স্বপ্ন পূরণের কারিগর
৩০ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
স্বপ্ন পূরণের কারিগর
  জিলফুল মুরাদ

 

আপনাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, আপনি যে জায়গাটিতে কাজ করতে চান সেটির কেমন পরিবেশ প্রত্যাশা করেন? অর্থাত্ আপনার স্বপ্নের কর্মস্থলটি কেমন হবে? নিশ্চয়ই আপনি হাসি মুখে উত্তর দেবেন, আমার স্বপ্নের কাজের জায়গাটি তেমনই চাই যেখানে আকর্ষণীয় বেতনের পাশাপাশি রয়েছে অসাধারণ কাজের পরিবেশ, যেখানে কর্মচারির প্রতি কর্মকর্তার রূঢ় আচরণের বালাই নেই, সহকর্মীরা সবাই বন্ধুসূলভ-এই তো, আর কি চাই!

কিন্তু বাস্তবেও কি এমন সুযোগ রয়েছে, যেখানে বিশেষ করে একজন নারীর এমন কর্মস্থলের স্বপ্ন পূরণ সম্ভব? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেয়েছি বাংলাদেশের তথ্য-প্রযুক্তি খাতে অন্যতম বড় প্রতিষ্ঠান কাজী আইটি সেন্টার লিমিটেড-এর কর্মীদের কাছে। প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সবাই একবাক্যে উত্তর দিয়েছেন কাজের জায়গাটি ‘অসাধারণ’, ‘যেন সেকেন্ড হোম’। এখানকার কাজের পরিবেশ নিয়ে কথা হচ্ছিলো কাজী আইটি ধানমণ্ডি শাখার অ্যানালিস্ট মারজিয়া আক্তার কেকা’র সঙ্গে। তিনি ছয় মাস ধরে এই কোম্পানিতে কাজ করছেন। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, একজন নারী কর্মীর কাছে এটি সেরা একটি প্রতিষ্ঠান। এখানে কাজ করতে মনেই হয় না যে, কাজের কোনো চাপ রয়েছে। কাজকে আমরা মজা হিসেবে মনে করে কাজ করি। কাজের ফাঁকে নাস্তা, বিকেল চারটার দিকে সবাই এক সাথে হয়ে গিটার নিয়ে গান করাসহ এমন কিছু প্র্যাক্টিস আছে এখানে যাতে আমাদের মনেই হয় না আমরা অফিসে বসে কাজ করছি। এছাড়াও, প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার অসাধারণ একজন মানুষ। তার কাছে যেকোনো কিছু শেয়ার করা যায়।

জাফরিনা জাবিন একদম নতুন কর্মী। মাত্র দুই মাস আগে তিনি কাজ শুরু করেছেন। এই অল্প সময়ে তার অভিজ্ঞতা কেমন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে কাজের পরিবেশটাই অন্যরকম। নতুন কোনো অতিথি আসলেই তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং তার সৌজন্যে কেক কাটা হয়। যেকোনো উত্সবে পুরো অফিস সাজে উত্সবমুখর পরিবেশে। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে কোনো মেয়ে কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত  অন্তত দুই/চার জন সহকর্মী অফিস ত্যাগ করে না। অর্থাত্, কোনো মেয়ে যাতে সবার শেষে একা বের না হয়। এছাড়া ভালো মানের বেতনের পাশাপাশি কর্মদক্ষতা অনুযায়ী মাসিক বোনাস তো আছেই। মেয়ে হিসেবে কাজী আইটিতে কাজ করতে পেরে আমি সত্যিই গর্বিত।

প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি এবং এর ভালো কাজের পরিবেশের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ একটি মোটো কাজ করে, সেটি হচ্ছে- এখানে কেউ চাকরি কারে না, সবাই নিজের ব্যবসা করে। একজন কর্মী নিজের মতো করে প্রতিষ্ঠান চালায়। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের মালিকও সেটি জানেন না। কাজী আইটি-এর যাত্রা শুরু হয়েছিলো ২০১০ সালে মাত্র ১০টি কম্পিউটার নিয়ে রাজধানীর নিকুঞ্জ-এর একটি অফিসে। মাত্র তিন মাসের মধ্যে শান্তিবাগে আরেকটি অফিসে আরও ৫০ জন নিয়ে কাজ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। এক বছরের মধ্যে নিকুঞ্জতে পুরো একটি ভবন নিয়ে অফিস করে কাজী আইটি।

পরবর্তীতে ধারাবাহিকভাবে ধানমণ্ডি, রাজশাহীতেও শাখা খোলে তথ্য-প্রযুক্তি খাতের অন্যতম বড় এই কোম্পানিটি। নারী কর্মীদের কাজের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। উচ্চ বেতন, মাসিক বোনাস, বন্ধুসূলভ কাজের পরিবেশ, শতভাগ নিরাপত্তা, পরিবহন সুবিধা, নিজ খরচে দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, নারী-পুরুষ উভয়কে সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা এবং কাজের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে নারীবান্ধব একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে কোম্পানিটি।

প্রযুক্তি খাতে কাজী আইটি-এর স্বপ্ন কী? জানতে চেয়েছিলাম প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাইক কাজীর কাছে। তিনি বলেন, প্রায় সাড়ে তিন ট্রিলিয়ন ডলারের আইটি বাজার রয়েছে। লক্ষ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ হতে পারে আইটি খাত। কাজী আইটি লাখো লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টির স্বপ্ন দেখছে, যাদের ৬০% কর্মীই হবে নারী। ২০১৮ সালে কাজী আইটিতে ৫০০ লোকের পদ খালি রয়েছে, যাদের ডে শিফটে ২৫০টি পদ রাখা হয়েছে নারী কর্মীর জন্য। সুতরাং যোগ্য প্রার্থী থাকলে যে কেউ এই মুহুর্তে কাজী আইটি পরিবারের সদস্য হতে পারে। আমরা চাই প্রযুক্তি খাতে নারী নেতৃত্ব এগিয়ে আসুক। সেজন্যই আমরা নারী কর্মীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।

উল্লেখ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তিক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণে প্রতিবন্ধকতা বিষয়ক ব্র্যাকের গবেষণা উপস্থাপনায় তথ্য উঠে আসে, আইসিটির ক্ষেত্রে মেয়ে ও নারীর অংশগ্রহণ যদি ৩৪ থেকে বাড়িয়ে ৮২ শতাংশে উন্নীত করা যায় তাহলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও ১ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব হতো। এতে সরকারের ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের উন্নীত হওয়ার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা আরও সহজ হতো।

ছবি: শ্রাবণ ইমতিয়াজ

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন