ব্যতিক্রমী উদ্যোক্তাদের গল্প
১৩ জুন, ২০১৬ ইং
ব্যতিক্রমী উদ্যোক্তাদের গল্প
সংগ্রামের সঙ্গে সাফল্য কথাটা যেন সমার্থক। বাংলাদেশের নারীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখার

জন্য প্রতিনিয়ত প্রশংসিত হচ্ছেন। এর মধ্যেও অনেকে রয়েছেন যারা বৃত্তের অনেক বাইরে থেকে চিন্তা করছেন। কাজ করে যাচ্ছেন মানুষের কল্যাণে। এমন নারীদের উত্সাহিত করতেই প্রদান করা হয় ‘নোটারী ভোকেশনাল

এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’। এ বছর শিক্ষা, কৃষি ও পশুপালনে অবদান রাখার জন্য তিনজন নারী

উদ্যোক্তা এই পুরস্কার পেয়েছেন। তাদের গল্প নিয়েই আজকের আয়োজন।

জানাচ্ছেন সামিউল ইসলাম শোভন

নুরুন্নাহার বেগম

(পশুপালন)

মাত্র ১০০০ টাকা দিয়ে শুরু, ১৯৯২ সালে। শুরুটা কৃষিকাজ দিয়ে হলেও, নুরুন্নাহারের ভাগ্য বদলায় ডেইরি ফার্ম। ২০০০ সালে একটি গরু দিয়ে খামারের কাজ শুরু করেছিলেন। পশুপালনে এখন তিনি দেশজুড়ে সেরা উদাহরণ। পাবনার ঈশ্বরদীতে বসবাসরত এই নারীর ডেইরি ফার্মে গরুর সংখ্যা এখন প্রায় দুই শতাধিক। সঙ্গে ভেড়াপালন, কৃষি কাজ তো রয়েছেই। তার লিচু বাগানের লিচু সারাদেশে বিক্রি হচ্ছে। প্রায় ৬০ বিঘা জমিতে এখন কৃষিকাজ পরিচালনা করেন নুরুন্নাহার বেগম। তবে পথটা সহজ ছিলো না তার জন্য। বলছিলেন, ‘এমনও গেছে, অন্যের বাড়িতে থেকেছি। কাজ করেছি। বিয়ের পরের বছরেই এগুলো শুরু করতে থাকি। এতোদূর আসতে অনেক কষ্ট হয়েছে। তবে পরিশ্রমের ফল পাচ্ছি। অনেক বড় বড় পুরস্কার পেয়েছি। যার মধ্যে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার, সিটি ব্যাংক পদক, জাতীয় মত্স্য সম্মাননা, নোটারি ভোকেশনাল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড  উল্লেখযোগ্য।’ নুরুন্নাহার প্রথম যিনি নিজের ডেইরি ফার্মের সুবাদে বায়োগ্যাস উত্পাদন করছেন এবং তা দিয়ে খামার ও বসতবাড়ির বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করছেন। এতোসব অবদানের কারণেই তিনি কৃষি ইন্সটিটিউটের বোর্ড সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। মানব কল্যাণেও নিজের সেরাটা দিতে চেষ্টা করে যাচ্ছেন এই নারী। জানালেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০ জন কৃষকের ব্যাংক ঋণের জামানতদার তিনি।

নিভা রাণী বিশ্বাস

(কৃষি)

আ মার কিছুই ছিলো না। খুব কষ্ট করে এলাকার অন্যান্য নারীদের বলে সমিতির মতো কিছু একটা করার চেষ্টা করি। সেখানে আমরা ১০-৫০ টাকা সপ্তাহে জমা করতাম। ইচ্ছা ছিলো কৃষিতে কিছু একটা করবো। তারপর বাড়ির আঙিনায় শাকসবজি চাষ করতাম। বলছিলেন যশোরের নিভা রাণী বিশ্বাস। কৃষিতে নোটারি ক্লাব থেকে অ্যাওয়ার্ড পাওয়া এই কৃষাণী এর আগে জিতে নিয়েছেন বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার। 

জানালেন, চাষ করার মতো কোনো জমিই ছিলো না তার। তার এলাকার কৃষি কর্মকর্তারা তাকে সার্বিক সহায়তা করেছেন বলেই এতোদূর আসা। জমি না থাকার কারণে, অনুমতি নিয়ে খেজুর গাছ লাগিয়েছেন রাস্তার ধারে পড়ে থাকা জমিতে। সেখানে লাগিয়েছেন প্রায় ৬০০০ খেজুর গাছ। সেগুলো থেকেই নিজেকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলেছেন। এছাড়া শাকসবজির সঙ্গে এখন ভুট্টা, পাট, ধান ইত্যাদি আবাদ করছেন।

শুধু তাই নয়, নিজের কাজের সঙ্গে এখন অন্য কৃষাণীদেরও পরামর্শ দিচ্ছেন, শেখাচ্ছেনও। তার এলাকার কৃষি বিভাগও তাকে অনেক সাহায্য করে বলে জানিয়েছেন। বলেছেন, ‘শুরু থেকেই আমাকে কৃষি কর্মকর্তারা পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের দিকনির্দেশনা আমাকে এতোদূর আসতে অনেক সাহায্য করেছে।’

আঞ্জুমান আরা রুমা

(শিক্ষা)

সৃজনশীলতা বলতে কি বোঝানো হয়? সব সংজ্ঞাকে পিছনে ফেলবেন রাজধানী ঢাকার এই নারী। নিজের বসার ঘরে গড়ে তুলেছেন ‘রংধনু অ্যাকাডেমি’ নামের ব্যক্তিক্রমী এক স্কুল। যেখানে ১-৫ বছর বয়সী শিশুদের শিক্ষা দেওয়া হয়। না, কোনো আক্ষরিক পড়াশোনা নয়। সৃজনশীলতাকেই জোর দেওয়া হয় এখানে। ছবি আঁকা, আবৃত্তি, নাচ আর বক্তৃতা। অবাক হচ্ছেন? অবাক হলেও এটাই সত্যিতে রুপান্তর করেছেন আঞ্জুমান আরা রুমা। মজার ব্যাপার হলো এসব শিশুরা জাতীয় পর্যায়ে প্রায় ২০০ পুরস্কার জিতেছে। আন্তর্জাতিক পুরস্কারও রয়েছে ৩০টি!  নিজের স্কুল নিয়ে এর প্রতিষ্ঠাতা বললেন, ‘২০১২ সালে আমি স্কুল শুরু করি। মূলত বাচ্চারা প্রতিনিয়ত প্রযুক্তির প্রতি আসক্ত হচ্ছে। সেখান থেকে ফিরিয়ে কিভাবে সৃজনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত করা যায় সেই ভাবনা থেকেই স্কুল করি। আমার কাছে মনে হয়েছে, এখন যদি এদেরকে ছবি আঁকা কিংবা আবৃত্তি শেখানো যায়, তাহলে একটা সময়ে গিয়ে তাদের ভাবনার জায়গাটা আরো বড় হবে।’ মাধ্যমিক পাস করার পরপরই বিয়ে হয়ে গেলেও পড়াশোনাটা ছাড়েননি রুমা। স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। পরিবারের কারণে চাকরি করা হয়নি। নিজে কিছু করার সেই আক্ষেপটা ছিলোই। কি করা যায়, এমন ভাবনা থেকেই স্কুল গড়েন নিজের বাড়িতে। জানা গেলো, সেখানে পড়াশোনা করছে প্রায় ৫০-৬০ জন শিশু।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন