্বাসের সাথে নিজের প্রত্যয়ের কথা বলে   মণি বেগম। উচ্চারণ, বলার ভঙ্গি সব মিলিয়ে এক আত্মপ্রত্যয়ী মেয়ে।

তবে কয়েক বছর আগেও সে এমনটা ছিল না। পরিবেশগত কারণেই তার মধ্যে ছিল অনেক জড়তা, শঙ্কা,আর অনিশ্চয়তা। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বক্তব্য বদলে দেয় তার জীবন। তবে মণি ফেলে আসা জীবনকে ভুলবে না। সে জীবন তাকে এখানে নিয়ে এসেছে। মণি বলে, চার বোন দুই ভাইয়ের সংসারে সব সময় অভাব লেগেই ছিল, খেয়ে না খেয়ে থাকতাম। রিকশা চালক বাবা-মহররম আলী ও মা হাওয়ারুন বিবি চাইতেন ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনা করাতে। কিন্তু অভাব আর সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা তাদের ইচ্ছা পূরণের বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পড়ালেখা শেষ হওয়ার আগেই এক এক করে তিন মেয়ের বিয়ে দিতে হয়। তিন নন্বর রোজিনা আক্তার কেয়ার বিয়েটা পুরোপুরি শিশু বিয়ে হয়।

১৭ দিনের মাথায় সে বিয়ে ভেঙেও যায়, কারণ বর মানসিক প্রতিবন্ধী। ঘটনাটা ১৩ বছরে মণিকে বেশ কষ্ট দেয়। সেই সময় ব্র্যাক কিশোরী ক্লাবের কার্যক্রম সম্পর্কে মণি জানতে পারে। সুযোগ আর হাতছাড়া করে না। যোগ দেয় সেই ক্লাবে। তখন ২০১২ সাল, মণি কুলাউড়া সুলতানপুর গার্লস হাই স্কুলের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। দুর্বল এক মেয়ে ব্র্যাকের সাত দিনের ট্রেনিং -শিশু বিবাহ, জেন্ডার, বয়োসন্ধিকাল, মাদক সামাজিক ব্যাধিসহ নানা বিষয় জীবনের নতুন এক অধ্যায় মেলে ধরে মণির সামনে। তারপরও দুই/তিন দিনদিনের কিছু ট্রেনিং মণির আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দেয়। ২০১৪ সালে সেভ দ্যা চিলড্রেন ও আহসানিয়া মিশন একটি প্রজেক্টের অংশ হিসেবে জাতিসংঘের ৭০তম সাধারণ অধিবেশনের যোগ দেওয়ার জন্য একজন কিশোরীকে খোঁজে। সমগ্র দেশের কিশোরীদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয় মণি। মণি বলে, কোনোদিন ভাবিনি এমন নামী-দামি মানুষের সাথে দেখা হবে। আমি এই অধিবেশনে বক্তৃতা দেব। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিট ক্যামেরন আমাকে দারুণভাবে উত্সাহিত করে। আমি ডেভিট ক্যামেরনকে প্রশ্ন করে ছিলাম, আমাদের শিশু বিয়ে কীভাবে বন্ধ হবে। তিনি বলেন, সব নেতা, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ইউনিয়ন নেতা, বাবা-মা, শিক্ষক-শিক্ষিকা এক   জায়গায় বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে শিশু বিয়ে বন্ধ হবে। আমি এই লক্ষে কাজ করতে চাই।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন