সাইকেল আমার সঙ্গী
মো. আল-আমিন১৪ নভেম্বর, ২০১৬ ইং
সাইকেল আমার সঙ্গী
ব্যস্তময় ঢাকা শহরে কোলাহলময় জীবন। যানজট নিয়ে নিত্য পথচলা। প্রতি মুহূর্তেই জ্যামে পড়ে গন্তব্যস্থলে দেরিতে পৌঁছানোর ঝুঁকি। তিলোত্তমা ঢাকায় ট্রাফিক জ্যাম একটি অপ্রিয় সাধারণ ঘটনা। এখানে পাঁচ মিনিটের রাস্তায় পনের মিনিট লাগাটাই স্বাভাবিক। লাইন ধরে বাসের অপেক্ষা। বাস পেলেও বাসে উঠার ঝুঁকি। কোনোমতে বাসে উঠতে পারলেও সিট না পাওয়ার বিরক্তি। অতঃপর অনেকটা বানরের মত ঝুলে বাসে চড়া। স্কুল, কলেজ, অফিস, আদালত সবখানেই লেট। সবশেষে বসের বেগ্র দৃষ্টি। নিত্য এসব ঘটনার সাথে পুরুষেরা তাদের নিজেদের খাপ খাওয়াতে পারলেও নারীরা পারে না। অনেক সময় তারা বাসে উঠতে পারে না। বাধ্য হয়ে তাদেরকে হেঁটে পথ চলতে হয়। এক্ষেত্রে সাইকেল একটি ভালো মাধ্যম হতে পারে। ঢাকা শহরের অনেক মেয়ে এখন সাইকেল চালিয়ে স্কুল, কলেজ, অফিস, আদালতে যান। আবার অনেকে বাজার করতে গেলেও সাইকেল চালিয়ে যান। এক্ষেত্রে যানজট পোহাবার ভয় থাকে না। সময়ও বাঁচে অনেক। সাথে সাথে শারীরিক ব্যায়ামও হয়ে যায়। নারী পুরুষ সমান বা তাদের অধিকার সমান বলা থাকলেও এর বাস্তবে রূপ নেই। এখনো বাসস্ট্যান্ডগুলোতে দাঁড়ালে দেখা যায় নারীরা কতটা অবহেলিত। প্রচণ্ড ভিড়ে বাসে মহিলা সিট খালি নেই বলে তাদেরকে বাসে নেওয়া হয় না। এতে তাদেরকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। নারীরাও এখন আর কোনো অংশে পিছিয়ে নেই। তারাও এখন সমানতালে পুরুষের মতো সাইকেল চালিয়ে বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করছেন। এতে টাকা খরচও কম হচ্ছে পাশাপাশি মনের আনন্দও মিটছে।

কাজী মোহসিনা

 

ছোটবেলা থেকেই আমার ঘুরাঘুরি করতে খুব ভালো লাগে। প্রকৃতির ছোঁয়া পেতে ইচ্ছে করে আমার। আমরা কোথাও ঘুরতে গেলে সচরাচর বাস কিংবা আমাদের প্রাইভেট গাড়িতে যাই। সেক্ষেত্রে প্রকৃতির কাছে আর যাওয়া হয়ে উঠে না। এক্ষেত্রে সাইকেল একটা বেশ ভালো মাধ্যম। আমি সাইকেল চালিয়ে অনেক জায়গায় ঘুরতে গিয়েছি। অনেক আনন্দ পাই যখন নদীর তীর দিয়ে কিংবা সবুজেঘেরা রাস্ত?ার পাশ দিয়ে সাইকেল চালাই। আমাদের একটা সাইক্লিস্ট গ্রুপ আছে। আমরা গ্রুপের সব সদস্য মিলে সপ্তাহের ছুটির দিনে বের হয়ে পড়ি। আমাদের দেশটা অনেক সুন্দর। ঘরে বসে দেশের সৌন্দর্যকে ঠিকমত উপভোগ করা যায় না। আমরা শুধু সাইকেলই চালাই না বরং সামাজিক কাজগুলো করে থাকি। আমরা বিভিন্ন গ্রামে যাই এবং তাদের মাঝে শীতের কাপড় বিতরণ করি। আমি আমার পরিবার থেকে সাইকেল চালানোর ব্যাপারে পুরোপুরি সমর্থন পেয়েছি। বিয়ের পর আমার স্বামীও আমাকে পুরোপুরি সমর্থন দিচ্ছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে আমরা দুজনই সাইকেল চালাতে বের হয়ে পড়ি।

