বিদেশ বিভূইয়ে সফলতা
৩০ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
বিদেশ বিভূইয়ে সফলতা
  আয়েশা আলম প্রান্তি

 

একজন সফল বাঙালি নারী চিকিত্সক ও বিজ্ঞানী, যিনি দেশের সীমানা  পেরিয়ে বিদেশের মাটিতেও নিজের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে যাচ্ছেন। তিনি  ডাঃ নুসরাত খান প্রিয়াংকা। বর্তমানে তিনি পিএইচডি করছেন যুক্তরাজ্যে বিখ্যাত ইউনিভার্সিটি অফ নটিংহ্যামে। ভিকারুননিসা নুন স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ২০০৩ সালে এসএসসি ও ২০০৫ সালে এইচএসসি পাস করে এই মেধাবী চান্স পেয়ে ভর্তি হোন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের কে-৬৩ ব্যাচে ভালো ফলাফলের সাথে ২০১১ সালে এমবিবিএস পাস ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে ইন্টার্নশিপ শেষ করেন ২০১২ সালে।

শুরু হলো ক্যারিয়ারের পথ নির্বাচন করার। ডাঃ নুসরাত এর মা রওশন আরা বেগম ছিলেন একজন দক্ষ পাবলিক হেল্থ প্রফেসর। মাকে দেখে ডাঃ নুসরাত এ পথে আসার অনুপ্রেরণা পান। ছোটবেলা থেকে বিজ্ঞানী হতে চাওয়া মেয়েটি ভাবলো, চিকিত্সক হয়ে যদি গবেষণাধর্মী কাজে থেকে চিকিত্সা সেবায় নতুন ও ভালো কিছু উদ্ভাবন করা যায়, চিকিত্সা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করা যায়, তাহলে হাজার হাজার মানুষ অনেক উপকৃত হবে। এ মহত্ চিন্তা থেকেই ডাঃ নুসরাতের পাবলিক হেল্থ (গণস্বাস্থ্য) বিষয়ে ক্যারিয়ার করতে আসা। বেশিরভাগ পাবলিক হেলথ প্রফেশনালের মতই তার জার্নিটাও বেশ কঠিন ছিল। কিন্তু পথচলার একমাত্র ক্যাটালিস্ট ছিল হেলথ রিসার্চ শেখার প্রবল আগ্রহ। ইন্টার্নশীপ শেষ করে ডাঃ নুসরাত ভর্তি হন এআইইউবি (আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ) বিশ্ববিদ্যালয়ের এমপিএইচ (মাস্টার্স ইন পাবলিক হেল্থ) প্রোগ্রামে। এমপিএইচ শেষ করেন অত্যন্ত ভালো ফলাফল নিয়ে, সিজিপিএ ৪.০০, সাথে অর্জন করেন চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল এবং সামা কাম লর্ড অ্যাওয়ার্ড। এমপিএইচ পরবর্তী প্রফেশনাল লাইফে প্রথম কাজ ইউএসএআইডি নেক্সট জেনারেশন পাবলিক হেল্থ প্রোগ্রামে ফিলো হিসেবে কাজ করা। ইউএসএআইডি ফিলো হিসেবে হেপাটাইটিস-বি ভ্যাকসিনেশন এর উপরে নিজের করা কাজের জন্য ডাঃ নুসরাত মালয়েশিয়াতে অনুষ্ঠিত আইএসইআরডি কনফারেন্সে বেস্ট পেপার ও বেস্ট প্রেজেন্টেশন অ্যাওয়ার্ড পান। ২০১৪ সালের শেষের দিকে ব্র্যাক রিসার্চ এন্ড ইভালুয়েশন ডিভিশনে, হেল্থ ইউনিট রিসার্চার হিসেবে যোগ দেন। শুধু হেল্থ না, ইকোনোমিক্স, নিউট্রেশন, সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ইত্যাদি নানাবিধ রিসার্চের সাথে পরিচিত হন। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সেবা, শিশুদের পুষ্টি, চোখের চিকিত্সা, যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি নানা স্টাডিতে কাজ করেছেন।

২০১৫ সালে নির্বাচিত হন যুক্তরাজ্যের সম্মানজনক কমনওয়েলথ স্কলারশিপের জন্য। স্কলারশিপ নিয়ে মাস্টার্স করতে পাড়ি জমান যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন। র্যাংকিং-এ ৭ম, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়া, যে কোনো বাঙালি শিক্ষার্থীর জন্য সৌভাগ্যের। মানুষের  যেসব রোগ ছোঁয়াচে না (ননকমিউনেবেল ডিসিস) তা নিয়ে শুরু হয় ডাঃ নুসরাতের রিসার্চের কাজ। পাবলিক হেলেথ কাজ করার সুবাদে যাবার সুযোগ হয়েছে বিভিন্ন ইন্টারন্যাশনাল প্লাটফর্মে। ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন গ্লোবাল পাবলিক হেল্থ, শ্রীলঙ্কাতে নিজের জীবনের প্রথম পেপার প্রেজেন্ট করার সৌভাগ্য হয় তার। এছাড়া মাস্টার্স এর থিসিস ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অফ নন কমিউনেবেল ডিসিস, মালয়েশিয়াতেও প্রেজেন্ট করেন।

মাস্টার্স শেষে এক বছর কাজ করেছেন ব্র্যাকে। বর্তমানে এই মেধাবী যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়  ইউনিভার্সিটি অফ নটিংহ্যামে, পাবলিক হেল্থ ও এপিডিমিওলজি বিষয়ে পিএইচডি করছেন। একই সাথে ব্র্যাক-এর বিভিন্ন প্রজেক্টে কাজ করে চলেছেন। একজন ভালো রিসার্চার হতে হলে কি লাগে এই প্রশ্নের উত্তরে ডাঃ নুসরাত বলেন, ‘আমি মনে করি রিসার্চ ক্যারিয়ারে অ্যাকাডেমিক বেইস শক্ত করা খুব বেশি দরকার কারণ এখানে এত নতুন নতুন সাবজেক্ট রপ্ত করতে হয়, যেগুলোর কোনো ওরিয়েন্টেশন আমাদের নেই। অনেক ধৈর্য এবং ইচ্ছাশক্তির প্রয়োজন। আগে নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে হবে। কোনো অপশন হিসেবে না, প্রথম পেশা হিসেবে পাবলিক হেল্থকে প্রাধান্য দিলে তবেই এ পথে আসা উচিত।’

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন