স্মৃতিজুড়ে প্রাণের স্পন্দন
০৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ইং
স্মৃতিজুড়ে প্রাণের স্পন্দন
  মীর আনোয়ার হোসেন টুটুল

 

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে প্রয়াত দানবীর রনদা প্রসাদ সাহার প্রতিষ্ঠিত নারী শিক্ষা ও নারী  জাগরণের অন্যতম বিদ্যাপিঠ ভারতেশ্বরী হোমসে তৃতীয় পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান ছিল প্রাক্তন ছাত্রীদের পদচারণায় এক উত্সব মুখর মিলন মেলা। ছাত্রীদের পদচারণায় পুরো ক্যাম্পাস ছিল মুখরিত। প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্রীদের প্রাণের স্পন্দনে পুরো ক্যাম্পাস ছিল এক অন্য রকম পরিবেশ। পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে কুমুদিনী কমপ্লেক্স ও ভারতেশ্বরী হোমসের সবুজ চত্বরসহ ছাত্রীদের আবাসিক ভবনগুলো বর্ণিল নানা সাজে সজ্জিত করা হয়েছিল। কুমুদিনী কমপ্লেক্স ও ভারতেশ্বরী হোমসের সবুজ চত্বরে গিয়ে দেখা গেছে প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্রীদের এক মিলন মেলা। তৃতীয় পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এবারের প্রতিপাদ্য ছিল কথা আর গানে সুরে সুরে, মোরা মিলাইব স্বর, সেই সুরেতে স্মন্দিত হোক আলোক অন্ধকার। জীবন নামের আঙ্গিনাতে, মিলেছি মোরা আজি প্রাতে, স্মৃতির নুতন গন্ধ নিয়ে নতুন করে নতুন প্রাতে।

গত ২৯ ডিসেম্বর ভারতেশ্বরী হোমসের সবুজ চত্বরে জাতীয় পতাকা, ভারতেশ্বরী হোমসের পতাকা ও কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্টের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি ও ভারতেশ্বরী হোমসের সাবেক অধ্যক্ষ ভাষা সৈনিক এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রতিভা মুত্সুদ্দি। কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত দানবীর রনদা প্রসাদ সাহা, তার পুত্র ভবানী প্রসাদ সাহা রবি, কন্যা জয়া ও বিজয়া, জামাতা ব্যারিস্টার শওকত হোসেন খান এবং বিষনুপদ পতিসহ এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত যারা প্রয়াত হয়েছেন তাদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। বেলা এগারটায় শুরু হয় আগত অতিথি, প্রাক্তন এবং বর্তমান ছাত্রীদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য এক আনন্দ র্যালি। র্যালিটি হোমসের সবুজ চত্বর থেকে বের হয়ে কুমুদিনী কমপ্লেক্স ঘুরে আবার ভারতেশ্বরী হোমসের সবুজ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। বেলা সারে এগারটা থেকে শুরু হয় স্মৃতি চারণ, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে প্রাক্তন ছাত্রী রাফিয়া, মরিয়ম, খালেদা ও শিমু বলেন, দীর্ঘদিন পর আজ আমরা আমাদের নিজ ক্যাম্পাসে ফিরে এসে প্রাণের নতুন ম্পন্দন ফিরে পেয়েছি। আজ আমাদের আনন্দ ও অনুভূতির কথা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না। মনে আমরা সেই শৈশব ফিরে পেয়েছি। তাদের মত অনেকেই একই বক্তব্য দেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রাক্তন ছাত্রী ছাড়াও কলকাতা, আমেরিকা, লন্ডন, সৌদিসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রাক্তন ছাত্রী ও তাদের পরিবার পরিজন তৃতীয় পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এসেছিলেন।

১৯৯৬ ব্যাচের ছাত্রী মিতালী দাস ও সিনিয়র শিক্ষিকা কবি ও সাহিত্যিক হেনা সুলতার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি প্রতিভা মুত্সুদ্দি বলেন, কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গল (বিডি) লি. ও ভারতেশ্বরী হোমস সকলের প্রতিষ্ঠান। ১৯৪৫ সালে দানবীর রনদা প্রসাদ সাহা নারীদের অন্ধকার থেকে আলোর পথে ধাবিত করার জন্যই এই ভারতেশ্বরী হোমস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ভারতেশ্বরী হোমসের পাশাপাশি তিনি কুমুদিনী হাসপাতাল, কুমুদিনী উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ, নার্সিং স্কুল এন্ড কলেজ, টাঙ্গাইল কুমুদিনী কলেজ, মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র কলেজসহ আরো অনেক সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান করে গেছেন। ভারতেশ্বরী হোমস থেকে শিক্ষা নিয়ে আলোর দিশারী সেই নারীরা আজ বাংলাদেশসহ বিদেশের মাটিতে গিয়েও তাদের জ্ঞানের আলো বিতরণ করে চলেছে। তিনি আরো বলেন, ভারতেশ্বরী হোমস প্রতিষ্ঠার পর ২০০৬ সালে প্রথম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান, ২০১১ সালে দ্বিতীয় পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান এবং ২০১৭ সালে তৃতীয় পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান হচ্ছে। আগামী ২০২১ সালে চতুর্থ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান ও ৭৫ বছর পূর্তি   উপলক্ষে আরো জাঁকজমক অনুষ্ঠান পালন করা হবে বলে তিনি সবার সহযোগিতা চেয়েছেন।

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ইং
ফজর৫:২০
যোহর১২:১৩
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫১
এশা৭:০৫
সূর্যোদয় - ৬:৩৭সূর্যাস্ত - ০৫:৪৬
পড়ুন