প্রদর্শনী
রঙ-তুলিতে মুখরিত শিল্পীর ক্যানভাস
১২ নভেম্বর, ২০১৮ ইং
রঙ-তুলিতে মুখরিত শিল্পীর ক্যানভাস
  আজিজুল কদির

 

শিল্পীরা জীবনযুদ্ধের পাশাপাশি রঙ-তুলিতে চিত্রপট রচনা করেন। রঙিন স্বপ্ন বুনেন ক্যানভাসে। সেখানে পরস্ফুিটিত হয় জীবনের টুকরো টুকরো গল্প। আর এই ক্যানভাসের সঙ্গেই যার গভীর প্রেম ও প্রীতির বন্ধন তিনি শিল্পী মাসুদা আহমেদ সাথী। দহন গানে মুখরিত শিল্পী মাসুদা আহমেদ সাথীর ক্যানভাস। কেননা এই শিল্পী এখন যুদ্ধ করছেন ঘাতক ব্যাধি কোলন ক্যান্সারের সঙ্গে। আর যুদ্ধ জয়ের পথে সাথীর প্রতিটি ক্যানভাস তাই যেন ছন্দিত বর্ণের নিভৃত কথন। অপরূপ রূপের সাধক এই এক নবীন শিল্পী ঘাতক ব্যাধি ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন দীর্ঘ চার বছর ধরে। এই যুদ্ধে পরিবার-পরিজনের পাশাপাশি শুভার্থীরাও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন নিঃস্বার্থ ভাবে। শিল্পীর জীবন বাঁচাতে এরইমধ্যে পাশে দাঁড়িয়েছেন দেশের অর্ধশতাধিক নবীন-প্রবীণ শিল্পী। তাঁরা অন্ধকারকে পদদলিত করে শিল্পীকে আলোয় নিয়ে আসতে চায়। অদম্য সাথীকে তাই এই মরণব্যাধি রোগ ক্যান্সার টলাতে পারেনি এতটুকুও। প্রতিনিয়ত শিল্পচর্চায় মনোনিবেশ করে রেখেছেন নিজেকে। তার প্রতিটি ক্যানভাস তাই হয়ে উঠেছে যেন চেতনালোকের বিশদ বর্ণনা, আনন্দ বেদনার কাব্য। যেখানে প্রকৃতির পাশাপাশি নান্দনিক চেতনায় ঘুরপাক খাচ্ছে মানুষ। কখনো আনন্দ উচ্ছলতায় ফানুস উড়ছে আবার কখনো যেন তপ্ত জলের বয়লারে ফুটছে মানুষের দুর্বিষহ অস্তিত্ব।

শিল্পী সাথী স্কুল ও কলেজে পাঠ শেষ করেছে এই চট্টগ্রামেই। ফলে বলা যায় বেড়ে উঠেছে সাথী চট্টগ্রামেই। শিল্পী সাথী ২০০২ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-এর চারুকলা বিভাগ থেকে পেইন্টিংয়ে এম এ করেন। এছাড়া জীবনে প্রাপ্তির মধ্যে যোগ হয়েছে স্কুল জীবনেই ১৯৮৮ সালে জাতীয় শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা নতুন কুঁড়ি পুরস্কার অর্জন করে। এছাড়া এই পর্যন্ত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে আসছে। তারমধ্যে নেপাল, ভারত, শ্রীলঙ্কা উল্লেখযোগ্য। তাঁর একটি পেইন্টিং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার হিসেবে প্রদান করেন বাংলাদেশ এয়ার ফোর্স কর্তৃপক্ষ। তিনি তাঁর কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন। শিল্পী সাথী প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার চেয়ে বেশি অবলোকন করেছেন বস্তু ও মানুষের চিত্র বিচিত্র রূপ। মাঝে মাঝে আত্মমুগ্ধ আবেশে নিজের ছবি এঁকেছেন। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অন্তর্গত দাহ। যার জন্য তার কোনো আত্মপ্রতিকৃতিই নিপাট সুন্দর অভিব্যক্তি নয়। নিজেকে খুঁড়তে খুঁড়তে সাথী শিখেছে কিভাবে কী করে জানতে হয় ও আঁকতে হয় অন্য মানুষের হূদয়। তারা বেঁচে উঠতে চায়। প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়ে উঠে দাঁড়াতে চায়।

সাথী কালব্যাধি ক্যান্সারের সঙ্গে পাশা খেলছেন প্রাণাবেগের দর্পে। তবে এই অসুখের অনপনীয় দাগ তিনি সৃষ্টিতে টেনে আনেননি। এক্সপ্রেশনিস্ট ছবির ভাষাই আয়ত্ত করেছেন নৈর্ব্যক্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে। স্পষ্ট মানুষ ও বর্ণ নিমজ্জিত শরীর দুটোতেই শিল্পীর সিদ্ধিলাভের আকাঙ্ক্ষা তীব্র। আবার জড়তার মধ্যে গতির পর্যবেক্ষণ তাঁর মৌল প্রবণতা পরিলক্ষিত। এ প্রবণতা শুরু হয়েছিল বারান্দার টবে থাকা ফুল আঁকার মধ্য দিয়ে। সামান্য ফুলে মানুষের অস্তিত্বের জ্বালা প্রকটিত করে কিভাবে তাই বোঝার চেষ্টা করেছেন। বন্দি গাছের ধৈর্যের ধর্ম অনুভব করতে চেয়েছেন সাথী। বাঁকানো রেখার পাতা ও লতার গড়ন যেন বন্দি মানুষের মতো যে কোনো ফাঁক-ফোকর দিয়ে শ্বাস নিতে চায়, ধার্য আলো, বাতাস, জল ও মৃত্তিকার মধ্যেও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা। আর এই থেকে যেন প্রতিদিন বেঁচে থাকার প্রেরণা। ভেতরের যন্ত্রণাকে শক্তিতে রূপান্তরিত হওয়ার ইশারা। এই ইশারার সাড়ায় বেঁচে থাকতে চায় শিল্পী সাথী। ব্যাংকার স্বামী ও দুই সন্তানের জননী শিল্পী মাসুদা আহমেদ সাথী। শিল্পী বর্তমানে সিঙ্গাপুরের ক্যান্সার সেন্টারে চিকিত্সাধীন দুরারোগ্য রোগ থেকে পুরোপুরি আরোগ্য লাভের স্বপ্নে বিভোর।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১২ নভেম্বর, ২০১৯ ইং
ফজর৪:৫৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৩৯
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পড়ুন