আমেরিকার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি
নীলাঞ্জনা বিশ্বাস১৩ জুন, ২০১৬ ইং
আমেরিকার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন প্রার্থিতা ঘোষণার পর অনেকেই ভেবেছিলেন এবার হয়তো প্রথম কোনো নারী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী পেতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। স্যান্ডার্স বাধা জয় করলেও এখন তার সামনে আসল পরীক্ষা। সেটা হলো রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিপক্ষে জিতে প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসাবে ইতিহাস রচনা করা।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের প্রথম বিতর্কে হিলারি ক্লিনটন বাজিমাত করা পর মানুষের মধ্যে এই ধারণাই বদ্ধমূল হচ্ছিলো যে, তিনিই হচ্ছেন ডেমোক্র্যাট দলের মনোনীত প্রার্থী। লাস ভেগাসের ঐ বিতর্কে সাহসী বক্তব্যের কারণে ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন সাবেক ফার্স্ট লেডি হিলারি। তখনো বোঝা যাচ্ছিলো না এতো সহজে জয়ের মালা পরা হবে না হিলারির। অনেকেই ভেবেছিলেন ভারমন্টের গভর্নর বার্নি স্যান্ডার্স হয়তো হিলারির কাছে পাত্তাই পাবেন না। কিন্তু দ্বিতীয় প্রাইমারিতেই হিলারিকে জবাব দেন বার্নি স্যান্ডার্স। এরপর একের পর এক প্রাইমারি আর ককাসে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে মনোনয়ন দৌড় চালিয়ে যান। মাঝে হিলারি ক্লিনটনের ইমেইল বিতর্ক নিয়ে জল ঘোলা করার চেষ্টা করেন স্যান্ডার্স। এছাড়া ইরাক যুদ্ধের পক্ষে হিলারির সমর্থন প্রকাশ ও লিবিয়া অভিযানের ক্ষেত্রে তার বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। হিলারি মার্কিন শ্রমিক স্বার্থবিরোধী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি সমর্থন করেন বলেও অভিযোগ করেন স্যান্ডার্স। যুক্তি এবং নিজের রাজনৈতিক কৌশল কাজে লাগিয়ে মাঝে বেশ কয়েকটি প্রাইমারিতেও টানা জয় পান স্যান্ডার্স। তবে শেষ পর্যন্ত স্যান্ডার্সকে পেছনে ফেলে ডেমোক্র্যাট দল থেকে মনোনয়ন লাভ করছেন হিলারি ক্লিনটন।

ডেমোক্র্যাট দল থেকে হিলারি ক্লিনটন এবং রিপাবলিকান পার্টি থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পর এখন এই দুই প্রার্থীর মধ্যে চলছে জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের জরিপ। চলতি সপ্তাহে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান দলীয় সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে জরিপে এগিয়ে আছেন হিলারি ক্লিনটন। শুক্রবার প্রকাশিত বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও জরিপ সংস্থা ইপসোস প্রকাশিত জরিপের ফলাফলে ট্রাম্পের চেয়ে ১১ পয়েন্ট এগিয়ে ছিলেন হিলারি। সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত অনলাইনের মাধ্যমে জরিপটি পরিচালিত হয়। এতে দেখা যায়, ৪৬ শতাংশ সম্ভাব্য ভোটার হিলারির পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন, অপরদিকে ট্রাম্পের পক্ষে ছিলেন ৩৪ দশমিক ৮ শতাংশ সম্ভাব্য ভোটার। ১৯ দশমিক ২ শতাংশ ভোটার দুজনের কাউকেই সমর্থন জানাননি। জরিপটিতে অংশ নিয়েছিলেন ১,২৭৬ জন।

নভেম্বরের নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটন নির্বাচিত হলে প্রথম বারের মতো একজন নারী প্রেসিডেন্ট পাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। নারী প্রেসিডেন্ট হিসাবে স্বাভাবিকভাবেই তার দৃষ্টিভঙ্গি পুরুষ প্রেসিডেন্টদের থেকে ভিন্ন হওয়াটাই স্বাভাবিক। এখন দেখার বিষয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ইতিহাস সৃষ্টি করতে পারেন কিনা?

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৩ জুন, ২০২১ ইং
ফজর৩:৪৩
যোহর১১:৫৯
আসর৪:৩৯
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:১১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পড়ুন