মোবাইল ফোন ব্যবহারে পিছিয়ে নারীরা
১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
মোবাইল ফোন ব্যবহারে পিছিয়ে নারীরা
দক্ষিণ এশিয়ায় মোবাইল

ফোন আছে এমন ৮০ শতাংশ নারী কখনো এর মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন না, আর ৫৫ শতাংশ কখনো খুদে বার্তা পাঠান না

মুন্না রায়হান

ক্লাসে যখন থাকি তখন মোবাইল বন্ধ রাখি, বাকি সময় যোগাযোগের জন্য মোবাইল অন থাকে। মোবাইল যে শুধু আমার যোগাযোগের চাহিদা মেটায় তা কিন্তু নয়। নোট আদান-প্রদান, কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা, নতুন ছবি দেখা, ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিশ্বের সর্ব শেষ খবর   জানা— এমন নানাবিধ কাজে আমি মোবাইল ব্যবহার করি বলে জানান ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের  শিক্ষার্থী নূরে জান্নাত। একটি বেসরকারি ব্যাংকের      কর্মকর্তা সামিহা জানান, মোবাইলে যোগাযোগের বাইরে মেইল চেক করা, সংবাদপত্র পড়া, ফেসবুক ব্যবহারসহ    নানা রকমের কাজ করে থাকেন তিনি। আমাদের দেশের নারীরা আজ নানাভাবে প্রযুক্তির সাথে সখ্যতা                 করছেন।

এগিয়ে যাচ্ছে নারীরা। সৈনিক থেকে বৈমানিক, প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা— সর্বত্রই তাদের জয়জয়কার। কোনো বাধাই তাদের সামনে বাধা নয়। তারপরও কোথাও কোথাও এখনো পিছিয়ে রয়েছে নারীরা। প্রযুক্তির এই যুগে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে মোবাইল ফোন সবচেয়ে এগিয়ে। আর এখানেই পিছিয়ে রয়েছে তারা। শুধু বাংলাদেশে নয় বিদেশেও মোবাইল ফোন ব্যবহারে পিছিয়ে নারীরা।

মোবাইল ফোন অপারেটরদের বৈশ্বিক সংগঠন জিএসএমএর ‘মোবাইল ব্যবহার ও প্রাপ্তিতে মধ্যম নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে নারী-পুরুষ বৈষম্যের চিত্র’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে একক মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা সাড়ে ৮ কোটি। এর মধ্যে মাত্র ২৮ শতাংশ বা ১ কোটি ৯৬ লাখ ব্যবহারকারী হলেন নারী। এছাড়া বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে এখনো ৫৯ কোটি ৪০ লাখ নারীর মোবাইল ফোন নেই। আর দক্ষিণ এশিয়ায় পুরুষদের তুলনায় নারীরা ৩৪ শতাংশ কম মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন।

গত বছর মার্চে প্রকাশিত জিএসএমএর হিসাব মতে, বর্তমানে বিশ্বে ১৭০ কোটিরও বেশি নারীর মোবাইল ফোন নেই। এই হিসেবে সারা বিশ্বে মোট ৫৯ শতাংশ নারীর মোবাইল নেই। দক্ষিণ এশিয়ায় এই হার ৭২ শতাংশ। 

গবেষণায় বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় মোবাইল ফোন আছে এমন ৮০ শতাংশ নারী কখনো এর মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন না, আর ৫৫ শতাংশ কখনো খুদে বার্তা পাঠান না। শুধু জিএসএমএর গবেষণা প্রতিবেদনেই নয়, বিশ্ব ব্যাংকের ‘ডিজিটাল ডিভিডেন্ডস ২০১৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনেও মোবাইল ফোন ও প্রযুক্তি ব্যবহারে নারী-পুরুষের বৈষম্যের বিষয়টি উঠে এসেছে।

কিন্তু কেন নারীরা মোবাইল ফোন ব্যবহারে পুরুষদের চেয়ে পিছিয়ে? মূলত আর্থিক স্বাধীনতার অভাব, নিরাপত্তার অভাব ও হয়রানি, প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাব, ব্যক্তিগত তথ্য চুরির ভয় থেকেই মোবাইল ফোন ব্যবহারে নারীরা পিছিয়ে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া সামাজিক বিধিনিষেধের বিষয়ে তারা বেশি চিন্তিত থাকেন বলেও তুলে ধরা হয়েছে।

মোবাইল ফোন ব্যবহারে নারী-পুরুষের এই বৈষম্য কমাতে গবেষণা প্রতিবেদনে স্বল্প মূল্যে মোবাইল ফোন    প্রাপ্তি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত বিভিন্ন নীতিমালায় লিঙ্গবৈষম্যের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে তা কমিয়ে আনার কর্মকৌশল নির্ধারণ করতে নীতিনির্ধারকদের জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি হিসাবে, বাংলাদেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১২ কোটি ৭ লাখ। চালু থাকা সক্রিয় মোবাইল ফোন সংযোগের ভিত্তিতে এই সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়। আর জিএসএমএর হিসাবে দেশে একক মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৮ কোটি ৫০ লাখ।

উল্লেখ্য, একজন ব্যক্তির একাধিক সিম কার্ড থাকলেও একক ব্যবহারকারী হিসাব করতে একটি সিম কার্ডকেই বিবেচনায় নেওয়া হয়। এই পদ্ধতিতে হিসাব করেই জিএসএমএ সারা বিশ্বে একক মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা নির্ধারণ করে।

এদিকে চলতি বছরের মার্চে প্রকাশিত জিএসএমএ-এর ‘মোবাইল ইকোনমি ২০১৭’ শীর্ষক আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সাল পর্যন্ত সারা বিশ্বে একক মোবাইল          ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮০ কোটি। জিএসএমএর হিসাবে ২০২০ সালে এই সংখ্যা হবে ৫৭০ কোটি। একক মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর হিসাবে            দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশীদের তুলনায় এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর গড় একক মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫০ শতাংশ। বাংলাদেশে এটি এখন ৫৩ শতাংশ, আর ভারতে ৪৮ শতাংশ। তবে দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশীদের তুলনায় বাংলাদেশ শুধু এগিয়ে থাকলেই হবে না দেশে পুরুষদের তুলনায় নারীরা মোবাইল ফোন ব্যবহারে কত তাড়াতাড়ি সমানতালে এগিয়ে যান  সেটাই দেখার বিষয়!

 

 

 

 

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৪:২৭
যোহর১১:৫৬
আসর৪:২৩
মাগরিব৬:১০
এশা৭:২৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০৫
পড়ুন