মে দিবস
৩০ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
মে দিবস
নারী শ্রমিক বাড়লেও টেকসই নয়, বিদ্যমান

আছে বৈষম্য

সরকার নানামুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করছে

—মেহের আফরোজ চুমকি

প্রতিমন্ত্রী, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়

 

নারী শ্রমিকের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি আমাদের জন্য ইতিবাচক খবর। তাই একে ধরে রাখতে হবে। সরকার এবিষয়ে কাজ করছে। দারিদ্র্য বিমোচনে সরকার নানা রকমের ভাতা প্রদান, উদ্যোক্তা তৈরিতে ঋণ প্রদান, ভকেশনাল ও কারিগরি শিক্ষায় নারী যেন নিজেকে দক্ষ করতে পারে সেজন্য ট্রেনিং-এর ব্যবস্থা করছে। জয়িতা এক্ষেত্রে সরকারের একটি পরিকল্পনা তা গ্রামীণ নারীকে উদ্যোক্তাতে পরিণত করে। তার উত্পন্ন পণ্য বিক্রিরও ব্যবস্থা করে। নারীর বাইরে কাজ করতে চাইলে আজও একটি বড় বাধা ঘরের কাজ। নারীকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়ন করতে ঘরের কাজে পুরুষের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে কাজ করছে সরকার। ডেকেয়ার সেন্টার স্থাপন, মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয়মাস করা এবং মজুরিসহ এ ছুিট ভোগ করা উল্লেখযোগ্য।

 

১৬ হাজার টাকা পারিশ্রমিক দাবি করছি

—জাহানারা বেগম

সভাপতি, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন

 

পোশাক খাত অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান খাত। যেখানে ৮০ শতাংশ নারী শ্রমিক নানা প্রকার বৈষম্য আর বঞ্চনা নিয়ে কাজ করছে। যেখানে চালসহ প্রতিটি সব্জির দাম ৫০ টাকার ওপরে। ক্রমবর্ধমান বাড়ি ভাড়া, যাতায়াত ভাড়া সব মিলিয়ে ৪ জন থেকে ৬ জনের পরিবার সামলাতে হিমশিম খায় শ্রমিক সেখানে ৫ হাজার ৩শ টাকা পারিশ্রমিকে কাজ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। মানবেতর জীবন-যাপন থেকে মুক্তি চায় শ্রমিক। তাই এবছর মে দিবস-এ আমরা গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম ১৬ হাজার টাকা পারিশ্রমিক দাবি করছি। নারী শ্রমিকরা যৌন হয়রানিসহ নানা রকম প্রবঞ্চনার শিকার হয়ে কাজ করে। এজন্য অনেক সময় তারা ঝরে পড়ে। এই সব দিক গুরুত্ব দিতে হবে।

 

গার্মেন্টস সেক্টরকে বৈষম্যহীন করা

আমাদের প্রধান লক্ষ্য

—কাজী মোঃ রুহুল আমিন

কার্যকরী সভাপতি, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র

 

গার্মেন্টস সেক্টরকে বৈষম্য হীন করা আমদের প্রধান লক্ষ্য। এখানে অধিক নারী কাজ করে আবার অধিক বৈষম্যের শিকার হয়। একজন নারী যখন গর্ভবতী হন তখন তাকে নানা রকম কটূক্তি করা হয়। মাতৃত্বকালীন ছুটি পেলে বেতন পায় না। ফলে নারী শেষ পর্যন্ত কাজ করতে পারে না। এগুলো দূর করতে কাজ করতে হবে।

 

কর্ম পরিবেশ না থাকলে অধিকার সংরক্ষিত

না হলে অবস্থা টেকসই হবে না

—এএনএম তানজিল আহসান

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ইন্ডাস্ট্রি স্কিল

ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম অফিসার

 

নারীরা শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও তাদের দক্ষতাবৃদ্ধির সুযোগ ছিল না। এখন প্রাতিষ্ঠানিক অপ্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে দক্ষ প্রশিক্ষিত শ্রমিকের সংখ্য বৃদ্ধিতে সুযোগ তৈরি হয়েছে। শিল্প প্রতিষ্ঠান ও সরকারের প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুসারে নারী শ্রমিক তৈরি করতে পারছে। বাংলাদেশ সরকার ২০১১ সালে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতি করে এবং অল্প সময়ের মধ্যে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হলে আমরা ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে শ্রমিক দক্ষতাবৃদ্ধি বিষয় উত্সাহিত করতে পারি। আমাদের ঐতিহ্য আমরা কাজ করে শিখব, কিন্তু এই ক্ষেত্রে শ্রমিকের উন্নয়নে দীর্ঘ সময় লাগে। প্রতিষ্ঠানেও দক্ষশ্রমিক আসতে সময় ব্যয় হয়। পূর্ণকালীন কর্মজীবীরা ছাড়াও নারীরা পড়ালেখার পাশাপাশি কাজ করছেন অটোমোবাইল, টেইলারিং, বিউটিফিকেশন প্রভৃতি কাজ করতে দেখছি। তবে কর্ম পরিবেশ না থাকলে অধিকার সংরক্ষিত না হলে শ্রমিককে উত্সাহিত না করলে অবস্থা টেকসই হবে না।

—রাবেয়া বেবী

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন