আর কত রক্তে রঞ্জিত হবে মহাসড়ক
নাহিদ ইকবাল০৪ জুন, ২০১৮ ইং
আর কত রক্তে রঞ্জিত হবে মহাসড়ক

বাঙালি উত্সবপ্রিয় জাতি। উত্সবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। উত্সব যে ধরনের হোক না কেন আনন্দ উল্লাসের কমতি থাকে না কখনো। নাড়ির টানে বাড়ি ফিরে সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার মজাই আলাদা। উত্সবের উত্তেজনার মাঝে লুকিয়ে থাকে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে যাবার উত্কণ্ঠা ও ভয়। সেই ভয় নিয়েই যেতে হয় গন্তব্যে। নানা উত্সবকেন্দ্রিক সময়ে যখন সড়ক-মহাসড়কে মানুষের চাপ বাড়ে তখন অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বেড়ে যায় দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা। এ যেন মৃত্যু উত্সবের আয়োজন।

সামনে ঈদ। সড়ক-মহাসড়ক, রেলপথ, নৌপথ সব যাতায়াত মাধ্যমে চোখে পড়বে উপচে-পড়া ভিড়। নগরের ব্যস্ততা ছেড়ে সতেজ প্রকৃতিতে শান্তি খুঁজে পাবার প্রয়াস আর দীর্ঘদিন পর আপনজনের সঙ্গে দেখা করে কিছু আনন্দময় সময় কাটানোর সুযোগ। ঈদ যতই কাছাকাছি আসছে মনে ভয় জেগে উঠছে এইবার মৃত্যুমিছিল কতটুকু দীর্ঘ হবে!

বাংলাদেশে বর্তমানে সড়ক দুর্ঘটনার অবস্থা ভয়ানক। কোনোভাবেই অপ্রত্যাশিত মৃত্যু থামানো সম্ভব হচ্ছে না। দেশের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের পরিসংখ্যান দেখলে বোঝা যায় কীভাবে পরিবারের প্রিয় মানুষগুলো হারিয়ে যাচ্ছে।

‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর তথ্যানুসারে ২০১৭ সালে মোট দুর্ঘটনার সংখ্যা ৩৩৪৯টি। এই দুর্ঘটনার সময় নিহত হয়েছে ৫৬৪৫ জন এবং আহত হয়েছে ৭৯০৮ জন। পুরুষ ও ছেলে শিশুর সংখ্যা ৪৩২৭ এবং মহিলা ও মেয়ে শিশুর সংখ্যা ১৩১৮ জন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর দুর্ঘটনা গবেষণা প্রতিষ্ঠান এআরআই-এর হিসাব মতে গত দশ বছরে বাংলাদেশে ২৯ হাজার ৪৩২টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ২৬ হাজার ৬৮৬ জন এবং আহত হয়েছে ২১ হাজার ৫৪৮ জন। বেশিরভাগ দুর্ঘটনার কারণ খুঁজলে আমরা দেখতে পাবো চালকের বেপরোয়া গাড়ি চালানোর ফল। এর সঙ্গে রয়েছে চালকের অদক্ষতা ও অসচেতনতা, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, একটানা দীর্ঘক্ষণ গাড়ি চালানোর ফলে গাড়ি চালানোর সময় চালকের ঘুমিয়ে যাওয়া, অদক্ষদের লাইসেন্সপ্রাপ্তির সুয়োগ, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, সড়ক-মহাসড়কের বেহাল অবস্থা, অতিরিক্ত যাত্রীবহন, গাড়িতে গাড়িতে প্রতিযোগিতা, ট্রাফিক সিস্টেমের ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা, সর্বোচ্চ গতিসীমা না মেনে গাড়ি চালানো, চালকদের ট্রাফিক সিস্টেমের ধারণা না থাকা, দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার সীমাবদ্ধতা।

দুর্ঘটনায় হতাহতের পরিমাণ কমিয়ে আনার জন্য আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগের কোনো বিকল্প নেই। দোষী চালকদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। চালক ও যাত্রীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ক্যাম্পেইন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, লাইসেন্স প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করার পাশাপাশি কোনোভাবেই অযোগ্য কেউ যেন লাইসেন্স না পায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে, ফিটনেসবিহীন গাড়ির রোড পারমিট বাতিল, ট্রাফিক সিস্টেমের আধুনিকায়ন এবং বাস্তবায়ন, চালকদের ট্রাফিক আইন মানায় আগ্রহী করে  তোলা, চালকের বিশ্রাম নিশ্চিত করার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তা মেরামত ও নকশা প্রণয়নের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি নৌপথ ও ট্রেনের যাত্রা নিরাপদ করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে নৌযানে অতিরিক্ত যাত্রী এবং ট্রেনের ছাদে কোনোভাবেই কেউ যেন ভ্রমণ করতে না পারে। নৌযানের যাত্রা শুরু করার সময় আবহাওয়া সংবাদ জানানোর পাশাপাশি বিপদে পতিত নৌযান অতিদ্রুত উদ্ধারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। যাত্রীদের বোঝাতে হবে সময়ের চেয়ে অবশ্যই জীবনের মূল্য অনেক বেশি।

সরকারের যথাযথ ভূমিকা, সঠিক আইন প্রয়োগ এবং চালক-যাত্রীদের সচেতনতাই পারে দুর্ঘটনার পরিমাণ অর্ধেকে নামিয়ে আনতে। কেন আমরা অবহেলা করবো এবং আর কতো রক্ত দেখবো মহাসড়কে। সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, আমাদের এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুয়োগ রয়েছে। যাত্রাকালে নিজের নিরাপত্তার কথা সবসময় মাথায় রাখতে হবে যাত্রীদের। কোনো উত্সবই যেন থমকে না যায় প্রিয়জন হারানোর বেদনায়। আমরা নিরাপদে পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে চাই। ঈদ বা যেকোনো ধর্মীয় ও সামাজিক উত্সবের জন্য বাড়ি ফেরার যাত্রা হোক আনন্দময় ও নিরাপদ।

n লেখক :শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৪ জুন, ২০২০ ইং
ফজর৩:৪৪
যোহর১১:৫৭
আসর৪:৩৭
মাগরিব৬:৪৬
এশা৮:০৯
সূর্যোদয় - ৫:১০সূর্যাস্ত - ০৬:৪১
পড়ুন