ফুটওভার ব্রিজের পরিবেশ ও নিরাপত্তা
রহিমা আক্তার মৌ০৪ জুন, ২০১৮ ইং
ফুটওভার ব্রিজের পরিবেশ ও নিরাপত্তা
 ‘আমরা সকলে নিয়ম অনুযায়ী চলাফেরা করব, রাস্তা পারাপারে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করব। দুর্ঘটনা এড়িয়ে চলব। নিজে নিরাপদ থাকব অন্যকেও চলতে সহায়তা করব। হাত উঠিয়ে চলন্ত গাড়ি থামাব না, উল্টাপথে গাড়ি চালাব না। ফুটপাত দখল করব না, ফুটপাতে মোটর বাইক চালাব না, পথচারী পারাপারে বিঘ্ন ঘটাব না।’...

উক্ত কথাগুলো চলতি পথে প্রায় শুনি ফার্মগেট পুলিশবক্সের কাছে। অথচ আমরা তা প্রায়শ মানি না। কারণ বিবিধ। যেমন- প্রতিদিনের মতো সন্তানকে নিয়ে স্কুলে যাচ্ছেন পিংকির আম্মু অদিতি।  ফার্মগেট ওভারব্রিজ এর ওপর দিয়েই তিনি যাওয়া-আসা করেন। হাতে গোল্ডপ্লেটেট চুড়ি পরা অদিতির। পথ আগলে দাঁড়ায় এক ছেলে, চুড়ি খুলে দিতে বলে। অদিতি নিজেই খুলে দেয়। ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে স্কুলে যায় মা-মেয়ে। যাক অল্পতেই রক্ষা। তিনদিন পর ঠিক একই জায়গায় সেই ছেলেটি, অদিতির পথ আগলে রেখে অদিতির গালে কষে একটা চড় দিয়ে বলে- ফকিন্নী কোথাকার, গোল্ড প্লেটেট পরিস কেন, গোল্ড পরতে পারিস না। পিংকি তখন সঙ্গে ছিল না। দৌড়ে অদিতি বাসায় চলে আসে। এরপর থেকে সে আর ওভারব্রিজ পার হয় না, রাস্তা পারাপার হয় সিগনালের সময়।

রাজধানীতে ওভারব্রিজ থাকলেও এবং দিনদিন এর সংখ্যা বাড়ানো হলেও রাস্তা পারাপারের ক্ষেত্রে তা ব্যবহারের নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছেন না শিক্ষিত-অশিক্ষিত, নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ কেউই। আইন থাকলেও প্রয়োগে তদারকি নেই সরকারি কোনো সংস্থারই। সন্ধ্যা হলেই যৌনকর্মীদের দখলে থাকে ঢাকা শহরের অধিকাংশ ফুটওভার ব্রিজ। এছাড়া ফুট ওভারব্রিজের উচ্চতার কারণেও পথচারী তা ব্যবহার করতে চায় না। প্রায় প্রতিটি ব্রিজের ৪০টির মতো সিঁড়ি রয়েছে। কোথাও কোথাও তা খুবই খাড়া। ফলে একজন পথচারীকে প্রায় চার তলা বিল্ডিংয়ের সমপরিমাণ উচ্চতায় ওঠার প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে খুব সহজে রাস্তার দূর থেকে স্লোপ করে উচ্চতা অনেক কমানো সম্ভব এবং ইচ্ছা করলে গাড়িগুলো চলার পয়েন্টে ঢালু করে দিয়ে ফুট ওভারব্রিজের উচ্চতা আরও কমানো সম্ভব।

এদিকে ওভারব্রিজে ওঠা-নামার পথে নোংরা পরিবেশ, রং করলেও ওপরে রয়েছে মলমূত্র আর মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের অবাধ চলাচল। ব্রিজের দুই পাশেই দলীয় ব্যানার ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের ব্যানার দিয়ে ব্রিজকে এমন করে ঘিরে রাখা হয়, ভেতরটা পুরোই অন্ধকার হয়ে থাকে। দিনের আলো নিভে গেলেই ওভারব্রিজে বসে গাঁজা, হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদকসেবকের দল।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ‘ট্রাফিক অ্যাক্সিডেন্ট স্টাডি ইন ঢাকা সিটি’ বিষয়ে এক গবেষণায় বলা হয়, ঢাকার ৩০টি সড়ক অধিক দুর্ঘটনাপ্রবণ। এর প্রায় প্রতিটিতেই রয়েছে ফুট ওভারব্রিজ এবং ব্রিজ ও ক্রসিং এলাকাগুলোতে দুর্ঘটনার হার সর্বাধিক। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ঢাকা শহরে প্রতি বছর ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার না করায় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে অন্তত ৫৯৭ জন। এর মধ্যে গত বছর দুর্ঘটনায় হতাহত ছাত্রছাত্রী ছিল ৩৬ জন। ঢাকা সিটি করপোরেশন উত্তর ও দক্ষিণ দুই অঞ্চলে ফুট ওভারব্রিজের সংখ্যা প্রায় ৫৪। এর মধ্যে যথাযথ ব্যবহূত ব্রিজ মাত্র ৭/৮টি। অন্যগুলো ব্যবহারের হার মাত্র ৮ থেকে ১৫ শতাংশ। আবার ঢাকা শহরে যে দুর্ঘটনাগুলো ঘটে, এর ৪৯ শতাংশ ঘটে পথচারীদের সঙ্গে। অতএব, ফুট ওভারব্রিজগুলির সমস্যা দূর করতে হবে। পথচারীদেরও নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থেই ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার করতে হবে। মনে রাখতে হবে, সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি।

n লেখক : গবেষক

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৪ জুন, ২০২০ ইং
ফজর৩:৪৪
যোহর১১:৫৭
আসর৪:৩৭
মাগরিব৬:৪৬
এশা৮:০৯
সূর্যোদয় - ৫:১০সূর্যাস্ত - ০৬:৪১
পড়ুন