প্রত্যেকে মোরা পরের তরে...
০৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ইং
প্রত্যেকে মোরা পরের তরে...
সুচিত্রার

স্বপ্ন, জীবনের বাকি সময়টুকু সমাজের মানুষের সেবা করেই কাটানো। দিনাজপুরে এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম আর অনাথ আশ্রম করতে চান তিনি। যেন পরম আত্মীয় না থাকার কষ্টটুকু না থাকে তাদের মাঝে

  ইমদাদ হক

 

দেশের এগিয়ে যাওয়ার গল্পটা রচিত হয়, যখন নাগরিকরা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করেন। যখন সমানতালে কাজ করেন নারী ও পুরুষ। বিশ্বের আর কটা দেশের মতো, বাংলাদেশেও এখন নারী-পুরুষ সমাজ উন্নয়নে কাজ করছেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। দেশটা আমার, আমি এই সমাজেই বাস করি। কাজেই, সমাজের প্রতি রয়েছে আমারো দায়বদ্ধতা। ভুল-ত্রুটি শুধরে দিয়ে, কুসংস্কারমুক্ত করে সমাজটাকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব সকলেরই। বলছিলেন সামাজিক উদ্যোক্তা সুচিত্রা রানী কুন্ডু।

নারীরাও আমাদের সমাজ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ফ্যাশন ডিজাইনার, ব্যবসা, করপোরেট চাকরি, সাংবাদিকতা, সমাজ উদ্যোক্তা প্রায় সব ক্ষেত্রেই নারীরা মুখ্য ভূমিকা পালন করছে। আর সমাজ উন্নয়ন সংস্থার প্রবর্তক হিসেবে বাংলাদেশের নারীদের সুনাম সারাবিশ্বে। তেমনই একজন সুচিত্রা রানী কুন্ডু। পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে কাজ করাই যার ব্রত, কাজ করে যাচ্ছেন দেশ জুড়েই।

স্কুল শিক্ষক পিতার শাসনে কেটেছে ছোটবেলা। সে সময় থেকেই মনে গেঁথেছে মানবিকতা, সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই। মানবকল্যাণে কাজের ব্রত সে সময় থেকেই। চার ভাই-বোনের সংসারে আদরেই কেটে গেছে শৈশব। তাই, ভবিষ্যতের বীজ বুনতে বেগ পেতে হয়নি সে সময়। যার বাস্তবায়ন করেছেন পরবর্তীতে। প্রতিষ্ঠা করেছেন সামাজিক সংগঠন এ কে গ্লোবাল ফাউন্ডেশন। সারা দেশের অসহায় আর বিপর্যস্ত জনপদের সহযোগিতায় কাজ করাই যার লক্ষ্য। প্রতিবছর দুস্থ মানুষের মাঝে বিপুল পরিমাণ শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয় এই সংগঠনের পক্ষ থেকে। দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে কিছু গরীব শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার খরচের। মনুষত্ববোধ জাগিয়ে তোলা আর দেশের প্রতি দায়িত্বানুভূতি সৃষ্টি করতে শিক্ষার্থীদের নিয়ে পালন করা হয় বৃক্ষরোপণ, স্বাস্থ্য ক্যাম্প, গণসাক্ষরতা অভিযানসহ নানা কর্মসূচি। যার মাধ্যমে সমাজের উন্নয়ন গতি বাড়ে। নাগরিকরাও হয় সচেতন। বলছিলেন সুচিত্রা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়া শেষ করে শিক্ষকতা করেন কিছুদিন। এখন বলতে গেলে, সব ছেড়ে-ছুঁড়ে ব্যস্ত সমাজ উন্নয়ন নিয়েই। কাজ করছেন একাধিক সামাজিক সংগঠনে। রোটারী ক্লাব অব রোজ ভ্যালের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন। আর  সদস্য হিসেবে আছেন মিডলাইফ সংগঠনেও। স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা ও সেবা প্রদানে কাজ করছে এই সংগঠনটি।

ইতিমধ্যেই সুচিত্রার কার্যক্রম পরিবর্তন এনেছে তার কর্ম এলাকায়। মানুষের মাঝে এসেছে স্বস্তি। শিক্ষার্থীরাও পড়ালেখা করছে ভাবনা ছাড়াই। তার আন্তরিকতার ছোঁয়া নিয়ে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলো গতিশীল। যা অনেকের জন্য স্বস্তিদায়ক। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের তিনি প্রাধান্য দিয়েছেন সবসময়। নারী হিসেবে নয়, নিজেকে মূল্যায়ন করেন মানুষ হিসেবে। তিনি বিশ্বাস করেন, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে উন্নতির জন্য অবশ্যই নারীর ক্ষমতায়ন প্রয়োজন। প্রত্যেকটা নারীকে কিছু না কিছু করতে হবে। একজন নারী কী পারবে সেটা তাকেই ঠিক করতে হবে। যে কোনো কিছুর সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখাটা জরুরি। জীবনে সফল হতে হলে কঠোর শ্রম আর অধ্যবসায়ের কোনো বিকল্প নেই।

সুচিত্রার স্বপ্ন, জীবনের বাকি সময়টুকু সমাজের মানুষের সেবা করেই কাটানো। দিনাজপুরে এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম আর অনাথ আশ্রম করতে চান তিনি। যেন পরম আত্মীয় না থাকার কষ্টটুকু না থাকে তাদের মাঝে। অবসরে গান করেন। বই পড়েন। ঘুরে বেড়ান দেশে-বিদেশে। বিভিন্ন সভা-সেমিনারে অংশ নেন। বিবাহিত জীবনে সুচিত্রা দুই ছেলের মা। তারা আইন বিষয়ে পড়ছে যুক্তরাজ্যে। আর স্বামী আশীশ কুমার কুন্ডু কাজ করছেন ইনকাম ট্যাক্স ল‘ইয়ার হিসেবে। স্বামী ও তার পরিবারের সহযোগিতা-উত্সাহ প্রতিটি ক্ষেত্রে পেয়েছেন, এখনও পাচ্ছেন। সুচিত্রার মন্তব্য, পরিশ্রম, একাগ্রতা ও নিষ্ঠা মানুষকে সফল হতে সাহায্য করে। সাফল্য পেতে হলে কোন কাজটি করতে চাই, সেটা আগে বুঝতে হবে। নিজের সঙ্গে এই বোঝাপড়া থাকতে হবে।

 

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ইং
ফজর৫:২০
যোহর১২:১৩
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫১
এশা৭:০৫
সূর্যোদয় - ৬:৩৭সূর্যাস্ত - ০৫:৪৬
পড়ুন