সবুজ পরিবেশের উদ্যোক্তা তামাজের
০৪ জুন, ২০১৮ ইং
সবুজ পরিবেশের উদ্যোক্তা তামাজের
  ইমদাদ হক

 

শৈশবের বেশিরভাগ সময় কেটেছে ঢাকায়, নানা-নানীর সঙ্গে। আর বাবা ছিলেন সেনাবাহিনীর অফিসার। সে সূত্রে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থানেও থাকতে হয়েছে। নানা ছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম কৃষিবিদ ড. এস ডি চৌধুরী। আশির দশকে তিনি যখন বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিতে দেশের বাইরে যেতেন, সেখান থেকে প্রথম শোনা জলবায়ু ও পরিবেশ শব্দগুলো। যা থেকেই পরে জলবায়ু সচেতনতা, পরিবেশ ও উন্নয়ন ইস্যু নিয়ে কাজ শুরু করেছেন করেন তামাজের আহমেদ। শুরুর কথা বলছিলেন সবুজ পরিবেশ বিনির্মাণে কাজ করা সাসটেইনিবিলিটি অ্যালায়েন্সের প্রতিষ্ঠাতা তামাজের আহমেদ। 

ঢাকা থেকে এ লেভেল, ও লেভেল শেষ করে আমেরিকায় পাড়ি জমান উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য। মাউন্ট হল্কি কলেজে অর্থনীতিতে পড়াশোনা করেন। এরপর নাইরোবিতে অর্থাত্ বাবা যেখানে রাষ্ট্রদূত হিসেবে ছিলেন, সেখানে জাতিসংঘের হাত ধরে চাকুরী জীবনের শুরু। দেড় বছর পর ২০০৬ সালে ঢাকায় ফেরেন। এখানে নানা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। মাঝে দীর্ঘ সময় ছিলেন এউএসএইডে। এখন ফ্রিল্যান্স কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করছেন।

দেশের বাইরে থাকার সময়ই পলিউশন ম্যানেজমেন্ট নিয়ে তামাজেরের আগ্রহ জাগে। তিনি বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো এগুলো নিয়ে বিস্তর কাজ করলেও আমাদের ক্ষেত্রগুলো এখনও অনেকটাই শুন্য পরে আছে। শুধু খাবারে ফরমালিন ইস্যু নিয়েই আমরা উচ্চকণ্ঠী। কিন্তু খেয়ালই করছি না, কৃষক ফসল উত্পাদনের সময় যে উচ্চমাত্রায় কেমিক্যাল ব্যবহার করছেন। তাতে খাবারের মূল উেসর ভেতরেই বিষ ঢুকে পড়ছে। যে সার মাটিতে রয়ে গেল, সেটি পানিতে মিশছে ও পরিবেশ কলুষিত করছে। যা পুরো বায়োডাইভার্সিটি  নষ্টের অন্যতম কারণ। বিপদের কোন পর্যায়ে বসবাস করছি, সে বিষয়েও উদাসীন আমরা। আর জীবনযাপন বদলের উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে না সেই হারে।

এমন ভাবনা থেকেই তামাজের গড়ে তোলেন সাসটেইনিবিলিটি এলায়েন্স সংগঠন। যার উদ্দেশ্য ভোক্তা পর্যায়ে পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা তৈরি। যাতে করে ভোক্তারা কোনো কেনা বা সেবন করার আগে সেই পণ্যের পরিবেশ এবং আশেপাশের ওপর প্রভাব বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেন। সেই লক্ষ্যে সাসটেইনিবিলিটি অ্যালায়েন্স ইকো ফেস্টিভ্যাল নামের একটি ইভেন্টের আয়োজন করে। এই ফেস্টিভ্যালের বড় অংশ জুড়ে থাকে মেলা। যেখানে ছিল জৈব বা অর্গানিক পদ্ধতিতে উত্পাদিত খাদ্যপণ্য, কেমিক্যালমুক্ত প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি সামগ্রী এবং পরিবেশবান্ধব উপকরণ দিয়ে তৈরি পণ্যের অংশগ্রহণ। মেলার পাশাপাশি চলে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সেমিনার। যেখানে দর্শনার্থীরা অর্গানিক পদ্ধতির চাষাবাদ, পরিবেশবান্ধব পণ্য, কেমিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাবসহ নানা বিষয়ে তথ্যবহুল আলোচনা শুনতে পান। যেখানে শিশুদের জন্য ছিল পরিবেশ সচেতনতামূলক খেলাধুলাসহ নানা আয়োজন। ভেস্টিভ্যালের উদ্দেশ্য ছিলে সকল পর্যায়ের উত্পাদক, বিশেষজ্ঞসহ সকলকে নিয়ে একটি পরিবেশবান্ধব প্লাটফর্ম করা। যাতে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

পৃথিবীর নানা দেশ ঘোরার পর, অভিজ্ঞতার আলোকে ঠিক করেছেন তাঁর কর্মপদ্ধতি। তামাজেরের ইচ্ছে, প্লাস্টিক ও পলেথিনের ব্যবহার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করা। এই পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞ মনে করেন, পরিবেশের সুরক্ষায় কারিগরি বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন। তিনি সেভাবেই তাঁর নেটওয়ার্ক তৈরি করছেন, যাতে এই কাজকে প্রান্তিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া যায়। আসলে মানুষ নানা রাসায়নিকে বিরক্ত, তারাও এ ধরনের উদ্যোগ আশা করেন। যাতে সকলের সাড়াও পাওয়া যাচ্ছে। অর্গানিক বিষয়াদি নিয়ে যে মেলা হতে পারে, বিষয়টি ভেবেই অনেকে অবাক হয়েছেন। পরে সকলের মাঝে স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণও দেখা গেছে। তবে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। সমাজের বড় অংশই পরিবেশ সচেতন নন। আবার, মানুষের দৈনন্দিন আচরণ ও জীবন যাপন পদ্ধতি এক্কেবারে পরিবর্তনও খুব সহজ কথা নয়।

দিনশেষে একজন নারী, বাইরের সব কাজে পারদর্শীতার পর সামলে নিতে হয় সংসারও- এমন প্রশ্নের জবাবে হেসে উঠেন তামাজের। বলেন, বিদেশে পড়াশোনা করে দেশে ফিরে অনেকের খাপ খাইয়ে নিতে অসুবিধা হলেও তাঁর ক্ষেত্রে তেমন বেগ পেতে হয়নি। আর চ্যালেঞ্জ নেওয়ার মানসিকতার সাথে কঠোর পরিশ্রমই পারে মেয়েদের সাফল্য এনে দিতে। তামারেজের স্বপ্ন, একদিন আমাদের সচেতনতার মধ্য দিয়েই কমে আসবে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলা সকল পণ্যের ক্রয় এবং উত্পাদন। যাতে করে ধ্বংসের হাত থেকে বেঁচে যাবে আমাদের পৃথিবীর অবশিষ্ট জীববৈচিত্র্য, আমাদের মাটি, পানি এবং বাতাস। যাতে করে কমে আসবে ভয়াবহ সব স্বাস্থ্য জটিলতা। আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য হয়ে উঠবে আমাদের দেশ এবং পৃথিবী।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৪ জুন, ২০২০ ইং
ফজর৩:৪৪
যোহর১১:৫৭
আসর৪:৩৭
মাগরিব৬:৪৬
এশা৮:০৯
সূর্যোদয় - ৫:১০সূর্যাস্ত - ০৬:৪১
পড়ুন