নারী কৃষকের স্বীকৃতি নেই!
মহিলা অঙ্গন প্রতিবেদক০৮ আগষ্ট, ২০১৬ ইং
নারী কৃষকের স্বীকৃতি নেই!
মাঝবয়সী কিষানি রওশন আরা বেগম। বাড়ি কেরানীগঞ্জের চণ্ডীপুর। মাঠে চারার পরিচর্চা করছিলেন তিনি। নিজের বয়স অনুমানে বললেন ৫৫-৫৬ বছর হবে। ফুলকপি ক্ষেতের দক্ষিণের বাড়িটিই তার। প্রতি বছরই ঘরের পাশের এই ১২ শতক জমিতে সবজি চাষ করেন রওশন আরা।

বাকি সময় বর্গা ধান চাষ হয়। জমির মালিক তার স্বামী। সবজি উত্পাদন থেকে বিপণন পুরো কাজটি তিনিই করেন। তিন ছেলের কেউ হাত লাগায় না। শুধু মৌসুমের শুরুতে হাল দিয়ে জমি প্রস্তুতের কাজটি করে মজুরেরা।

কৃষক কার্ড পেয়েছেন কি-না? এ প্রশ্নে রওশন আরা অবাকই হন। সরকার সারাদেশে ২ কোটি ১০ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা নিলেও রওশন আরা এ শব্দটি জীবনে প্রথম শুনলেন। ১ কোটি ৩৯ লাখ কৃষক কার্ড পেলেও রওশন আরা জানালেন, কেউ তাকে কার্ডের কথা বলেনি। কৃষি বিভাগ যেমন নারী কৃষকের জন্য পৃথক প্রণোদনার ব্যবস্থা করেনি, নারীকে কৃষক ভাবেনি, তেমন ভাবনা রওশন আরারও। বললেন, ‘আমি তো গিরস্ত না। ঘরের লগে খালি জায়গা আছে, একটু সবজি চাষ করছি।’

শুধু রওশন আরা নন, বাংলাদেশের ১ কোটি ১০ লাখ নারী কৃষি কাজ করেও তারা কৃষক নন। ফসল উত্পাদনের প্রায় সব কাজ করেও তারা কৃষক নন। অন্নের জোগান দিয়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেও তাদের ব্যাপারে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি নেই। ভূমির মালিকানা নেই। ফসল উত্পাদনের ২১টি ধাপের ১৭টিতেই নারীর সরাসরি অংশগ্রহণ রয়েছে। এত কাজ করার পরও নারীর কাজকে কাজ হিসেবে গণ্য করা হয় না। কৃষি তথ্য সার্ভিসের উপ-পরিচালক (গণযোগাযোগ) কৃষিবিদ ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমের গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

‘গ্রামীণ জীবনযাত্রায় স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের জন্য প্রচারাভিযান’ প্রতিবেদনের তথ্যানুসারে, দেশে মোট নারী শ্রমশক্তির পরিমাণ ১ কোটি ৬২ লাখ। এর মধ্যে ৭৭ শতাংশ গ্রামীণ নারী। যার ৬৮ শতাংশ কৃষিকাজ যথা: পোলট্রি, বনায়ন, চাষাবাদ ও মত্স্য খাতের সঙ্গে জড়িত।    বিশ্বব্যাংকের ২০০৮ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৃষি খাতে নিয়োজিত পুরুষের চেয়ে নারীর অবদান ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ বেশি। এছাড়া কর্মক্ষম নারীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিয়োজিত কৃষি কাজে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা সংস্থার (বিআইডিএস) গবেষণায় বলা হয়েছে, গ্রামীণ ৪১ শতাংশ  নারী চাষাবাদের সঙ্গে জড়িত। ৪৮ শতাংশ মাছ চাষের সঙ্গে জড়িত।

১৯৯৫-৯৬ সালের শ্রম জরিপে নারী যে কৃষক এবং কৃষিকাজ করেন তা প্রথম বিবেচনা করা হয়। জরিপে গৃহপালিত পশু, হাঁস-মুরগির খামার, ধান ভানা, সিদ্ধ করা, শুকানো, ঝাড়া, প্রক্রিয়াজাতকরণ, খাদ্য সংরক্ষণ ইত্যাদি কাজকে অর্থনৈতিক কাজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এসব কাজ নারীই করেন। কিন্তু কৃষি উপকরণ, সার, বীজ, কৃষক কার্ড, ঋণ সুবিধা সবই পান কৃষক।

সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ ২০০৫-০৬ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৫ বছরের ওপরের জনশক্তির ৪৮ দশমিক ১ শতাংশ কৃষিতে নিয়োজিত। এ জরিপ অনুসারে, শ্রমশক্তির ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ পুরুষ এবং ৬৮ দশমিক ১ শতাংশ নারী সরাসরি কৃষির সঙ্গে যুক্ত। এর আগে গত এক দশকে কৃষি খাতে পুরুষ শ্রমিকের সংখ্যা কমেছে ১০ দশমিক ৪ শতাংশ। এই শূন্যস্থান পূরণ করেছেন নারী।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:০৯
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৪০
এশা৭:৫৯
সূর্যোদয় - ৫:৩১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৫
পড়ুন