পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় হোক
সামিহা সুলতানা অনন্যা০৮ আগষ্ট, ২০১৬ ইং
পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় হোক
বর্তমানে তরুণদের জঙ্গিবাদী তত্পরতা ঘরে ঘরে অভিভাবকদের জন্য এক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সকলেই তার সন্তানকে নিয়ে চিন্তিত। ঢাকায় গুলশান ও শোলাকিয়ায় ভয়ঙ্কর হামলার পর সকলেই যেন এক শঙ্কায় আছে। বিস্ময়কর হলেও সত্য যে বিত্তবান পরিবারের সন্তানদের কেউ কেউ জঙ্গিপনার দিকে ঝুঁকছে। এর পেছনে কারণ এবং এক্ষেত্রে অভিভাবকদের করণীয় সম্পর্কে জানতে কথা হচ্ছিল দম্পতি কামরুজ্জামান ও সামিয়া সারোয়ারের সাথে।

কামরুজ্জামান বর্তমানে ঢাকার একটি বেসরকারি ব্যাংকে আছেন। তিনি বলেন, ধর্ম নিয়ে সঠিক শিক্ষার অভাবেই তরুণরা বিপথগামী হচ্ছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে তরুণদের মাঝে জঙ্গিবাদের এ প্রবণতার পেছনে একটি বড় কারণ নিঃসঙ্গতা। বিশেষভাবে বিত্তবান পরিবারের সন্তানদের বাবা-মা নানা কাজে অর্থ উপার্জনে ব্যস্ত থাকায় সন্তানদের সময় দেয়ার মত সুযোগ আর থাকে না। দোকান থেকে সব খেলনা কিনতে পারলেও তাদের সাথে খেলার সঙ্গী থাকে না।

শহরগুলোতে সন্তানদের খেলার জায়গাও নেই। তাই কম্পিউটার- মোবাইল এসব যন্ত্রই হয় তাদের সঙ্গী। সেখানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে নানা কুসঙ্গে পড়তে পারে। বাবা-মায়ের সাথে সন্তানের দূরত্ব তাদের বিপথগামী করতে আরও সাহায্য করে। তারুণ্যের স্বাভাবিক কিছু বৈশিষ্ট্য হচ্ছে দুঃসাহসিকতা, অভিযানপ্রিয়তা, নতুন আদর্শে সহজে অনুপ্রাণিত হওয়া, নতুন কিছু করা। তাই এই বয়সে নিঃসঙ্গতা এবং জীবনের প্রতি তিক্ততা থেকেই জঙ্গিপনায় সম্পৃক্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। তিনি বলেন, এখনই কর্মব্যস্ততার কারণে আমাদের ছেলেকে যথেষ্ট সময় দিতে পারি না।

এখন ও ক্লাস ফোরে পড়ে। তাই আমাদের মাঝের দূরত্ব কমাতে এবং ওর বন্ধু হতে ছুটির দিনে আমরা নানা জায়গায় বেড়াতে চলে যাই। এ প্রসঙ্গে তার মা সামিয়া সারোয়ারের কাছে জানতে চাই। তিনি বর্তমানে চক্ষু হাসপাতালে প্রশাসনিক দায়িত্বে আছেন। তিনি বলেন, পরিবারই প্রতিটি সন্তানের মানসিক বিকাশের প্রকৃত জায়গা। সন্তানকে বিপথগামী হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে পারিবারিক মূল্যবোধ ও সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা। আমাদের দেশে সুস্থ রাজনৈতিক চর্চা এখনো নেই, তাই তরুণদের কাছে কোনো সঠিক লক্ষ্য নেই। যা নিয়ে তারা সময় কাটাতে পারে।

