বাজেটে কী পেল নারী
১৩ জুন, ২০১৬ ইং
বাজেটে কী পেল নারী
বাজার অর্থনীতিতে  নারীর যতটুকু অবদান সেগুলো তুলে ধরতে হবে এবং নারীর অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জেন্ডার বাজেটে বলা হচ্ছে, এর পণ্য বরাদ্দ আছে। কিন্তু নারী আসলে তা পাচ্ছে কিনা সেটা পর্যালোচনা করা হয় না

মোট তিন লাখ ৪০ হাজার

৬০৫ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেটে নারীর উন্নয়নে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৯২ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। যা মোট বাজেটের ২৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের বাজেটে আবারো ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য। সুবিধাবঞ্চিত নারী উদ্যোক্তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ ফান্ড গঠনের প্রস্তাবনাও রাখেন অর্থমন্ত্রী। জানাচ্ছেন মোহাম্মদ

ওমর ফারুক

এ বারের জেন্ডার বাজেটে উপস্থাপিত মোট ৪০টি মন্ত্রণালয় বা বিভাগকে তিনটি গুচ্ছে ভাগ করা হয়, নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, উত্পাদনক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শ্রমবাজার ও আয়বর্ধক কাজে নারীর অধিকতর অংশগ্রহণ এবং সরকারি সেবা প্রাপ্তিতে নারীর সুযোগ বৃদ্ধি। বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিবিএস-এর হিসেবে ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সময়ে শ্রমশক্তিতে নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে প্রায় ৪৭ লাখ নারী-পুরুষ। এ সময়ে নারী-পুরুষের মজুরি ব্যবধান কমেছে। তবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কর্মক্ষম জনশক্তির অংশগ্রহণের হার এখনও অনেক কম। বিশেষ করে, পুরুষের অংশগ্রহণের হার আশানুরূপ হলেও কর্মক্ষম নারীর অংশগ্রহণের হার তুলনামূলকভাবে কম। তিনি বলেন, বর্তমানে মাত্র ৩৪ দশমিক ১ শতাংশ নারী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত রয়েছেন। নারীদের অধিকতর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে প্রবৃদ্ধি অনেকখানি ত্বরান্বিত হবে। এক হিসেবে দেখা গেছে, আগামী পাঁচ বছরে নারীদের অংশগ্রহণ ১০ শতাংশ বাড়ান গেলে এ থেকেই বছরে অতিরিক্ত জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে প্রায় এক শতাংশ। ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে কর্মজীবী হোস্টেল নির্মাণ, নারী নির্যাতন প্রতিরোধে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন, সাতটি বিভাগীয় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডিএনএ পরীক্ষার জন্যে বিভাগীয় ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠার জন্যে কাজ করছে সরকার। এ ছাড়াও দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সমপ্রসারণের জন্য বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্র ঋণ ও অগ্রাধিকারভিত্তিক পল্লী ও কৃষিঋণ বিতরণ, ‘জয়িতা’র কার্যক্রম সমপ্রসারণের মতো উদ্যোগগুলো চলবে বলেও জানান তিনি।

