ফ্যাশনের প্রতি ভালোবাসা
০৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ইং
ফ্যাশনের প্রতি ভালোবাসা
  আয়েশা আলম প্রান্তি

 

তার জন্ম হয়েছে ফ্যাশনের জগতে। ফলে তিনি যে ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে কিছু করবেন তা যেন আগে থেকেই ঠিক হয়ে ছিল।  মা, দেশসেরা ফ্যাশন হাউজ ‘নাবিলা’র প্রধান ডিজাইনার ও সিইও  শামীমা নবী। ফলে, নাবিলা বেড়ে ওঠা নতুন নতুন ডিজাইন, নতুন নতুন পোশাক তৈরি হওয়া দেখে দেখেই। 

জন্মগতভাবে ফ্যাশনের প্রতি তার যে আত্মীয়তা, তা আরও বেড়ে ওঠে নিজের মায়ের সাথে থেকে। নাবিলা জানালেন, ‘আমি নিজেকে খুবই ভাগ্যবান মনে করি কারণ আমি একটি উদ্যোক্তা পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছি। বাবা এবং মায়ের কাজের ধরন, কাজের প্রতি তাদের কমিটমেন্ট এবং কঠোর পরিশ্রম এবং একাগ্রতার সাথে তাদের এগিয়ে চলা আমাকে অনেক তরুণ বয়স থেকেই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অনুপ্রাণীত করেছে। আমি যখন বড় হচ্ছি তখন আমি মায়ের অসাধারণ ডিজাইনের কাজগুলো দেখেছি এবং সাধারণ একটি কাপড় থেকে একটি অসাধারণ ডিজাইনে পরিণত হওয়ার যে প্রক্রিয়া আমাকে মুগ্ধ করে তুলতো সবসময় এবং ফ্যাশন জগতের প্রতি মুগ্ধতা প্রতিনিয়ত বাড়িয়ে তুলতো। আমি ভাগ্যবতী যে আমি এই ইন্ডাস্ট্রি বিষয়ক সকল শিক্ষা হাতে-কলমে শিখতে পেরেছি। ‘নাবিলা ফ্যাশন হাউজ’-এর আয়োজনে বিভিন্ন ফ্যাশন শোর আয়োজন থেকে শুরু করে বাসার বা পরিবারের কারো কাপড় তৈরি করা আমি যেমন দেখেছি তেমনি দেশে ও দেশের বাইরের গ্রাম ও শহরাঞ্চলে যারা পোশাক তৈরির অমূল্য কাজে সরাসরি যুক্ত আছে তাদেরকে অনেক কাছ থেকে দেখেছি।’

ছোটবেলার বাংলাদেশের ফ্যাশনের প্রতি তার যে প্যাশন তৈরি হয়েছিল তা বড় হয়ে নিজের ক্যারিয়ারে রুপ নেবে তা নিজেও হয়তো ভাবেননি নাবিলা নবী। তবে নিজের ভবিষ্যত্ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় অনড় ছিলেন। ‘নাবিলা ফ্যাশন হাউজ’কে আরও ভালো পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া, আন্তর্জাতিকমানে পোশাক তৈরি করার জন্য কাজ করা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন নাবিলা। কিন্তু ঠিক করেন, পারিবারিক ব্যবসা ও ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির সাথে যুক্ত হওয়ার আগে তাকে এই কাজের জন্য যোগ্য হতে হবে।

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে থেকেছেন এবং আমরা সবাই জানি এটি অস্ট্রেলিয়ার ফ্যাশন ক্যাপিটাল হিসেবে পরিচিত। ফলে আন্তর্জাতিক ফ্যাশন নিয়ে নানামুখী জ্ঞান অর্জন করতে চাইছিলেন এবং এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার জন্য সারা পৃথিবীর ফ্যাশন সম্পর্কে শিক্ষিত হতে চাইছিলেন নাবিলা। কিন্তু নানা পড়াশোনা ও গবেষণা করে দেখলেন ভারতীয় উপমহাদেশ, বিশেষ করে বাংলাদেশের তৈরি করা পোশাক সারা বিশ্বের মানুষজন পরছে এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী জামদানি, মসলিন সারা পৃথিবীতে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। ফলে অনেক চিন্তা-ভাবনা করে অস্ট্রেলিয়াতেই ভারতীয় উপমহাদেশ, বিশেষ করে বাংলাদেশের ফ্যাশন ও সংস্কৃতি নিয়ে পিএইচডি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন তিনি।

পিএইচডি করার পাশাপাশি একজন সত্যিকারের ফ্যাশন ডিজাইনার হওয়ার জন্য যে যে দক্ষতা অর্জন করা প্রয়োজন তা তিনি করতে শুরু করেন। নাবিলা এ বিষয়ে বলেন, ‘প্যাটার্ন মেকিং থেকে সুইং, ড্রাপিং থেকে মোউলেজ-প্রতিটি বিষয় আমি শেখার চেষ্টা করতে থাকি। অনেক বছর ফ্যাশন নিয়ে কাজ করে এবং ফ্যাশন বিষয়ক শিক্ষা অর্জন করার পরেই মূলত আমি আমার নিজের ডিজাইনের কাজ শুরু করি। হেরিটেজ হ্যান্ডলুম দিয়ে আন্তর্জাতিকমানের আধুনিক পোশাক তৈরি করার চেষ্টা করছি আমি, যা ২০১৮ সালের জানুয়ারির শেষ সময়ে নাবিলা’র নতুন ফ্ল্যাগশীপ স্টোরে পাওয়া যাবে।’

২০১৭ চলে গিয়েছে এবং ২০১৮ চলে এসেছে। নতুন বছরে নানা প্লান ও পরিকল্পনা করছেন নাবিলা। ২০১৭ সালেই মূলত ডিজাইনার হিসেবে কাজ শুরু এবং একই সাথে বিবাহিত জীবনও শুরু।  ফলে ২০১৭ সালটি একটি স্মরণীয় বছর ছিল। তবে নাবিলা প্রত্যাশা করেন ২০১৮ সালে নতুন নতুন কিছু উদ্যোগ নিয়ে হাজির হতে পারবেন এবং এই বছরটি হবে আরও বেশি আনন্দের এবং সফলতার।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ইং
ফজর৫:২০
যোহর১২:১৩
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫১
এশা৭:০৫
সূর্যোদয় - ৬:৩৭সূর্যাস্ত - ০৫:৪৬
পড়ুন