কথায় মন ভোলানো মৌ
০৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ইং
কথায় মন ভোলানো মৌ
  সেলিম সালেহ

 

প্রতিটা সকাল দর্শকদের টিভি অনুষ্ঠানে প্রিয় মুখ অনুষ্ঠানটির উপস্থাপিকা মৌসুমী মৌ। দেশ বরেণ্য শিল্পীদের মন ভুলানো জাদুকরী সুর আর মৌসুমীর অসাধারণ উপস্থাপনের বাচন ভঙ্গিতে প্রতি সকাল দর্শকদের মন রবির আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনার মাধ্যমে ইতোমধ্যে বাংলাদেশের টেলিভিশন দর্শকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় মুখ মৌসুমী। বাংলাদেশ টেলিভিশনে জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা উপস্থাপনার মধ্যে দিয়ে উপস্থাপিকা হিসেবে যাত্রা শুরু। বিটিভিতে নিয়মিত উপস্থাপনা করে যাচ্ছে প্রভাতের গানের অনুষ্ঠান সুপ্রভাত বাংলাদেশে, অসাম্প্রদায়িকতা ভিত্তিক অনুষ্ঠান ‘সম্প্রীতি’, লালনকে নিয়ে গানের আসর ‘রঙের বাজার’ ও ‘ছায়াছন্দে’। নারীরা যে উপস্থাপনাকেও পেশা হিসেবে নিতে পারে তরুণ প্রজন্মের কাছে তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সে।

স্কুল শিক্ষক মা-বাবার মেয়ে মৌসুমীর ছোট বেলা থেকেই বেড়ে ওঠে সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় নৃত্য, বিতর্ক, অভিনয়, উপস্থিত বক্তৃতা, আবৃত্তিতে অংশ নিয়ে জেলা ও আঞ্চলিক পর্যায়ে অসংখ্য পুরস্কার জিতেছে। ফরিদপুরের বেগম কাজী জেবুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজ থেকে উচ্চ-মাধ্যমিক শেষ করে ২০১০ সালে ইডেন মহিলা কলেজে পদার্থ বিজ্ঞানে ভর্তি হয়।

ঢাকায় এসেই যেন নিজেকে জানানোর   ক্ষেত্রটি চিনতে পারে। তাকে নিতে হয় জীবনের কিছু সাহসী সিদ্ধান্ত। কারণ আমাদের দেশে           শিক্ষা ব্যবস্থাটা এমন লেখা-পড়ায় ভালো শিক্ষার্থী মানেই তাকে সায়েন্স নিয়েই পড়তে হবে। ইংরেজদের সেই বিভাজন শিক্ষানীতি এখনও চালু রয়েছে আমদের দেশে। এখানে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান শুধুমাত্র তার বিভাগের পরিমন্ডলেই সীমাবদ্ধ। যদিও অনেক সময় দেখা যায় অনেকেই গন্ডির পরিব্যপ্তি ডিঙিয়ে নিজেকে চেনায় অন্যভাবে-ভিন্নরূপে। মৌসুমীও তাই করেছে। নিজের মেধাকে জানানোর ক্ষেত্রটিকে বুঝতে পেরে ধীরে ধীরে প্রস্তুত করতে থাকে নিজেকে। যুক্ত হয় প্রাচ্যনাট্য থিয়েটারের সাথে। পাশাপাশি চালিয়ে যেতে থাকে উপস্থাপনার উপর বিশেষ কোর্স। আর এই উপস্থাপনা করতে গিয়েই সংস্পর্শে আসেন দেশ বরেণ্য জ্ঞানী-গুণীজনের। ‘আমি বুঝতে পেরেছিলাম নিজেকে জানাতে হলে আগে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। তাই উপস্থাপনাতে বিশেষ মনযোগ দেই। জীবনের প্রথম উপস্থাপনা ছিল আবুল মকসুদ, ইমেরেটস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান স্যারদের মতো গুণীজনদের সামনে। খুব নার্ভাস ছিলাম। কিন্তু অনুষ্ঠান শেষে তারা আমার উপস্থাপনার খুব প্রশংসা করলো। যা সত্যিই আমার জন্য বিশেষ কিছু ছিল।’

স্নাতক শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ব্যাচে ‘প্রিন্টিং এন্ড পাবলিকেশন’ বিভাগে ভর্তি হন। যা মৌসুমী দেখেন তার জীবনের শ্রেষ্ঠ সাহসী সিদ্ধান্ত হিসেবে। সায়েন্স ছেড়ে অন্য বিভাগে আসা আমার জন্য কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল কিন্তু আমি মনে করি সকলের নিজেকে জানানোর ক্ষেত্রটা খুঁজে নেওয়া জরুরী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর আবৃত্তি, উপস্থাপনা, মূকাভিনয় ও অভিনয় চর্চা বড় পরিসরে শুরু করি। উপস্থাপনার পাশাপাশি মূখাভিনয় শিল্পী হিসেবেও নিজেকে গড়ে তোলা আমার জীবনের অনেক বড় টার্নিং পয়েন্ট। মৌসুমী বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মাইম এ্যাকশনের সহ-সভাপতি। এই দলের সাথে যুক্ত হয়ে ভারতে দিল্লীর ও. পি. জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি আয়োজিত আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় মূকাভিনয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। দেশের সর্বত্র মূকাভিনয়কে ছড়িয়ে দেওয়ার স্বার্থে পার্থ প্রতিম মজুমদার আর কাজী মোরশেদুল ইসলামের ছায়ায় কাজ করে যাচ্ছে।

অভিনেত্রী হিসেবেও বেশ সফল মৌসুমী। মাঝে মধ্যে কাজ করে যাচ্ছে টিভি নাটকে। কাজ করেছে ২৬ মার্চের মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নাটকসহ বেশ কিছু নাটক ও শর্টফ্লিমে। এসিড বিরোধী একটি শর্টফ্লিমে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে তরুণ প্রজন্মের কাছে বেশ পরিচিত মুখ সে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ইং
ফজর৫:২০
যোহর১২:১৩
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫১
এশা৭:০৫
সূর্যোদয় - ৬:৩৭সূর্যাস্ত - ০৫:৪৬
পড়ুন