আলেয়ার আলো
০৪ জুন, ২০১৮ ইং
আলেয়ার আলো

জীবনে উল্লেখযোগ্য কিছু করার স্বপ্ন দেখা নারীদের তিনি শক্তিশালী শিক্ষাগত ভিত্তি গড়ে তোলার

পরামর্শ রাখেন। কেননা শিক্ষা একজন নারীকে কেবল আত্মবিশ্বাস ও শক্তিই যোগায় না, বরং পুরুষ

নিয়ন্ত্রিত কর্মক্ষেত্রে নিজ যোগ্যতা প্রমাণের মধ্য দিয়ে সাফল্য অর্জনে সক্ষম করে তোলে

  আকলিমা জান্নাত

 

আলেয়া আর ইকবাল। একজন সফল কর্মজীবী নারী। জন্ম থেকে কৈশোরের বেড়ে উঠা বাংলাদেশে হলেও, তারুণ্যের উল্লেখযোগ্য সময় কেটেছে বিদেশ-বিভুঁইয়ে। আলেয়ার বাবা ছিলেন বিমানের গ্রাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার এবং মা একজন গৃহিণী। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মমতাময় পারিবারিক বন্ধনে বেড়ে উঠেছেন তিনি। তবে পারিবারিক মায়ার বন্ধন কাটিয়ে বিদেশ পাড়ি জমাতে হয়েছে খুব অল্প বয়সেই।

আলেয়া উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ চুকিয়ে উচ্চ-শিক্ষা অর্জনের লক্ষ্যে মাত্র ১৭ বছর বয়সে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। তিনি শহীদ আনোয়ার গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিক এবং ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন থেকে ট্রেনিং স্পেশালিস্ট বিষয়ে স্নাতকোত্তর এবং হার্ভার্ড কেনেডি স্কুল থেকে একটি এক্সিকিউটিভ প্রোগ্রাম সফলভাবে শেষ করেন। সবসময় পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে সাহস  যুগিয়েছেন তার বাবা। বাবা নাকি সবসময় বলতেন, ‘জীবনে সাফল্য অর্জনের জন্য কোনো কাজে তোমার বাধা নেই এবং আমি সবসময় তোমার পাশে থাকব।’

স্কুলজীবনে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার বাইরেও নানান সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত থাকা আলেয়া বর্তমানে দেশের অন্যতম নন-ব্যাংকিং ফাইন্যান্সিয়্যাল ইনস্টিটিউশন আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেড-এর হেড অব আইটি এন্ড বিজনেস ট্রান্সফরমেশন পদে দায়িত্ব পালন করছেন। দেশে ফিরে আইপিডিসিতে যোগ দেওয়ার পূর্বে তিনি রহিমাফরুজ এবং অপটিম্যাল সল্যুশন্স-এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তার আগে এটাও বলতে হয়, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বেশকিছু শীর্ষ স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। তিনি মূলত তথ্য-প্রযুক্তি কেন্দ্রিক পেশায় সবসময় সম্পৃক্ত ছিলেন। কারণ তিনি কম্পিউটার ভিত্তিক কাজ করতে বরাবরই পছন্দ করেন। আইটিতে যদি ক্যারিয়ার না গড়তেন, তাহলে পেশা হিসেবে কী বেছে নিতেন জানতে চাইলে জানান, স্থাপত্যে তার সবসময়ই আকর্ষণ ছিল; ভবনের নকশা তাকে ভীষণ টানত।

যদিও বাবা চেয়েছিলেন মেয়ে বড় হয়ে পাইলট হবে, আর দাদার ইচ্ছা ছিল নাতনি হবে ডাক্তার; কিন্তু ছোটবেলা থেকেই আলেয়ার কম্পিউটারের প্রতিই ঝোঁকটা ছিল বেশি। উচ্চতর পড়াশোনা ও ক্যারিয়ারটাও তাই গড়ে উঠেছে কম্পিউটারকে ঘিরে। তবে একজন নারী হিসেবে এই সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়ে তোলাটা খুব একটা সহজ ব্যাপার ছিল না। পুরুষ সহকর্মীদের সাথে পাল্লা দিয়ে ক্যারিয়ারে সাফল্য ধরে রাখা সবসময়ই বেশ কঠিন ছিল। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের চিত্র বাংলাদেশ থেকে ভিন্ন নয়, যদিও একে সর্বাধুনিক রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি মনে করা হয়; কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে প্রতিটা সমাজে লিঙ্গ বৈষম্য যেন চিরন্তন ব্যাপার হয়ে গেছে। সফলতা ধরে রাখতে নিজেকে পুরুষ সহকর্মীর তুলনায় সবসময়ই বেশি কর্মঘণ্টা ব্যয় করতে হয়েছে, কাজের মূল্যায়নেও বঞ্চিত হতে হয়েছে বেশিরভাগ সময়। এতো কিছুর পরও থেমে থাকেন নি আলেয়া, রণে ভঙ্গ দেননি এক মুহূর্তের জন্য। নিজের মেধা আর যোগ্যতায় আলো ছড়িয়েছেন নিজ কর্মক্ষেত্রে।      

একজন কর্মজীবী নারীর জীবনে প্রতি পদে পদে চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করে। একদিকে পরিবার ও অন্যদিকে ক্যারিয়ার। উভয়ক্ষেত্রে সফল নারীদের সুপারওম্যান খ্যাতি দেওয়া বাঞ্ছনীয়। দুই কন্যা সন্তানের মা আলেয়া ইকবালকে তাই সুপারওম্যানই বলা চলে, যিনি সংসার এবং কর্মক্ষেত্রে নিজ আলোয় রাঙিয়ে চলেছেন সমানভাবে। আলেয়া সম্পর্কে আরো একটি তথ্য না দিলেই নয়। আর তা হলো, যেখানে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশগুলোতে গিয়ে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখেন, সেখানে শুধু পারিবারিক বন্ধনের টানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিলাসবহুল জীবন ছেড়ে ঘর বেঁধেছেন নিজ মাতৃভূমিতে এসে। ক্যারিয়ার এবং পরিবার নিয়ে চরম ব্যস্ততার মধ্যে সময় কাটানো এই মানুষটি অবসর পেলে রান্না করতে এবং পরিবারের সাথে বিশেষ করে নিজের দুই মেয়ের সাথে সময় কাটাতে ভীষণ ভালোবাসেন। তিনি মনে করেন, রান্না একটি শিল্প, যার মাধ্যমে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করা যায়। তিনি আঁকতেও বেশ পছন্দ করেন। 

আলেয়া ইকবাল ভবিষ্যতে নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন দেখছেন। যেসব নারী জীবনে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখেন, তাদের হয়ে কাজ করতে চান। জীবনে উল্লেখযোগ্য কিছু করার স্বপ্ন দেখা নারীদের তিনি শক্তিশালী শিক্ষাগত ভিত্তি গড়ে তোলার পরামর্শ রাখেন। কেননা শিক্ষা একজন নারীকে কেবল আত্মবিশ্বাস ও শক্তিই যোগায় না, বরং পুরুষ নিয়ন্ত্রিত কর্মক্ষেত্রে নিজ যোগ্যতা প্রমাণের মধ্য দিয়ে সাফল্য অর্জনে সক্ষম করে তোলে।    

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৪ জুন, ২০২০ ইং
ফজর৩:৪৪
যোহর১১:৫৭
আসর৪:৩৭
মাগরিব৬:৪৬
এশা৮:০৯
সূর্যোদয় - ৫:১০সূর্যাস্ত - ০৬:৪১
পড়ুন