রাহনুমা মমতাজ ভাবনা

 

ছোটবেলা থেকেই সাইকেল এর প্রতি আমার প্রচণ্ড আগ্রহ। বাসার সামনে বেশ  খোলা জায়গা ছিল। সেখানে আমি সাইকেল চালাতাম। এখন সাইকেল চালিয়ে আমি অফিসও করি। আমার আগের অফিস ছিল গুলশান আর আমার বাসা ছিল ফার্মগেট। অফিস থেকে বাসার দূরত্ব ছিল প্রায় ৭ কিলোমিটার। আমি যদি অফিস কিংবা বাসার গাড়ি ব্যবহার করতাম সেক্ষেত্রে আমার অফিসে পৌঁছতে পৌঁছতে সময় লাগতো প্রায় ১ ঘণ্টা। কখনো ১ ঘণ্টারও বেশি। কিন্তু আমি সাইকেল চালিয়ে অফিসে যেতাম। এক্ষেত্রে আমার সময় লাগতো মাত্র ৪০ মিনিট। আমি গড়ে প্রতিদিন প্রায় ২০-২৫ মিনিট সময় বাঁচাতে পারতাম। সাইকেল চালানোর মাধ্যমে মন ভালো থাকে আবার শারীরিক ব্যায়ামও হয়ে যায়। সাইকেল চালানোর সময় একটা ব্যাপার খুব পীড়া দেয়। আমরা যখন সাইকেল চালাই তখন দেখা যায় অনেক ছেলে অন্যরকম দৃষ্টিতে তাকায় বা কটূক্তি করার চেষ্টা করছে। এক্ষেত্রে ব্যাপারগুলো একটু হতাশার সৃষ্টি করে। আমি মনে করি, সবার মন-মানসিকতা পরিবর্তন হওয়া উচিত। ভাবা উচিত মেয়েরাও অন্য আট দশটা মানুষের মত স্বাভাবিক।

আতিয়া সেহজাদ রহমান সূচি

 

 ঢাকা শহরে প্রতিদিন আমার গড়ে প্রায় ৫০ কিলোমিটার রাস্তা সাইকেল চালানো হয়। আমার বাচ্চাকে স্কুলে নেওয়া আনাসহ যাবতীয় কাজকর্ম আমি সাইকেল চালিয়েই করি। ঢাকা শহরের যানজট একটা স্বাভাবিক ঘটনা। অনেক সময় গন্তব্যস্থলে সঠিক সময়ে পৌঁছানো যায় না। কিন্তু আমি সাইকেল ব্যবহার করি বলে আমাকে জ্যামে পড়তে হয় না। যেকোনো কাজ সময়মত করতে পারি। সাইকেল চালানোর অনেক উপকারিতা রয়েছে। এটা শুধু আমাদের সময় অপচয়ের হাত থেকে বাঁচায় না বরং আমাদের টাকাও বাঁচায়। আমি সচরাচর যেটুকু রাস্তা সাইকেল চালাই তাতে সিএনজি নিয়ে চলাফেরা করলে আমার প্রতিদিন প্রায় এক হাজার টাকা খরচ হতো। মাস শেষে ত্রিশ হাজার টাকা। কিন্তু আমি সাইকেল চালাই বলে আমার পুরো টাকাটাই বেঁচে যায়। সাইকেল শারীরিক ব্যায়ামের একটি অংশ। এটা একই সাথে আমার ফিটনেস ধরে রাখতে সাহায্য করে। ঢাকা শহরের প্রতিটা রাস্তায় সাইক্লিস্টদের জন্য আলাদা একটা লেনের ব্যবস্থা থাকলে খুব ভালো হবে। এক্ষেত্রে সাইকেল চালানোর রিস্ক কমে যাবে।

 

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ইং
ফজর৪:৫৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পড়ুন