একটু সচেতনতাই পারে চিত্রটা পাল্টে দিতে
ফয়েজুল কবির সজিব০৪ জুন, ২০১৮ ইং
একটু সচেতনতাই পারে চিত্রটা পাল্টে দিতে
একটু সচেতনতাই পারে পুরো বাংলার চিত্রটা পাল্টে দিতে। অসচেতনতা মানুষকে দিন দিন বিপথগামী করে দিচ্ছে। আমরা যত সমস্যার মুখোমুখি হই তার অধিকাংশই কিন্তু সচেতনতার অভাবে। সমস্যার কথা চিন্তা করতে গেলে সর্বপ্রথম আমাদের যানজট সমস্যাটি চোখের সামনে ভেসে আসে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকে সরকারের প্রতি নেতিবাচক মন্তব্য করে থাকি। কিন্তু একবারও আমাদের মাথায় আসে না এই যানজট সমস্যাটা কাদের জন্য হচ্ছে, তার জন্য কি শুধু সরকারই দায়ী? এ প্রশ্নের উত্তর খুব অল্প মানুষই দিতে পারবে। বেখেয়ালিভাবে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করে রাস্তার দিক পরিবর্তন, ফুট ওভারব্রিজ থাকা সত্ত্বেও রাস্তার মাঝ দিয়ে চলাচল। এসব কি অসচেতনতা নয়? একজন মুমূর্ষু রোগীকে সময়মত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যায় না, অনেক ক্ষেত্রে রাস্তায় তাদের জীবন দিতে হয়। চাকরিজীবী মানুষরা পারে না ঠিক সময়ে অফিসে যেতে। সঙ্গে দুর্ঘটনা তো আছেই। এইতো বেশ কিছুদিন আগে কলেজ ছাত্র রাজীব জীবন দিল।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাবা-মা তাদের সন্তানের প্রতি দায়িত্ব পালনে হীনমন্যতার পরিচয় দেয়। একটু অসচেতনতার জন্য সন্তানের জীবনের মোড় অন্যদিকে চলে যায়। পারিবারিক শিক্ষার ক্ষেত্রে ত্রুটি থাকলে সেটা হবে সন্তানের জন্য অভিশাপ। মাঝে-মধ্যে সন্তানের সামনেই বাবা-মায়ের তুমুল ঝগড়া বেঁধে যায়। এ থেকে সন্তানের মাথায় বাজে ধারণা সৃষ্টি হয়।

আমাদের স্কুল-কলেজে পাঠদানেও অসচেতনতার দেখা মিলে। শিক্ষকরা তাদের দায়িত্ব সবক্ষেত্রে ঠিকঠাকভাবে পালন করতে ব্যর্থ হয়। ছাত্র-ছাত্রীরা কখন কি করছে, ক্লাসে তাদের উপস্থিতি বা মনোযোগ কেমন এসব দিক দেখভাল করে খুব কম শিক্ষক। একজন আদর্শ ও ছাত্রবান্ধব শিক্ষক পাওয়া বর্তমান সময়ে কঠিন ব্যাপার।

ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট স্থান করে দেওয়া আছে। অথচ আমরা যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলে পরিবেশ দূষণ করতে সাহায্য করি। একটা কলা খেয়ে তার খোসাটা নির্দিষ্ট স্থানে যে ফেলতে হয় এটাও আমরা ভুলে যাই। আর তাতে পা পিছলে অহরহ আমরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছি।

একজন ধূমপায়ী রাস্তায় চলার সময় বুক ফুলিয়ে ধূমপান করে যায়। সে আশ-পাশের মানুষের কথা কখনোই চিন্তা করে না। সে মনে করে সে নিজের জায়গা থেকে ঠিক আছে। অথচ একটা বাচ্চা যদি রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে যায় তাহলে ধূমপায়ীর কাছ থেকে বাচ্চাটা কি শিখবে?

উঠতে-বসতে, চলতে-ফিরতে অনেক কিছুই চোখে পড়ে। আমরা দু’কদম এগিয়ে এসে কেউ প্রতিবাদ করি, কেউ করতে চাই না। নিজ নিজ জায়গা থেকে সবার সচেতন হওয়াটা কাম্য। সবাই এগিয়ে আসলে এদেশের রূপ পাল্টে দিতে খুব বেশি সময় লাগবে না।

n লেখক : শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৪ জুন, ২০২০ ইং
ফজর৩:৪৪
যোহর১১:৫৭
আসর৪:৩৭
মাগরিব৬:৪৬
এশা৮:০৯
সূর্যোদয় - ৫:১০সূর্যাস্ত - ০৬:৪১
পড়ুন