সুধীজনের মতামত ও সাধারণ মানুষের বাজেট ভাবনা
সুধীজনের মতামত ও সাধারণ মানুষের বাজেট ভাবনা
প্রতি বছরের মতো এবছরও আসন্ন বাজেট নিয়ে সুধীজনদের আলোচনায় যে বিষয়গুলো প্রধানত আলোচিত হচ্ছে সেগুলোর মধ্যে আছে: বাজেটের আকার ও খাতওয়ারি বরাদ্দ, রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ও উত্সসমূহ, প্রবৃদ্ধির হার, বাজেট বাস্তবায়ন ইত্যাদি। বাজেট বরাদ্দ এবং ঋণ ব্যবস্থায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, পুঁজি বাজারের অবস্থা, কালো টাকা সাদা করা,  বিদেশে অর্থ পাচার এবং বাজেট শিল্পবান্ধব ও ব্যবসাবান্ধব কিনা। এবার ব্যাংকিং খাতের সংকটও আলোচিত হচ্ছে। আর এই বিষয়গুলোর উপর প্রদত্ত মত ও মতান্তর খবরে আসে। বিশেষ করে যখন বক্তব্যগুলো পুঁজি ও প্রচলিত বাজার অর্থনীতিকে প্রাধান্য দিয়ে আবর্তিত হয়। বর্তমানে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে যে টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার কথা বলা হয়—তাতে মানুষকে কেন্দ্রে স্থান দেওয়া হয়েছে, কিন্তু মানুষ এ সকল আলোচনায় অনুপস্থিত। উপস্থিত থাকলেও সংখ্যা ও অনুপাতে, বাস্তব ব্যক্তিমানুষ নেই। দারিদ্র্যের কথা এসব আলোচনায় আসলেও দরিদ্র মানুষ বিশেষ করে অতি দরিদ্র মানুষ কেমন আছেন, কেমন থাকতে পারেন তা আসে না। ঢাকা শহরের পরিচ্ছন্নতা কর্মী, পার্বতীপুরের হরিজন ও সাঁওতাল বা নিঝুম দ্বীপের সুপেয় পানির সংকটে থাকা দরিদ্র মানুষের দেখা মিলে না এসব আলোচনায়।

অর্থনীতির আকার বাড়ছে, তাই বাজেটের আকারও বাড়বে সেটা স্বাভাবিক। বাংলাদেশে বর্তমান এবং আগামী বছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার উচ্চাভিলাষী অবশ্যই নয়। কিন্তু বাজেট বাস্তবায়নের ঘাটতি বাড়ছে, তা দূর করতে তত্পরতা বাড়াতে হবে। এ বিষয় আলোচনায় আসে। বাজেটের কার্যকর বাস্তবায়নের পক্ষে অবশ্যই জোরালো বক্তব্য রাখা জরুরি। তবে বাজেটভুক্ত অর্থ জোগানে যে দরিদ্র লাখো মানুষের অবদান রয়েছে এবং যাদের দারিদ্র্য দূরীকরণে রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও অঙ্গীকার রয়েছে তাদের গোষ্ঠী ও এলাকাভিত্তিক কর্মসূচি গৃহীত এবং বাস্তবায়িত হচ্ছে কিনা তা আলোচনায় আসে না, যদিও জোরালোভাবে আসা উচিত।

অবশ্যই যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে ব্যাংকিং খাত ও পুঁজিবাজার আইন ও বিধিমালার ভিত্তিতে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়। কিন্তু এসব কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের কোনো অভিগম্যতা নেই। একটি খণ্ডিত সমাজ কখনও সুস্থ সমাজ হতে পারে না। সুস্থ, সুষম সমাজ গড়ার লক্ষ্যে আর্থ-সামাজিক প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে এবং সেজন্য তাদের বাস্তবতা ও প্রয়োজন এবং ন্যায্য অন্তর্ভুক্তির বিষয় বিশেষভাবে বিবেচনায় নিতে হবে এবং তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এসব কথা সুধীজনদের বক্তব্যে তেমন আসে না।

