প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে চান ড. কামাল হোসেন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে চান ড. কামাল হোসেন
 

কাগজে দেখলাম, ড. কামাল হোসেন সংবিধান নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলতে চান। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার এখনো সাক্ষাত্ হয়নি; কিন্তু ইত্যবসরে তিনি রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে দেখা করে কথাবার্তা বলেছেন। খবরটা শুনে আনন্দিত হব, না শঙ্কিত হব, তা ভেবে পাচ্ছি না। আনন্দিত হতাম, যদি তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশপ টুটুর মতো সব বিতর্কের ঊর্ধ্বের একজন নিরপেক্ষ জাতীয় অভিভাবক হতেন। তার আন্তর্জাতিক প্রভাব ও খ্যাতিকে জাতির বিভিন্ন সংকট মুহূর্তে তা সমাধানের কাজে লাগাতেন।

এই ভূমিকাটাই তার কাছ থেকে আমি আশা করেছিলাম। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন সৈনিক (যা তিনি অহরহ দাবি করে থাকেন) হিসেবে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর সেই আদর্শ রক্ষার কাজেই তিনি নিবেদিত হবেন এবং একসময় দলীয় রাজনীতি থেকে অবসর নিয়ে সকল দলের অভিভাবক হবেন। রাজনীতির অনৈক্য ও দলাদলির মুহূর্তে ঐক্যের দূত হবেন, এটাই ছিল আমার আশা। এ আশা তার বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনেকের ছিল।

আমাদের অনেকের এ আশা ও প্রত্যাশা ব্যর্থ করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি এখন একজন ভগ্নদূত; একজন রাজনৈতিক এতিম। আমি তার যতই সমালোচনা করি না কেন, বর্তমানে তার যে অবস্থা তা আমি কখনো দেখতে চাইনি। বঙ্গবন্ধু তাকে শুধু স্নেহ করা নয়, অসম্ভব বিশ্বাস করতেন। তিনি সেই বিশ্বাসের মর্যাদা কি রেখেছেন? আমি দেখেছি বঙ্গবন্ধু হত্যার পর তার দুই অসহায় বিদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা কিভাবে তার অভিভাবকত্ব ও গাইডেন্স লাভের জন্য অক্সফোর্ডে ছুটে গিয়েছিলেন। তার পরবর্তী ভূমিকা ও কার্যক্রম প্রমাণ করে, এই ব্যাপারে তিনি কী করেছিলেন।

২১ আগস্ট শুক্রবার ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় ঐক্য প্রচেষ্টা (এটাও তার পকেট সংগঠন) কর্তৃক আয়োজিত সভায় তিনি বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমি একজন শুভাকাঙ্ক্ষী”, শুনে হেসেছি, কে একজন বলেছেন, আমেরিকা কারো মিত্র হলে তার শত্রুর দরকার নেই। বাংলাদেশে অনেকের ধারণা, ড. কামাল হোসেন যদি শেখ হাসিনার মিত্র হন, তাহলে তার শত্রুর দরকার নেই। শেখ হাসিনা (ড. কামাল হোসেনসহ দলের সকল নেতার অনুরোধে) আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণ করার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে থাকার সময়ে এবং বাইরে এসে এই বর্ষীয়ান নেতা তাকে  পদে পদে যত যন্ত্রণা দিয়েছেন, তা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অতি বড় শত্রুও দেননি।

এরশাদের আমলে ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের ইচ্ছা ছিল না। ড. কামাল হোসেন জোর করে হাসিনাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন এবং খালেদা জিয়া “আপসহীন নেত্রী” হিসেবে দেশের এক বিরাটসংখ্যক মানুষের কাছে অভিনন্দিত হন। এই প্রথম খালেদা জিয়া দেশে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন এবং তাও ড. কামাল হোসেনের সৌজন্যে।

কারসাজির নির্বাচনে জেনারেল এরশাদের দল জিতে যায় এবং আওয়ামী লীগের অবস্থান হয় সংসদে বিরোধী দল গঠনের। যেহেতু ড. কামাল হোসেন নির্বাচনে জয়ী হননি; তিনি ভোল পাল্টে সংসদ বর্জনের জন্য শেখ হাসিনার উপর জোর চাপ দেন, শুধু তাই নয়, শেখ হাসিনা দলের পরাজয়ের সব দায়িত্ব গ্রহণ করে সভাপতির পদ থেকে যাতে পদত্যাগ করেন সে জন্য তার বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন শুরু করেন। দলের সকল পর্যায়ের নেতাদের কাছে ড. কামাল হোসেনের চিঠি যায় এবং শেখ হাসিনা দলের সভাপতির পদে ইস্তফা দেন।

দলের নেতাকর্মীরা এবার সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসে এবং শেখ হাসিনার পদত্যাগের বিরোধিতা করে। দেশের সকল মানুষের শ্রদ্ধার অধিকারী বেগম সুফিয়া কামাল তখন বেঁচে ছিলেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে শেখ হাসিনার কাছে ছুটে আসেন এবং তাকে পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানান। শেখ হাসিনাকে পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করতে হয়। ড. কামাল হোসেনের অভিসন্ধি ব্যর্থ হয়ে যায়।

সেই থেকে ড. কামালের শেখ হাসিনার উপর দারুণ আক্রোশ! তিনি ভাবতে পারেননি, তাকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের রাজনৈতিক নেতা কামরাজের পরিণতি বরণ করতে হবে। লালবাহাদুর শাস্ত্রীর মৃত্যুর পর পরবর্তী কংগ্রেস সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, সেই দ্বন্দ্বে মাদ্রাজের কংগ্রেস দলীয় রাজ্য সরকারের প্রভাবশালী মুখ্যমন্ত্রী কামরাজ তার প্রতিদ্বন্দ্বী মোরারজী দেশাইয়ের বিরুদ্ধে ইন্দিরা গান্ধীকে জোর সমর্থন দেন। তার আশা ছিল, নেহেরু কন্যা হলেও ইন্দিরা তো একজন নারী। ভারতের মতো বিশাল দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব সামাল দেওয়া তার পক্ষে সম্ভব হবে না। কামরাজ তাকে স্টপ গ্যাপ এরেজমেন্ট হিসেবে ব্যবহার করে নিজের ঘর গোছাবেন। তারপর সময় ও সুযোগ মতো ইন্দিরাকে সরিয়ে নিজেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবেন।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ভারতের রাজনীতির এই আধুনিক চানক্য কিভাবে তার অভিসন্ধি পূরণে ব্যর্থ হয়েছিলেন। তিনি নেহেরু-কন্যা ইন্দিরার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও বুদ্ধি অনুধাবনে ভুল করেছিলেন। ক্ষমতায় বসার কিছুদিনের মধ্যে ইন্দিরা প্রধানমন্ত্রীর পদে তার অবস্থান শক্ত করেন এবং কামরাজকে ক্ষমতা এবং দল দুই-ই ছাড়তে হয়। তারপর তিনি বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যান।

বাংলাদেশের কামরাজ ড. কামাল হোসেনও বঙ্গবন্ধু কন্যার পলিটিক্যাল পোটেনসিয়ালিটি এবং পসিবিলিটি বুঝতে সক্ষম হননি। তিনিও সম্ভবত মনে করেছিলেন, দুই সন্তানের মাতা এবং একজন মহিলার পক্ষে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেশিদিন টিকে থাকা সম্ভব হবে না। তিনি নিজেও এই মুহূর্তে দলের শীর্ষ নেতাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতামুক্ত ভাবে সভাপতি হতে পারছেন না। সুতরাং হাসিনাকে সামনে রেখে তিনি অপেক্ষা করবেন এবং সময় হলে আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ পাকা আপেলের মতো তার কোলেই এসে পড়বে। যতদিন তা না হয়, ততদিন তিনি থাকবেন, হাসিনার মাথার ওপরে অভিভাবক। তার নির্দেশেই হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ চালিত হবে সম্ভবত এটাই ছিল তার চিন্তা-ভাবনা।

তার এই সুখস্বপ্ন ১৯৮৬ সালেই সম্ভবত ভাঙতে শুরু করে। তিনি হয়ত বুঝতে পারেন, শেখ হাসিনাকে তিনি যতটা কচি খুকি ভেবেছিলেন তিনি তা নন। হাসিনা তার পরামর্শমতো সংসদ বর্জন না করে তাতে যোগ দেন এবং বিরোধী দলের নেত্রী হন। পরে প্রমাণিত হয়েছে, এটা ছিল তার এক পরিণামদর্শী পদক্ষেপ।

এরপর কামাল হোসেন প্রকাশ্যেই আওয়ামী লীগ ভাঙার প্রক্রিয়া শুরু করেন। এখন তিনি তথাকথিত জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক। তখন হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন জাতীয় অনৈক্য প্রক্রিয়ার ভগ্নদূত। তিনি সেই সময় তার গণফোরাম নামের সংগঠনটিকে রাজনৈতিক আলোচনার মঞ্চ থেকে রাতারাতি রাজনৈতিক পার্টিতে পরিণত করেন এবং আশা করছিলেন আওয়ামী লীগের নেতাদের একটা বড় অংশ, অন্তত ডানপন্থি অংশকে ভাগিয়ে এনে তার দলে ভিড়াতে পারবেন।

