ফুটবল বিশ্বকাপ ছড়িয়ে দিক সম্প্রীতির বার্তা
জাহিদ হাসান০৪ জুন, ২০১৮ ইং
ফুটবল বিশ্বকাপ ছড়িয়ে দিক সম্প্রীতির বার্তা
সময়ের পরিক্রমায় আরেকটি ফুটবল বিশ্বকাপ আমাদের দুয়ারে কড়া নাড়ছে। ফুটবল যেমনি পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা তেমনি ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা বিশ্বকাপ ফুটবলকে বলা হয় ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’। অর্থাত্ বিশ্বের সবচেয়ে বড় আয়োজন। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে বড় খেলার আসরের শুরুটা মোটেও আজকের বিশ্বকাপের মত ছিল না। ফুটবলের জনক বলা হয় ব্রিটিশদের। অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ফুটবল খেলার শুরু হলেও জনপ্রিয়তা পায় শেষ দিকে। ১৯০৪ সালে ফিফা যাত্রা শুরু করলেও ১৯৩০ সালে বসে প্রথম বিশ্বকাপ। তারপর নানা সময় বিভিন্ন যুদ্ধ বিগ্রহ, কাপ চুরি হওয়া, নতুন ট্রফিসহ নানা প্রতিবন্ধকতা পার হয়ে আজকের সবচেয়ে জনপ্রিয় উত্সব ফুটবল বিশ্বকাপ। বিশ্বের প্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলা হয়েছিল ১৮৭২ সালে স্কটল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের মধ্যে। প্রথম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ছিল ১৮৮৪ সালে শুরু হওয়া ব্রিটিশ হোম চ্যাম্পিয়নশিপ। এ সময়ে গ্রেট ব্রিটেন ও আয়ারল্যান্ডের বাইরে ফুটবল খেলা বলতে গেলে হতই না। সেই শতাব্দীর শেষের দিকে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে ফুটবলের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এ জনপ্রিয়তার চিত্র আজ সারাবিশ্বের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। ফুটবল বিশ্বকাপের জ্বরে সারা পৃথিবীর মত এখন কাঁপছে সারা বাংলাদেশও। বাংলাদেশে সারা বছর ক্রিকেটের ভিড়ে ফুটবল আড়ালে থাকলেও ফুটবল বিশ্বকাপ এলে বাংলাদেশিদের মাঝে ফুটবল প্রেম কিংবা উম্মাদনা দেখা যায় চোখে পড়ার মত। প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় পছন্দের দলের সমর্থকদের নিয়ে গড়ে ওঠে সমর্থকগোষ্ঠী। প্রত্যেক সমর্থক তার নিজের পছন্দের দলের গুনগান গাওয়ার পাশাপাশি প্রতিপক্ষ দলের দুর্নাম পর্যন্তও করে থাকে।

এবার ভিন্ন প্রসঙ্গে আসা যাক। ১৮৯৬ সালে আধুনিক অলিম্পিকের যাত্রা শুরু হওয়ার প্রতি চার বছর অন্তর এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন অলিম্পিক প্রতিযোগিতা। বিশ্বের প্রায় সবদেশ এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছে। বিশ্বের সকল জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে খেলাধুলার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। ফলে বর্ণবাদ দূর হয় ও সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি পায়। এই যে, সম্প্রীতি বর্ণবাদ এবং জাতিতে জাতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও ভালোবাসার বন্ধন সকল খেলারই মূল উপজীব্য। বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের মানুষদের মাঝে ভালোবাসা বৃদ্ধিতে যখন বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার আয়োজন করা হচ্ছে তখন আমরা যেন এটিকে শত্রুতার উপাদান হিসেবে ব্যবহার করছি। গত ২৮ মে দেশের বিভিন্ন মাধ্যমে খবরে প্রকাশ, নারায়ণগঞ্জের বন্দরে আর্জেন্টিনা সমর্থক বাবা ও ছেলেকে কুপিয়ে জখম করেছে ব্রাজিল সমর্থকরা। রাতে বন্দরের মিনারবাড়ি এলাকায় পতাকা উড়ানো নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে এ ঘটনা ঘটে। বন্দরের মিনারবাড়ি এলাকায় আর্জেন্টিনা সমর্থক ও ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে পতাকা উড়ানো নিয়ে দ্বন্দ্বের  জের ধরে তারাবি নামাজের পর বন্দরের মিনারবাড়ি এলাকার কলিমউল্লাহর ছেলে সেলিম (৫০) ও তার ছেলে সজিবের ওপর হামলা চালায় ব্রাজিল সমর্থকরা। এ সময় হামলাকারীরা চাপাতি দিয়ে দুইজনকে কুপিয়ে জখম করে। এতে কী প্রমাণিত হয়? আমরা বাংলাদেশিরা কী আসলেই অতি উত্সাহী? যেখানে এই ফুটবল বিশ্বকাপের প্রতিটি খেলার শুরুতেই উভয় দলের খেলোয়াড়েরা পরস্পর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিজের দেশের প্রতি সম্মান জানিয়ে স্ব-স্ব দেশের জাতীয় সংগীত গাওয়া শেষ করে একে অপরের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে খেলা শুরু করছে! আর আমরা কিনা! সেই সম্প্রীতির শিক্ষাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সহিংসতায় জড়াচ্ছি? না। এটা কিন্তু বিশ্বকাপ ফুটবল বা অন্যান্য কোনো ধরনের খেলারই শিক্ষা নয়। যে সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে বিশ্বব্যাপী এ সকল খেলাধুলার আয়োজন করা হয় আমাদের উচিত সেখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে নিজের দেশের মাঝে এসব সম্প্রীতির অনুশীলন করা। তাছাড়া যেকোনো দলের সমর্থন যেন সেই দেশের কত বড় পতাকা কিনলাম এই  দৈর্ঘ্যে পরিমাপ না করে মনের ভালোবাসাতেই পরিমাপ হয়। এবং বাড়ির ছাদে সমর্থিত দলের পতাকা টাঙানোর সময় অবশ্যই তার উপড়ে যেন টাঙাই নিজের দেশের পতাকাও। আর বিশ্বব্যাপী খেলাধুলা আয়োজনের মূল যে উপজীব্য (বর্ণ বৈষম্য ও সম্পীতি)। তার শিক্ষা নিয়ে তা ছড়িয়ে দিই নিজ দেশেও। তাহলেই বিশ্ব সম্প্রীতি ও শান্তির পাশাপাশি নিজ দেশেও চালু হবে সম্প্রীতি।  

n লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৪ জুন, ২০২০ ইং
ফজর৩:৪৪
যোহর১১:৫৭
আসর৪:৩৭
মাগরিব৬:৪৬
এশা৮:০৯
সূর্যোদয় - ৫:১০সূর্যাস্ত - ০৬:৪১
পড়ুন