বাজেট বরাদ্দে খাতওয়ারি অগ্রাধিকার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রায় ধারাবাহিকভাবে নির্ধারিত হচ্ছে। বিশেষ করে অবকাঠামো (রাস্তা, সড়ক, বিদ্যুত্, গ্যাস) শিক্ষা ও প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ইত্যাদি অগ্রাধিকার প্রাপ্ত হয়ে আসছে। তবে একটি খাত যত নজর পাওয়া উচিত ছিল তা সম্প্রতি পাচ্ছে না। সেটি হলো গ্রামীণ অর্থনীতি। এখানে রয়েছে কৃষি (শস্য, প্রাণিসম্পদ, মত্স্য সম্পদ, বনাঞ্চল) এবং গ্রামীণ বিভিন্ন কৃষি-বহির্ভূত কর্মকাণ্ড। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতি যে দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং দারিদ্র্য হ্রাসে যে অগ্রগতি হয়েছে, তার ভিত হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতির অভূতপূর্ব চাঙ্গাভাব। এই খাতের গুরুত্বের কথা বাজেটে তেমন প্রতিফলিত হচ্ছে না এবং সুধীজনদের আলোচনায়ও তেমন আসে না।

এখানে একটি কথা বলা দরকার, আর তা হলো—দারিদ্র্য হ্রাসের হার সম্প্রতি কমেছে। এটা অস্বাভাবিক নয় বলে ধরা যায় এই কারণে যে, দারিদ্র্যের হার অনেক কমে এসেছে তবে অবশিষ্ট দরিদ্র মানুষের উল্লেখযোগ্য অংশ অতি দরিদ্র এবং ভিন্ন ভিন্ন প্রয়োজন-সংবলিত নানা গোষ্ঠীতে বিভক্ত। এদের দারিদ্র্য হ্রাসকরণ সত্যিকারভাবে কঠিন কাজ। কাজেই এ পর্যায়ে দারিদ্র্য হ্রাসে কিছুটা ধীরগতি হতেই পারে। বিশেষ করে যদি প্রত্যেক গোষ্ঠীর ভিন্নতাকে ধারণ করে নমনীয় নীতিমালা ও কর্মসূচি গ্রহণ না করা হয় তাহলে দারিদ্র্য-হ্রাস প্রক্রিয়ায় ধীরগতি সৃষ্টি হতে পারে। এক্ষেত্রে দেশের নীতিনির্ধারকদের সচেতনতা রয়েছে এবং সেই প্রেক্ষিতে কিছু কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় সামান্যই। এ বিষয়টি বিশদ নজরের দাবি রাখে।

এখন আমি আরো কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলব, যেগুলো সুধীজনদের আলোচনায় গুরুত্ব পায় না বা আসেই না এবং খবরও হয় না কিন্তু জাতির সুস্থ বিকাশ ও সুসংহত আর্থ-সামাজিক  অগ্রযাত্রার জন্য জরুরি বলে আমি মনে করি। প্রথমেই বলতে হয়, বাজেট শুধু কিছু সংখ্যা ও হিসাবের সমষ্টি নয়। এর পেছনে একটি উন্নয়ন দর্শন থাকতে হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন দর্শন হচ্ছে, সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা। এখানে মূল উপজীব্য মানুষ, দেশের প্রত্যেকটি মানুষ। জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত এবং অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বাস্তবায়নাধীন টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচির মূলে রয়েছে কাউকে বাদ দেওয়া যাবে না, সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এই বিষয়টি রূপকল্প ২০২১-এ গুরুত্ব সহকারে সন্নিবেশিত হয়েছে। এটাও স্মরণে রাখতে হবে যে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়ও সকলকে ন্যায্যভাবে অন্তর্ভুক্তির তাগিদ রয়েছে।

শাসন, শোষণ ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করা হয়েছে। এই দেশের সকলেরই ন্যায্য সব অধিকার নিশ্চিত হতে হবে। বঙ্গবন্ধু বারবার বিভিন্নভাবে সকলের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাবার কথা বলেছেন, দেশের সকল মানুষ যাতে সব প্রকার বঞ্চনা থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনভাবে এগিয়ে যেতে পারে সে কথাটি বলেছেন। এই চিন্তাভাবনাগুলো স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মধ্যেও উল্লেখ করা রয়েছে। বৈষম্যহীন সমাজের কথা, দেশের সকল মানুষ সমভাবে সকল মানবাধিকারের দাবিদার এ কথা, এবং প্রত্যেক ব্যক্তির মানবমর্যাদা নিশ্চিত করার কথা এই ঘোষণায় বলা হয়েছে।

সুতরাং বাজেট তৈরিতে হোক আর অর্থনৈতিক নীতি পরিকল্পনা প্রণয়নে হোক, বাংলাদেশে ধনী নয়, নির্ধনদের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। অর্থাত্ পিছিয়ে পড়া (যারা বিরূপ কোনো প্রাকৃতিক বা পরিবারের কর্মক্ষম সদস্যের অসুস্থতা বা মৃত্যুর অথবা অন্য কোনো কারণে অর্থনৈতিক দুর্দিনে নিপতিত হোন), পিছিয়ে থাকা (যারা বংশ পরম্পরায় দরিদ্র থেকে গেছেন, সংকট কাটিয়ে এগোতে পারেন নাই), পিছিয়ে রাখা (যাদেরকে ক্ষমতাবানরা পেছনে ঠেলে দিয়েছেন) এবং অন্যান্য অনগ্রসর ও অপেক্ষাকৃত অনগ্রসর জনগোষ্ঠীসমূহকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশী করাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সাম্য প্রতিষ্ঠা এবং সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য সুস্থ সমাজ গড়ার প্রয়োজনে এ কাজটি করতে হবে।

উপর্যুক্ত পরিপ্রেক্ষিতে নিম্নোক্ত আরো কয়েকটি বিষয়ের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। প্রথমেই কৃষি (শস্য, মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ) বিষয়টি আবার উল্লেখ করতে চাই। অনেক অগ্রগতি হয়েছে শস্য, মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ প্রত্যেক ক্ষেত্রেই। এই অগ্রগতিকে সুসংহত এবং বেগবান করতে ব্যয় বরাদ্দ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু শুধু বরাদ্দ বাড়ালে ও প্রতিষ্ঠান গড়লেই হবে না, এগুলোর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি খাত নানা হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে, এগুলোর মোকাবিলায় আরো তত্পর হতে হবে, পরিকল্পিতভাবে এবং অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে।

দুই. কৃষি সহায়ক ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প-স্থাপন ও সম্প্রসারণে জোর দিতে হবে। এগুলো ছোট ছোট উদ্যোগ, প্রাথমিকভাবে ৫/১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ লাগে। ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে অনেক উদ্যোগী মানুষ নিজেরাই এসব কর্মকাণ্ড চালু করছেন, কিন্তু তাদের উদ্যোগ সফল হতে হলে এবং ব্যাপকভবে আরও উদ্যোগ সৃষ্টি করতে হলে যা যা প্রয়োজন তার মধ্যে রয়েছে প্রশিক্ষণ, লাগসই প্রযুক্তি, বাজার তথ্য, বাজারজাতকরণে সহায়তা, এবং উপযুক্ত অর্থায়ন।

তিন. কৃষিখাতে আরও সমৃদ্ধির জন্য কৃষক ও কৃষিশ্রমিকদের প্রশিক্ষণ এবং কৃষির যান্ত্রিকীকরণ প্রয়োজন। ইতোমধ্যেই যান্ত্রিকীকরণ শুরু হয়েছে যেমন— ছোট ছোট ট্রাকটর, ধানমাড়াই যন্ত্র ইত্যাদি। এখন যা প্রয়োজন তা হচ্ছে মানসম্মত লাগসই যন্ত্রপাতি যাতে কৃষকের হাতে পৌঁছে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। এখানে গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। আমদানিকৃত যন্ত্রপাতি দেশের বাস্তবতার আলোকে পরিমার্জন করতে হবে। অর্থাত্ প্রয়োজনমাফিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে যাতে কৃষির বিভিন্ন খাতে উত্পাদনশীলতা বাড়ে এবং অগ্রগতি অব্যাহত থাকে, ত্বরান্বিত হয়।

চার, যান্ত্রিকীকরণের ফলে কিছু বা অনেক শ্রমিকের কর্মসংস্থান চলে যেতে পারে। বিষয়টি পূর্ব-বিবেচনায় রেখে তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির পদক্ষেপ নিতে হবে। এটি সম্ভব হতে পারে গ্রামীণ শিল্পখাতে। এছাড়া কৃষিভিত্তিক ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অবকাঠামো নির্মাণ খাতে। এসব কাজ স্থানীয় সরকার দ্বারা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব, কাজেই স্থানীয় সরকারকে দায়িত্ব দিতে হবে এবং ক্ষমতায়িত করতে হবে।

পাঁচ. তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। দেশের অনেক এলাকায় তামাক চাষ করা হয়। সম্প্রতি কুষ্টিয়া ও বান্দরবান এলাকায় তামাক চাষে ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটেছে। এক্ষেত্রে অধিক অর্থকরী বিকল্প ফসল এবং আয়ের অন্যান্য উত্স নিশ্চিত করতে পারলে কৃষক তামাক চাষ ছেড়ে দেন তা ইতোমধ্যেই পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন কুষ্টিয়ায় একটি দিশারী প্রকল্পের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে। এক্ষেত্রে ব্যাপক কর্মযজ্ঞের প্রয়োজন রয়েছে।

ছয়. শহর ও শহরতলীয় অনানুষ্ঠানিক খাতসমূহে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে এগুলোতে উত্পাদনশীলতা বাড়ানোর সুযোগ করে দিয়ে সংশ্লিষ্টদের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি নিশ্চিত করার দিকেও নজর দিতে হবে।

সাত. বিশেষভাবে অসুবিধাগ্রস্ত জনগোষ্ঠীসমূহ যারা উন্নয়নের সড়কেই উঠতে পারেননি তাদের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। যেহেতু প্রত্যেক গোষ্ঠীর বাস্তবতায় ভিন্নতা রয়েছে, তাই তাদের জন্য কর্মসূচিগুলোতেও গোষ্ঠীভিত্তিক বাস্তবতা ধারণ করতে হবে। এই গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে রয়েছে: প্রতিবন্ধী, দলিত-পরিচ্ছন্নতাকর্মী, চা শ্রমিক, নারী কৃষিশ্রমিক, হাওর-বাঁওড়-চরাঞ্চল-উপকূল-দ্বীপ-পাহাড়ের দরিদ্র মানুষ, বেদে, সাঁওতাল এবং হরিজন। যে ১২.৯ শতাংশ মানুষ বাংলাদেশে বর্তমানে অতিদরিদ্র তাদের অধিকাংশই এই গোষ্ঠীগুলো। এই জনগোষ্ঠীগুলো পিছিয়ে-পড়া, পিছিয়ে-থাকা বা পিছিয়ে-রাখা। এদের ন্যায্যভাবে অন্তর্ভুক্তি ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

আট. উপকূল ও দ্বীপাঞ্চলে লাখো মানুষ লবণাক্ততার কারণে সুপেয় পানি বঞ্চিত। ১০০০/১২০০ ফুট খনন না করলে সুপেয় পানি পাওয়া যায় না। গভীর নলকূপ ও লবণাক্ততা নিরোধ প্লান্টের প্রয়োজন তাদের এই সমস্যা সমাধানের জন্য। অন্যান্য মৌলিক চাহিদা মিটলেও সুপেয় পানির সমস্যার সমাধান না হলে সংশ্লিষ্ট লাখো মানুষ নানা অসুখ-বিসুখ দ্বারা আক্রান্ত হয়ে ধুঁকে ধুঁকে বাঁচবে অথবা বাঁচবে না। এ বিষয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় আর্সেনিক সমস্যাও প্রকট। এ বিষয়ে অধিক কার্যকর দৃষ্টি দিতে হবে। উপর্যুক্ত আটটি বিষয় ছাড়া আরো কয়েকটি বিষয় অতীব গুরুত্বপূর্ণ। একটি বিষয় হচ্ছে পরিবেশ সংরক্ষণ। এ বিষয়ে আরো জোরালো কার্যক্রম নিতে হবে আর তা টেকসই উন্নয়ন এমন একটি উন্নয়ন যা সামাজিকভাবে গ্রাহ্য এবং পরিবেশসম্মত অর্থনৈতিক অগ্রগতি। তাই আর্থ-সামাজিক বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রম সমন্বিত হতে হবে। পরিবেশকে এমনভাবে ব্যবহার করতে হবে যাতে বর্তমান প্রজন্ম তাদের চাহিদা পূরণ করতে পারবে এবং পরবর্তী প্রজন্মগুলোর জন্য পরিবেশ এমনভাবে সংরক্ষিত হবে যাতে তারাও তাদের চাহিদা পূরণ করতে পারে।

সর্বশেষে একটি দিকে নজর দিতে চাই সেটি হলো যে উল্লেখযোগ্য গতিতে বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে তা সুসংহত ও আরো ত্বরান্বিত করার জন্য সমাজের সর্ব পর্যায়ে দক্ষতাসম্পন্ন জনবল তৈরির লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ২০১১ সালে প্রণীত জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতির কার্যকর বাস্তবায়নসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য কার্যক্রম প্রবর্তন বা জোরদার করা। দক্ষ জনবল ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। অবশ্য দক্ষ জনবল হলেই হবে না। তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টি এমনিতে খুব গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে তরুণ সমাজের জন্য। তরুণ প্রজন্মের বিশাল জনসংখ্যার কারণে জনমিতিক যে সুযোগ বাংলাদেশের রয়েছে তার সদ্ব্যবহার করার লক্ষ্যে খুবই গুরুত্বসহকারে কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

n লেখক: অর্থনীতিবিদ, চেয়ারম্যান, পিকেএসএফ

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৪ জুন, ২০২০ ইং
ফজর৩:৪৪
যোহর১১:৫৭
আসর৪:৩৭
মাগরিব৬:৪৬
এশা৮:০৯
সূর্যোদয় - ৫:১০সূর্যাস্ত - ০৬:৪১
পড়ুন