বাস চালকদের রুখবে কে?
রিফাত কান্তি সেন৩০ এপ্রিল, ২০১৮ ইং
বাস চালকদের রুখবে কে?

ব্যস্ততম নগরী ঢাকা। দেশের জনসংখ্যার একটা বৃহত্তম অংশই ঢাকায় বসবাস করেন। নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত, উচ্চবিত্তের লোকেরা শহরে কর্মের সন্ধানে প্রতিদিন গন্তব্যে পৌঁছান বাসে করে, নয়তো পায়ে হেঁটে। কিন্তু কে জানে গন্তব্য সব সময় সঠিক জায়গায় পৌঁছে দেয় কী না! ঢাকার রাজপথে বাস মানেই যেনো দ্রুতগতির কোনো দানব। পাল্লা দিয়ে গাড়ি চালানো, জোরে হর্ণ বাজানো, ওভারটেক, সিগনাল না মানা, ফিটনেস না থাকা, ট্রাফিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হওয়াসহ কত রকমের যে অভিযোগ রয়েছে ঢাকা শহরের বাস ড্রাইভারদের বিরুদ্ধে তা আর বলে শেষ করা যাবে না। প্রতিদিনই ছোট-খাটো দুই একটি ঘটনার জন্ম দেয় এসব বেপরোয়া যানবাহন। সব খবর পত্রিকার পাতায় আসে না বলে আমরা অনেক খবরই পাই না। কয়দিন আগে তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজিব দুই বাসের চাপায় তার ডান হাতটি হারান। তত্ক্ষণাত্ তাকে ভর্তি করা হয় শমরিতা হাসপাতালে। সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যালে প্রেরণ করা হয়। অতপর চিকিত্সাধীন অবস্থায় চিরতরে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরপারে পাড়ি জমান।  রাজিবের মা-বাবা নেই। স্বজনদের পয়সায় তার শিক্ষা কার্যক্রম অতিবাহিত হচ্ছিল। তিন ভাইয়ের মধ্যে রাজিবই বড়। এই যে রাজিব অসতর্কতার বলি হলো এর কি সঠিক কোনো বিচার আমরা দেখতে পাবো? অপরাধীরা কি আইনের হাতে ধরা পড়বে? রাজধানীর বাসগুলোর দিকে তাকালেই বোঝা যায় বেচারা বাসও কত কষ্ট সহ্য করে। গাড়ির বডিতে কত শত দাগ আর কাটাছেঁড়ার দৃশ্য।

পাল্লা দিয়ে চালাতে গিয়ে মনে হয় যেন বাসগুলোর শনিরদশা পেয়ে বসেছে। বাস ড্রাইভার অনেক সময় এত দ্রুতগতিতে গাড়িগুলো চালান যে মনে হবে আপনি গাড়িতে নয়, বিমানে আছেন। প্রশ্ন হলো ব্যস্ততম এ শহরে যেহেতু প্রচুর মানুষের চলাচল; ঠিক সেখানে বাসের এমন গতি, ওভারটেক কতটা যুক্তিযুক্ত?

রাজিবের ঘটনার কয়েকদিন পরই দেখলাম একজন ভদ্র মহিলার পায়ের উপর দিয়ে বাস চালিয়ে দিয়েছে চালক। অনেকটা এমন যে মানুষের জীবনের কোনো মূল্যই নেই রাজধানীর বাস চালকদের কাছে। বাসগুলো  যেন যন্ত্র দানবে পরিণত হয়েছে। বাসের গতি দেখলে সচরাচর এখন অনেকেই ভয়ে আঁতকে উঠেন।

বড় ধরনের বিচারের সম্মুখীন না হওয়ার কারণে ধরা-ছোঁয়ার বাইরেই থেকে যান এসব চালকেরা। গাড়ির স্টিয়ারিং যেন রকেট, আর গাড়ির বাইরের মানুষদের মনে হয় কীটপতঙ্গ।

এই যে আজ রাজিবের করুণ মৃত্যু ঘটলো, এ দায় কে নেবে?

আদৌ কি রাজিব তার হত্যার বিচার পাবে? আমি তো সরাসরি বলতে চাই—এটা একটা হত্যাকাণ্ড। আপনারা পাল্লা দিয়ে গাড়ি চালাবেন, আর মারবেন সাধারণ জনগণকে। এটা তো হয় না। রাজধানী শহরে এখন মানুষের একটাই আতঙ্কের নাম, ‘বাস’।

নিম্ন ও মধ্যবিত্তের যানবাহনে চলতে গিয়ে প্রতি পদক্ষেপেই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এর সঠিক বিচার না হলে আজ রাজিব, কাল আপনি, পরশু আমারও এ অবস্থা হতে পারে। ভুলে গেলে চলবে না রাষ্ট্রটা বাস ওয়ালাদের নিজস্ব সম্পত্তি নয় যে যখন-তখন তারা বিপদ ঘটিয়ে দিতে পারে।

সড়ক দুর্ঘটনা আমাদের দেশে নতুন কিছু নয়। তাই বলে এমন দুর্ঘটনা আমরা কখনোই প্রত্যাশা করি না। অবশ্যই রাজিবের ঘাতক বাস চালকের কঠিন বিচার প্রত্যাশা করি। আর এমন দুর্ঘটনা আমরা বাংলার মাটিতে দেখতে চাই না। রাজিবের মৃত্যুর খবরটা যতটা না বেদনাদায়ক ; তার জীবন সংগ্রামের গল্পটা ততটাই হূদয় বিদারক ছিল। ছোট বেলায় যখন সে তার পিতামাতাকে হারায় সেই থেকেই তার কষ্টের জীবনের শুরু। দুই ভাইকে নিয়ে চলছিল তার কষ্টের সংসার। নিজে পড়ালেখার পাশাপাশি দুই ভাইকে শিক্ষিত করতে চেয়েছিল। বিসিএস দিয়ে শিক্ষক হওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল তিতুমীর কলেজের স্বপ্নের বালক রাজিবের। বাস চালকদের খাম-খেয়ালিপনার বলি হয়ে তাই নিজেই স্বপ্ন হয়ে গেল। রাজিবের মৃত্যু টনক নেড়ে দিয়ে গেলো আমাদের বিবেকের, আমাদের মনুষ্যত্বের। রাজিবের মৃত্যু থেকে আমাদের গাড়ি চালকদের শিক্ষা হোক।

n লেখক: শিক্ষার্থী, চাঁদপুর সরকারি কলেজ

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৩০ এপ্রিল, ২০২১ ইং
ফজর৪:০৪
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৯
এশা৭:৪৭
সূর্যোদয় - ৫:২৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৪
পড়ুন