‘একজন ভালো মানুষ হতে চেয়েছি’
০৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ইং
‘একজন ভালো মানুষ হতে চেয়েছি’

ছোটবেলা জীবনের লক্ষ্য নিয়ে রচনা লিখতে গিয়ে একেক রকম লিখতাম। তবে বাবা, মা, পরিবার

সবার কাছ থেকে যে বিষয়টা আমি বুঝতে চেয়েছি সেটা হচ্ছে-আমি একজন ভালো মানুষ হতে চেয়েছি। দিন

শেষে ভালো মানুষ না হলে কিন্তু নিজের কাছেই প্রশ্ন থেকে যায়

  মোহাম্মদ ওমর ফারুক

 

‘নারী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে আমি হয়তো সেইভাবে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হইনি। কিন্তু আমাকে দিয়ে তো আসলে     সমাজের সব নারীর বিচার করলে চলবে না। কারণ আমি আমার জায়গা থেকে সবার সহযোগিতা পেয়েছি। আমার সহকর্মী ও আমার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে দারুণ সহযোগিতা পেয়েছি এবং পাচ্ছি। আমার চিত্র আর আট-দশটি নারীর চিত্র এক না।’ বলছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. নাজমা বেগম। অর্থনীতি বিভাগ চালু হওয়ার ৯৬ বছরের ইতিহাসে তিনিই প্রথম  নারী চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, হয়তো আমি ভালো একটি পরিবেশ পেয়েছি।   কিন্তু সবাই তো সেটা পায় না। তবে একজন নারীকে জানতে হবে কিভাবে এসব প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করতে হয়। কেউ কিন্তু কারো প্রতিবন্ধকতা সমাধান করে দেয় না,  নিজেরটা নিজেকেই করতে  হবে। কেউ কারো অধিকার দেয় না, নিজেকেই জায়গা করে নিতে হবে।

যশোরের সন্তান নাজমা বেগম শৈশব-কৈশর কাটিয়েছেন মফস্বল শহরে। ছোটবেলা মাধ্যমিক পর্যন্ত কেটেছে সেখানেই। মাধ্যমিকের পর সোজা ঢাকায়। উচ্চমাধ্যমিক কেটেছে ইডেন কলেজে। তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। হাসির ছলে জানালেন, পড়াশোনায় বেশ ফাঁকিবাজ ছিলেন তিনি। কিন্তু একাডেমিক ফলাফল আর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার দেখে কিন্তু তা মনে হয় না। নিজের স্বপ্ন নিয়ে তিনি বলেন, সবাই জানতে চাই- স্বপ্ন কী ছিল?

‘সত্যি বলতে কি আমার সেইরকম কোনো স্বপ্ন ছিল না।         আমার কোনো ক্যারিয়ার পরিকল্পনাও ছিল না। ছোটবেলা      জীবনের লক্ষ্য নিয়ে রচনা লিখতে গিয়ে একেক রকম লিখতাম’।  তবে বাবা, মা, পরিবার সবার কাছ থেকে যে বিষয়টা আমি             বুঝতে চেয়েছি সেটা হচ্ছে-আমি একজন ভালো মানুষ হতে   চেয়েছি। দিন শেষে ভালো মানুষ না হলে কিন্তু নিজের কাছেই প্রশ্ন থেকে যায়।

পড়াশোনা নিয়ে আবার জানতে চাওয়া। তিনি বলেন, প্রথম               পড়াশোনার হাতেখড়ি আমার বোনের কাছে। পড়াশোনা নিয়ে   কখনো বাড়তি চাপ মনে করেনি। আমার কাছে মনে হয়েছে, পড়াশোনা নিয়ে বেশ ফাঁকিবাজি করেছি। তবে কখনো ক্লাসে দ্বিতীয় হইনি। সেই অর্থে যেভাবে পড়াশোনা করা দরকার সেইভাবে পড়াশোনাও করেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আমার ইচ্ছে ছিল বাংলায় পড়ার। তখন তো অনেক বিষয়ে আলাদা করে পরীক্ষা দেওয়া যেত। আমি অনেকগুলো বিষয়ে পরীক্ষা দিয়েছি এবং সবগুলোতেই টিকেছিলাম।

বাংলায় পড়ার ইচ্ছে ছিল কারণ, তখন ভাবতাম গল্প, উপন্যাস পড়তে পারব এই ভেবে। ওই বয়সে যেমনটা মনে হওয়ার কথা আরকি। তবে আমাদের সময় অনেকটা পরিবারের মতামতকেই প্রাধান্য দিতাম সেই রেশ ধরেই অর্থনীতিতে পড়তে আসা।

জীবন নিয়ে তার ইচ্ছা, ‘আমি পারলে আবারো ছোটবেলায় চলে যেতাম। ছোটবেলা আমার কাছে সবচেয়ে সুন্দর সময়। স্কুল জীবনটা সবচেয়ে বেশি উপভোগ করেছি। তখন কোনো দায়দায়িত্ব ছিল না। খেলাধুলা, আনন্দের মধ্য দিয়ে স্কুল জীবন কেটেছে’।

শিক্ষকতায় আসার গল্পটাও কিন্তু একটু ভিন্নরকম। পড়াশোনা শেষ করেই প্ল্যানিং কমিশনে চাকরি হয়। সেখানে কয়েকদিন কাজ করার পর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয়। তিনি বলেন, মাধ্যমিকে যশোর বোর্ডে ছেলে-মেয়ের মধ্যে প্রথম হয়েছিলাম। কলেজে এসেও দেখলাম ভালো রেজাল্ট হলো। বিশ্ববিদ্যালয় একই রকম। বিশ্ববিদ্যালয় রেজাল্ট হওয়ার আগ পর্যন্ত কখনো ভাবিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হব। অনার্স মাস্টার্স শেষ করে ইউনিভার্সিটি অব ফিলিপিনসে পিএইচডি করেছি। জীবনে এই জায়গায় এসে যেটা ভাবছি, আমার কাছে আমি যেন কখনো প্রশ্নবোধক হয়ে না যাই। নিজের কাছে নিজে সত্ থাকাটা খুব জরুরি।’

শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি বইও লিখছেন। নারীদের নিয়ে এবং এর বাইরেও আছে তার বেশ কয়েকটি বই। নিয়মিত পত্রিকায় লেখালেখি করছেন নানান বিষয়ে। যখন অবসর মিলে তখনই চর্চা করেন লেখালেখির। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আপনার সম্পর্কটা কেমন? তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা আমার কাছে সবচেয়ে ভালো। তাদের সঙ্গে যত সময় ধরে থাকতে পারি তাই আমার কাছে ভালো লাগে। আপডেট থাকতে পারি। যারা তরুণদের নিয়ে কাজ করে তাদের কখনো জেনারেশন গ্যাপ হয় না। আমারও হয়নি। আমি সবসময় নিজেকে তরুণ মনে করি। আর তাছাড়া শিক্ষার্থীরাও আমাদের আপন করে নেয়।

 

ছবি:আবুল বাশার

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ইং
ফজর৫:২০
যোহর১২:১৩
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫১
এশা৭:০৫
সূর্যোদয় - ৬:৩৭সূর্যাস্ত - ০৫:৪৬
পড়ুন