ড. সায়মা হক বিদিশা

সহযোগী অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আগের তুলনায় নারীদের জন্য অনেক বাজেট বেড়েছে। সেটা নারীদের জন্য একটি সুখবর। কিন্তু বাজেটে তৃণমূল নারী উন্নয়ন জরুরি। সেই জন্য তাদের কাছে উদ্যোগগুলো পৌঁছে দেয়ার জন্য প্রয়োজন ভালো একটি ম্যানেজমেন্ট। অর্থমন্ত্রী নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা ঋণের ব্যবস্থা করেছেন। তাই চলতি অর্থবছরের মতো এবারও জাতীয় বাজেটে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ১০০ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ কাজে লাগিয়ে নারীদের আরো বেশি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করতে হবে। তবে নারী উদ্যোক্তাদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে, নারীদের জন্য দেশের সব জায়গায় ব্যবসা সহজ নয়। এ জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলাগুলোতে নিবন্ধন ফ্রি ও পাঁচ লাখ টাকার পণ্য ফি ছাড়া প্রবেশের সুযোগ দেওয়া দরকার। এ ছাড়া নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানকে রেয়াত দেওয়া, সিআইপি নির্ধারণে নারী উদ্যোক্তা কোটা রাখার মাধ্যমে নারীদের এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। শুধু বাজেট বরাদ্দ করলেই হবে না, সেটি ঠিকমত ব্যয় হচ্ছে কিনা বা অব্যবহূত থেকে যাচ্ছে কিনা, সেটি পরিবীক্ষণ করা জরুরি। বাজেটে নারীদের জন্য বরাদ্দ থাকছে। কিন্তু নারীর আর্থিক নিরাপত্তা কতটা বেড়েছে, তা নিয়ে এখনো যথেষ্ট প্রশ্ন আছে। স্বাধীনভাবে নারী সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কতটা পাচ্ছে তাও ভাবার বিষয়। কর্মক্ষেত্রে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নারী কতটা দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাচ্ছে, রাজনীতিতে ও প্রশাসনে ক্ষমতায়ন কতটা বেড়েছে তা হিসাব মিলিয়ে দেখার সময় এসেছে। প্রশাসনের উঁচু পদে নারীর সংখ্যা কত, আর নীচ পদে নারীর সংখ্যা কত?— তাও আজ ভাবতে হবে। তবে আমার মনে হয় কি   এবারের বাজেটে নারীদের জন্য নতুনত্ব কিছু বয়ে আনেনি। শুধু আগের                       বাজেট পরিমার্জন করে কিছু বাড়ানো হয়েছে।

ড. নাজনীন আহমেদ 

জ্যেষ্ঠ গবেষণা পরিচালক, (বিআইডিএস)

গত বছরও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বাজেট রাখা হয়েছিল এক’শ কোটি টাকা। এবারো তাই রাখা হয়েছে। এর মধ্যে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। আমার মনে হয় নারী উদ্যোক্তাদের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ বাজেট হয়নি চলতি বাজেটে। নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা বাড়ছে। তাই নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বর্তমানে বাজেটে যে বরাদ্দ রাখা হয়েছে, সেটি বাড়ান উচিত ছিল। একই সঙ্গে বরাদ্দের অর্থ কীভাবে এবং কাদের মাধ্যমে ব্যবহার হচ্ছে, সেটা রাখার দরকার ছিল। তবে চলতি বাজেটে নারীরা অনেক বরাদ্দ পেয়েছে। এতে আশা করি নারীরা খুশিই হবেন। তাছাড়া নারীদের শিক্ষাখাতের জন্য যা বরাদ্দ রাখা হয়েছে এতে মেয়েদের উপবৃত্তি থেকে শুরু করে শিক্ষায় দারুণ অবদান রাখবে। উন্নয়নে দর্শন থাকে এবং কৌশল থাকে এবং নারীর অর্থনৈতিক অবদান যেহেতু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাজার কেন্দ্রিক নয় কাজেই এর বাজারমূল্যও নেই। এই কারণে এখানে বাজার বিনিয়োগ করবে না বিনিয়োগ করতে হবে রাষ্ট্রকে। বাজার অর্থনীতিতে নারীর যতটুকু অবদান সেগুলো তুলে ধরতে হবে এবং নারীর অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জেন্ডার বাজেটে বলা হচ্ছে এর পণ্য বরাদ্দ আছে, কিন্তু নারী আসলে তা পাচ্ছে কিনা সেটা পর্যালোচনা করা হয় না। ৬% জিডিপি গ্রোথে যে বাংলাদেশ আটকে আছে তা ১% বাড়াতে হলে চাকরি ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। বিশ্বব্যাংকের একটি গবেষণায় এটা বলা হয়েছে। ২.৫ মিলিয়ন যদি প্রতিবছর মেয়েদের চাকরি বাজারে আনা হয় তাহলে ২০২১ সালের মধ্যে ছেলে-মেয়ের মধ্যে সমতা আসবে। প্রত্যেক নারী একজন উদ্যোক্তা, কাজেই উদ্যোক্তা হিসেবে নারীর অংশগ্রহণের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে এবং সুযোগ করে দিতে হবে।

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন