হূমায়ুন ভক্ত রীতি
মহিলা অঙ্গন প্রতিবেদক১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
হূমায়ুন ভক্ত রীতি
মাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন, অথচ এর মধ্যেই হূমায়ুন আহমেদের সব বই তার মুখস্থ। খানিকটা খটকা লাগলেও ব্যাপারটা আসলেও তাই। তাও আবার, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীর এমন কৃতিত্ব। ধীরে ধীরে বইবিমুখ হতে যাওয়া প্রজন্মের কাছে এমন গল্পটা সত্যিই অসাধারণ। আর মাত্র ২২ বছর বয়সেই হূমায়ুন আহমেদের সব বই পড়ে ফেলেছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাহিমা আফরিন রীতি। সেখানকার ‘ফার্মেসি’ বিভাগে পড়ুয়া রীতির গুন এখানেই শেষ নয়। তিনি নিজেই গাড়িও চালাতে পারেন। তাও শিখে ফেলেছেন কলেজে পড়াকালীন সময়েই। এতগুলো বইপড়া, নারী হয়েও গাড়ি চালানোতে দক্ষতা এসব নানা বিষয়ে বর্ষার এক বিকেলে কথা হয় ফাহিমা আফরিন রীতির সাথে। সেই কথোপকথনে উঠে আসে তার হূমায়ুন প্রীতির কথা। সত্যিই, সবগুলো বই পড়েছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে সহজ উত্তর, আপনি চাইলে পরীক্ষা নিতে পারেন।

ছোটবেলা থেকে বই পড়ার অভ্যাস রীতির। তবে, অন্য বই পড়তে পড়তেই হূমায়ুন আহমেদের বইয়ের প্রতি ঝোঁক বাড়ে। শেষমেষ গিয়ে তা অবশ্য রোগে গিয়ে ঠেকে। হূমায়ুন আহমেদের নতুন বই মানেই রীতির সেটা লাগবেই। হূমায়ুনের নতুন কোনো বই বের হলে, সেটা যেন সবার আগে সংগ্রহ করা চাই-ই চাই। না হলে যেন জীবনটাই বৃথা হয়ে যাবে, ভাবখানা এমন। হূমায়ুনের কোন বই বেশি ভালো লেগেছে এমন প্রশ্নের জবাবে রীতির উত্তর ‘বাদশাহ নামদার’। ইতিহাসকে সহজ-সাবলীলভাবে তুলে ধরা হয়েছে এই উপন্যাসে। যে কারো পড়েই ভালো লাগতে বাধ্য। অথচ দেখুন এমন সব ইতিহাসই ছোটবেলা থেকে আমাদের পড়ানো হতো। তবে, কেমন যেন কাটখোট্টা লাগতো। অথচ দেখুন, লেখক হূমায়ুন আহমেদ তার লেখনী জাদুতে সেই ইতিহাসকেই কত সহজ করে দিয়েছেন। কিন্তু এই ইতিহাস মুখস্থ কিংবা মনে রাখতে কত কাঠখড়ই না ছেলে-মেয়েদের পোহাতে হয়েছে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে লেখা ‘জোছনা ও জননীর গল্প’ উপন্যাসটাও বেশ ভালো লাগে রীতির। সময়-সুযোগ পেলেই মুক্তিযুদ্ধের কথা স্মরণ করতে বইটার দ্বারস্থ হন রীতি। জানান, এই প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের মুক্তিযুদ্ধকে জানতে গেলে জোছনা ও জননীর গল্প পড়া উচিত। আর আয়নাঘর বইটাও বেশ প্রিয় রীতির। এই তো গেল, হূমায়ুনের বই নিয়ে ভাবনার কথা। এর বাইরেও তো গল্প আছে।

ধানমন্ডিতে, হূমায়ুন আহমেদের বাড়ি ‘দখিনা হাওয়া’র সামনে দিয়ে নানা সময় যেতেন রীতি। ভাবতেন, এই বুঝি তার প্রিয় লেখকের সাথে দেখা হয়ে যাবে। কিন্তু বিধি তো বাম, সেই সৌভাগ্য রীতির কখনো হয়নি। তবে, তাতে কি প্রিয় লেখককে দূর থেকে ভালোবাসারও একটা আনন্দ আছে। আছে সৌন্দর্যও। রীতি মনে করেন, লেখকও দূর থেকে তার পাঠককে দেখেন, হয়তো তাদের অন্তরালে কথাও হয়। এই তো গেল পাঠক রীতি কথা, এর বাইরেও রীতির গল্প আছে। গাড়ি চালনাতেও বেশ পারদর্শী ফাহিমা আফরিন রীতি। নাগরিক জীবনে প্রতিটা নারীকেই এই বিষয়ে অভিজ্ঞতা থাকা উচিত বলে মনে করেন তিনি। বলেন, এটা আমাদের এক ধরনের মানসিক শক্তি যোগায়। ধরুন, আপনি গাড়ির পেছনে বসেই যাচ্ছেন আর আপনি চালাচ্ছেন দুইটা বিষয়ই কিন্তু আলাদা। এক জায়গায় আপনি স্বাধীন, আরেক জায়গায় পরাধীন, এই হলো পার্থক্য।

ফাহিমা আফরিন রীতির বাবা আনোয়ার আক্তার পেশায় ব্যবসায়ী আর মা আনজুমান আরা বেগম বাংলাদেশ আনবিক শক্তি কমিশনে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা। বইপড়া, গাড়ি চালানোর পাশাপাশি অবসরে গান শোনের রীতি। ভ্রমণ-ঘোরাঘুরি তার পছন্দের কাজ। ভালোবাসেন ছবি তুলতেও। তাই সময় পেলেই বেরিয়ে পড়েন ছবি তুলতে। তবে একেবারে প্রচলিত জায়গাগুলোর চেয়ে প্রাকৃতিক আর কম জনাকীর্ণ স্থানের প্রতি আগ্রহ বেশি রীতির। বৃষ্টির দিনে ভেজাটাও তার একটা শখ। বান্দরবান, সিলেট আর সেন্টমার্টিন দেশের ভেতরে তার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা। বারবার যেতে চান এসব জায়গায়। আর হূমায়ুন আহমেদের সব বই পড়ে ফেলার মতো করে দেশের প্রতিটা জেলাও একদিন ঘুরে দেখার ইচ্ছে রীতির। সেই ইচ্ছেগুলো বাস্তবে রূপ দিতেই এখন রীতির পথচলা...।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৪:২৭
যোহর১১:৫৬
আসর৪:২৩
মাগরিব৬:১০
এশা৭:২৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০৫
পড়ুন