এখন আমার ছেলে ছোট। তারপরও ওর একটা নিজস্ব জগত্ আছে। ও কার সাথে মিশছে, কার বাসায় যাচ্ছে, তা খেয়াল করার দায়িত্ব আমার ওপর। শুধু ওর বন্ধুদের না, তাদের পরিবারের সাথেও আমি মিশি, যেন প্রকৃতভাবে তাদের চিনতে পারি। আমার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ওর ভবিষ্যেক নিশ্চিত করবে। উচ্চবিত্ত পরিবারগুলোতে দেখা যায় সামাজিক বন্ধন অনেক কম। বাবা-মায়ের সাথে সন্তানদের বড় রকমের দূরত্ব তৈরি হয় যা সন্তানদের ভুল পথে পরিচালিত করে। এমনকি জঙ্গিপনার পেছনে কারণ হিসেবে কাজ করে। তাদের যে কোনো মতবাদ বোঝানো খুব সহজ হয়।

এ প্রসঙ্গে আলোচনা হচ্ছিল মনোবিশেষজ্ঞ মেখলা সরকারের সাথে। তিনি বলেন, আমরা একটা বিশেষ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। জঙ্গিপনায় সম্পৃক্ত হওয়ার ঝুঁকি আমাদের সমাজে রয়েছে। তরুণ সমাজের জন্য এ ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। শুধুমাত্র বিত্তবানের সন্তানেরাই যে জঙ্গিপনার দিকে বেশি ঝুঁকছে সেটি ভাবা ভুল হবে। ধনী, গরীব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত যে কেউ হতে পারে। এক্ষেত্রে শুধু পুরুষরা নয়, নারীরাও নানাভাবে সম্পৃক্ত। কিন্তু গরীবদের তুলনায় ধনী পরিবারের সন্তানদের ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ বেশি এবং ভাষাগত দূরত্ব কম বলে তাদের জঙ্গিপনায় সম্পৃক্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। সন্তান এ ধরনের কোনো সংগঠনের সাথে যুক্ত হচ্ছে কি-না তা বোঝার জন্য অভিভাবকদের বিশেষ সচেতন হতে হবে। হঠাত্ করে যদি দেখা যায় সন্তান চুপচাপ হয়ে গেছে। কারও সাথে মিশছে না তখন বুঝতে হবে যে তার মাঝে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে। এর মানে এই নয় যে সন্তান উগ্রবাদী হয়ে যাচ্ছে। তবে এমন আচরণের পেছনের কারণ বাবা-মাকে বুঝতে হবে। সব অভিভাবকের মনে রাখতে হবে এটি এক ধরনের নেশা। সন্তান প্রয়োজনে তার লক্ষ্যের জন্য জীবনও দিতে পারে। এসবের ভয়ে সন্তানকে ঘরে আবদ্ধ করে রাখলে পরিবেশের সামগ্রিকতার সাথে পরিচয়ের সুযোগ হবে না।

জীবনবোধ কম হবে এবং সমাজ সম্পর্কে সামগ্রিক ধারণার অভাব তৈরি হবে। যা তাকে ভুল পথে পরিচালিত করতে সাহায্য করবে। তাই নানা ধরনের সাংস্কৃতিক সংগঠন, দলগত খেলাধুলার সুযোগ করে দিয়ে নানা সংস্কৃতির মানুষের সাথে মেশার সুবিধা করে দিতে হবে। যা তার চিন্তার ক্ষমতা বাড়াবে। জীবনে সঠিক পথে চলার ক্ষমতা বাড়াবে।

টিনএজের এই সময়টা খুব তাত্পর্যপূর্ণ ও বৈচিত্র্যময়। এ সময় সন্তানরা বিশেষ মূল্যায়ন পেতে চায়। নতুন জিনিস জানতে চায়। তাদের চিন্তা ঠিক না ভুল, তা পরিবার থেকে মূল্যায়ন করতে হবে। নইলে তার চাহিদা অপূর্ণ থেকে যাবে এবং তা পূরণে অজানা পথে ছুটে যাবে। পরিবারে তার মতামতের গুরুত্ব প্রকাশ করতে হবে, কখনই ছোট করা যাবে না। তবেই সন্তানের নিজস্ব চিন্তার ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং কোন পথটি ভুল ও কোনটি ঠিক তা নিজেই নির্ধারণ করতে পারবে।

ছবি কৃতজ্ঞতা: ইফফাত ই ফারিয়া রঙ

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:০৯
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৪০
এশা৭:৫৯
সূর্যোদয় - ৫:৩১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৫
পড়ুন