অধিকার
দ্বীপের মেয়েরা উচ্চ শিক্ষা বঞ্চিত
মোহাম্মদ ওমর ফারুক১৪ নভেম্বর, ২০১৬ ইং
দ্বীপের মেয়েরা উচ্চ শিক্ষা বঞ্চিত
 

‘আজ থেকে সতেরো,আঠারো বছর আগেও এখানে মেয়েদের শিক্ষার ব্যাপারে এলাকার লোকজনদের ধারণা ছিল খুব খারাপ । তারা মনে করতো মেয়েরা শিক্ষা নিলে পাপ হয়, জাহান্নামে যেতে হয়। মেয়েদের কাজ শুধু সন্তান উত্পাদন আর স্বামীর সেবা করা। এখন ২০১৬ সালে এসে তো কিছুটা না মোটামুটি অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে। তারপরেও কিছু পরিবার এখনো আগের চিন্তা নিয়ে পড়ে আছে। নব্বই, বিরানব্বই এর কথা আমরা প্রত্যেকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে  ছেলে শিক্ষার্থীর পাশাপাশি মেয়ে শিক্ষার্থী চাইতাম। কোন পরিবার দিতে চাইতো না বরং আমাদেরকে যাচ্ছেতাই বলতো। এখন এর অনেক পরিবর্তন হয়েছে। নিজেরাই এসে ভর্তি করিয়ে দিচ্ছে। তবে এখানকার মেয়েরা মাধ্যমিকের পর আর গণ্ডি পার হতে পারে না। এর পরেই বসতে হয় বিয়ের পিড়িতে’ কথাগুলো বলছিলেন বিশ্বখ্যাত পর্যটন এলাকা টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের সেন্টমার্টিন স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক শাহ্জালাল সরকার। স্কুলটির নামের শেষে কলেজ শব্দটি থাকলেও প্রতিষ্ঠার ২৬ বছর পরেও কলেজের ছোঁয়া লাগেনি এখানে। সাত হাজার জনসংখ্যার এই দ্বীপটিতে মাত্র একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি মাধ্যমিক স্কুল দিয়ে চলছে সকল শিক্ষা কার্যক্রম। অথচ দেশের শেষ প্রান্তের এই দ্বীপটিতে নেই কোনো কলেজ। যদিও টেকনাফ উপজেলায় কলেজ রয়েছে কিন্তু যেখানে টেকনাফ থেকে পানি পথে যেতে প্রায় তিন  বা সাড়ে  তিন ঘণ্টার সময় লাগে। এই ক্ষেত্রে কিছু  ছেলেরা উচ্চ শিক্ষা নিতে পারলেও মেয়েদের অবস্থা একেবারেই শূন্যের কোঠায়। সর্বোচ্চ জেএসএসসি বা এসএসসি পর্যন্ত মেয়েদেরকে পড়ানো হয় এই দ্বীপে। এরপর করতে হয় স্বামীর ঘর। এই ব্যাপারে কথা হয় জিনজিরা সাবেক মেম্বার মোজাম্মেল হকের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমার নিজের মেয়েকেও এসএসসি পর্যন্ত পড়িয়েছি। তার পর আর পড়াতে পারিনি। এসএসসি পর্যন্ত পড়াতেই  আমার ঘাম ছুটে গেছে। আমাদের এখান থেকে টেকনাফের দূরত্ব প্রায় তিন, চার ঘণ্টা। তা ছাড়া টেকনাফ ভর্তি করাতে মন সায় দেয়নি। টেকনাফ জায়গাটা ভালো না। আর তা ছাড়া প্রতিদিন সাত আট ঘণ্টা সাগরেই থাকতে হয়। সবসময় দুচিন্তা ঘিরে রাখে। তাই সবকিছু বিবেচনা করে মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দিয়েছি। শুধু যে আমি তাই নয়, এখানকার সবাই একই কাজটি করে। কি করবো বলেন, আমরা তো  নিরউপায়। কিছু করার নেই। এসএসসি, জেএসসি পরীক্ষা পর্যন্ত অনেক মেয়ে দিতে পারে না। আর এখানে প্রধান উপার্জন হচ্ছে মাছ ধরা। বেশির ভাগ পরিবারই হচ্ছে আর্থিকভাবে অসচ্ছল। তারা জেএসসি, এসএসসি পর্যন্ত পড়াতে পারলেও বোর্ড পরীক্ষার যাতায়াত ব্যয়ভার বহন করা কঠিন হয়ে যায়। আর বেশিরভাগ পরিবারের সামর্থ্য নেই টেকনাফে রেখে পরীক্ষা দেয়ানোর।

এ ব্যাপারে টেকনাফ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা  সাইফুল আলম বলেন, সারা দেশের তুলনায় এখানকার শিক্ষার হার অনেক কম। আর মেয়ে শিক্ষার্থীতো পরের কথা। সরকার এ হার থেকে বের হয়ে আসতে অনেক চেষ্টা করছে। আমরাও নিরলসভাবে অনেক কাজ করছি। তবে বাল্যবিয়ের ব্যাপারে তিনি বলেন, এই ব্যাপারে আমি খুব স্ট্রিক। যেখানে বাল্যবিয়ের খবর পাওয়া যায় সেখানে রাত দুইটা হলেও আমি ছুটি যাই। আর সেন্টমার্টিনে পরীক্ষার কেন্দ্রের ব্যাপারটি দেখা যাক। অনেক জটিলতার কারণে কেন্দ্র দেওয়া যাচ্ছে না। আগামী বছর একটি সম্ভাবনা আছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক  আলী হোসেন বলেন, আমরা ইতোমধ্যে সেন্টমার্টিনসহ টেকনাফের  বিভিন্ন স্কুলে যাচ্ছি, অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলছি। এবং উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের বিভিন্ন স্কুলে পাঠাচ্ছি। আশা করি অতি শীঘ্রই আমরা এর ফল পাব।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ইং
ফজর৪:৫৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পড়ুন