ভালোবেসে পাশে এসে...
নুজহাতুল হাসান০৮ আগষ্ট, ২০১৬ ইং
ভালোবেসে পাশে এসে...
আর্থ ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ এখনো পরিপক্ব ও উন্নত নয়। শহর কিংবা গ্রামে এখনো অনেক মানুষ দারিদ্র্য সীমার নীচে বাস করে। দেশ এ সকল মানুষকে উপেক্ষা করে এগিয়ে যেতে পারে না। দারিদ্র্য সীমার নীচে বসবাসরত এ সকল মানুষ অনেক অসহায় ও মানবেতর জীবন-যাপন করছে। নাগরিকের অনেক মৌলিক অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত। নুন আনতে যাদের পান্তা ফুরায় সমাজের এ সকল মানুষ স্বাভাবিক ভাবে শিক্ষার আলো থেকে অনেক দূরে থাকে।

বঞ্চিত এ সকল মানুষদের নিয়ে সমাজে অনেক সংগঠন ও ব্যক্তি কাজ করছেন নিরলস ভাবে। মানুষকে ও দেশকে ভালবেসে অনেকেই এ সকল হতদরিদ্র মানুষের জীবন মান উন্নয়নে কাজ করছেন।

‘গর্ব বাংলাদেশ’ দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়নে কাজ করছে একদল যুবক। ২০১২ সালে নুহীন খাঁনের নেতৃত্বে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সংখ্যা অনেক তবে ‘গর্ব বাংলাদেশের’ কার্যক্রম ও কর্মকৌশল প্রসংশনীয়। ‘গর্ব বাংলাদেশ’ ৩টি প্রজেক্ট পরিচালনা করছে। প্রজেক্ট দলিত, প্রজেক্ট কম্বল ও প্রজেক্ট আলোকিত শিশু।

দলিতরা সমাজে অনেকক্ষেত্রেই বঞ্চিত ও অবহেলিত দেশের ৫.৫ মিলিয়ন দলিতদের জীবন মান উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে ‘গর্ব বাংলাদেশ’। দলিতদের শতকরা প্রায় ৯৬ জনই অক্ষর জ্ঞানহীন । দলিত শিশুদের ও প্রাপ্তবয়স্কদের শিক্ষার সুযোগ দিয়ে উন্নয়নশীল সমাজে তাদের অধিকার নিশ্চিত করা। নাটোরের সুইপার কলোনিতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেছে গর্ব বাংলাদেশ। সেখানে গত ৩ বছরে প্রায় ১০০ জন দলিত শিশু লেখাপড়া করছে ‘গর্ব বাংলাদেশ’ এর প্রতিষ্ঠিত স্কুলে। এছাড়া সেখানে স্বাস্থ্য ও পরিবেশের প্রকল্পের জন্য কাজ চলছে।

গর্ব বাংলাদেশের কার্যক্রমের অন্যতম একটি হল প্রজেক্ট কম্বল। এ প্রজেক্টের মাধ্যমে শীতের সময় শীতার্তদের জন্য কম্বল সংগ্রহ করা হয়। সারা দেশের প্রায় ৩৫টি জেলায় এই শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। শীতবস্ত্র বিতরণের জন্য প্রতিবছর দেশের খ্যাতিনামা শিল্পীদের নিয়ে কনসার্টের আয়োজন করা হয়। যেখানে শ্রোতারা কনসার্টের টিকিটের বদলে ১টি করে কম্বলের মাধ্যমে কনসার্টটি উপভোগ করেন এবং প্রাপ্ত কম্বল শীতার্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। গত দুই বছরে সারাদেশে প্রায় ২২ হাজার কম্বল ও ৪০০ শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

প্রজেক্ট আলোকিত শিশু, গর্ব বাংলাদেশের অন্যতম একটি প্রকল্প। ঢাকা শহরের বিভিন্ন পথশিশু, শ্রমজীবী শিশুদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার লক্ষ্যে এ প্রকল্পটি চালু হয়। এ প্রকল্পের মাধ্যমে এ সকল অধিকার বঞ্চিত শিশুদের অক্ষরজ্ঞান, স্বাস্থ্য সচেতনতা, সামাজিক রীতিনীতি, খেলাধুলা প্রভৃতি শেখানো হয়। ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরবরের বটতলায় পথ শিশুদের সপ্তাহে ছয় দিন বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত লেখা-পড়া করানো হয়। এছাড়া মুন্সিগঞ্জে যাযাবর বেদে সম্প্রদায়ের সন্তানদের লেখাপড়ার সুযোগ দিতে কাজ করছে সংগঠনটি। সেখানে একটি স্কুল নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে। মুন্সিগঞ্জে বেদে সম্প্রদায়ের প্রায় ৪৫ জন শিশুকে লেখাপড়া করায় প্রজেক্ট আলোকিত শিশু। প্রজেক্ট আলোকিত শিশুর পরিচালক মিথুন দাশ কাব্য জানান, সমাজের অবহেলিত এ শিশুদের অনেকেই অদম্য মেধাবী। সমাজে এ রকম অনেক মেধাবী শিশু ঝড়ে পড়ছে অবহেলায়। সমাজের শিক্ষিত বৃত্তবানেরা এগিয়ে আসলে ও সরকারের সহযোগিতা পেলে এ সকল মেধাবী শিশুদের ঝড়ে পড়া রোধ করা সম্ভব।

বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সমাজের এ সকল অধিকার বঞ্চিত মানুষদের বাদ দিয়ে সম্ভব নয়। শিক্ষার অভাবে যেমন এরা অন্ধকারে থেকে যায়, তেমনই কিছুটা অন্ধকারে থাকে দেশ। যুব সমাজ, বৃত্তবান ও সরকারের সহযোগিতায় এরাও হয়ে উঠতে পারে সমাজের অংশ। অশিক্ষা ও দরিদ্রতার কারণে সমাজের একশ্রেণির লোভী মানুষেরা নিজেদের স্বার্থে এ সকল দরিদ্র মানুষকে দিয়ে বেআইনি ও অনেক অসামাজিক কাজ করায়। এদেরকে যদি শিক্ষার আলোয় আলোকিত করা যায়, একটু ভালবাসা যায়, পাশে দাঁড়ানো যায়, তাহলে সমাজটা অনেক সুন্দর হবে এবং সে লক্ষ্যেই কাজ করছে গর্ব বাংলাদেশ।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:০৯
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৪০
এশা৭:৫৯
সূর্যোদয় - ৫:৩১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৫
পড়ুন