তার আশা পূর্ণ হয়নি, আওয়ামী লীগের কেউ আসেনি তার দলে। তখন সোভিয়েট ইউনিয়নের বিপর্যয়ে বাংলাদেশের মস্কোপন্থি কম্যুনিস্ট দলেও ভাঙন হয়েছে। তারই ভগ্নাংশের কয়েকজনকে তার দলে টেনে এনে কোনোরকমে গণফোরাম খাড়া করেন। চরিত্রে এই দল না ডান, না বাম। একমাত্র মূলধন আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার কখনো প্রচ্ছন্ন, কখনো প্রকাশ্য বিরোধিতা। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই দল এখন অশ্বডিম্ব।

এই লেখার শুরুতেই উল্লেখ করেছি, ড. কামাল হোসেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দশ মিনিটের জন্য হলেও দেখা করতে চান এবং রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেছেন— এই খবরে আনন্দিত না শঙ্কিত হব তা ভেবে পাচ্ছি না। আনন্দিত হতাম যদি তিনি সত্যই নিরপেক্ষ ঐক্যদূত হতেন, জাতির বিবেক হিসেবে তাদের সঙ্গে দেখা করতে চাইতেন। কিন্তু অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে এই খবরে আনন্দিত হতে পারছি না। বরং শঙ্কিত হওয়ার কারণ খুঁজে পাচ্ছি। কারণ, ২০০১ সালের নির্বাচনের আগেও তিনি হঠাত্ স্বঘোষিত ঐক্যদূত হয়েছিলেন। তখনো রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক করতে চেয়েছেন, একবার নয় একাধিকবার। তার স্বঘোষিত কনসান্সকীপার হয়েছিলেন।

তখনকার রাষ্ট্রপতি ছিলেন শেখ হাসিনার পছন্দের বিচারপতি সাহাবুদ্দীন। কী এক জাদুমন্ত্রে তিনি হয়ে গেলেন ড. কামাল হোসেন, বিএনপির তখনকার নেতা ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী, ফকির মান্নানের দ্বারা প্রভাবিত ও কিছুটা পরিচালিতও। ড. কামাল হোসেনের এই নির্বাচনপূর্ব ভূমিকা দ্বারা ২০০১ সালের নির্বাচনে কারা ক্ষমতায় এসেছিল এবং দেশে আওয়ামী লীগ ও সংখ্যালঘু এবং নারীদের উপর কী ভয়াবহ নির্যাতন শুরু হয়েছিল তা এখন সকলের জানা।

ড. কামাল হোসেনের বর্তমান নির্বাচনপূর্ব তত্পরতা সম্পর্কে আমার মতো কেউ শঙ্কা পোষণ করতে চাইলে কি তাকে দোষ দেওয়া যাবে? তবে একটাই ভরসা, শেখ হাসিনা আগের অভিজ্ঞতা থেকে বৈঠকে বসতে রাজি হবেন কিনা জানি না। কিন্তু বর্তমান রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীনের মতো দোদুল্যমান ও দুর্বল চরিত্রের মানুষ নন। রাষ্ট্রপতি হামিদ রাজনীতিতে পোড় খাওয়া, অভিজ্ঞ একজন মানুষ। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার দূত সেজে কেউ তার সঙ্গে দেখা করলেও তাকে কোনো জাদুমন্ত্রে প্রভাবিত করা যাবে না।

ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘আমরা চাই, প্রধানমন্ত্রী সংবিধান মেনে দেশ চালান।’ প্রধানমন্ত্রী যদি সংবিধান না মেনে চলতে চাইতেন তাহলে ’৭২-এর সংবিধানে ফিরে যাওয়ার জন্য পর্যায়ক্রমে একের পর এক পদক্ষেপ নিতেন না। তিনি কোন সংবিধান মানবেন? ’৭২-এর সংবিধান, না জিয়াউর রহমান কর্তৃক এক ব্যক্তির দ্বারা কাটাছেঁড়া সংবিধান? কাটাছেঁড়া সংবিধান সংশোধন করে এবং সামরিক শাসনামলকে অবৈধ ঘোষণা করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে এলে ঐতিহাসিক রায় দেন বিচারপতি শামসুদ্দীন চৌধুরী। সংবিধানের পবিত্রতা ফিরিয়ে আনার সংগ্রামে জীবন বাজি রেখে নেতৃত্ব দিয়েছেন শেখ হাসিনা। আর এই সংগ্রামকালে ড. কামাল হোসেনের ভূমিকা কী ছিল? তিনি হাসিনা-বিদ্বেষে অন্ধ হয়ে এমন সব তত্পরতায় লিপ্ত— যা এই সংবিধানের হত্যাকারী ও তাদের সমর্থকদের হাতে শক্তি জোগায়।

দেশের সাম্প্রতিক নিরাপদ সড়কের এবং কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকে হাইজ্যাক করতে চেয়েছিল বিএনপি-জামায়াত। এই ব্যাপারে বিশ্বব্যাপী অপপ্রচার চালাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত। এই আন্দোলন দমন করার জন্য সরকার দেশে গণহত্যা চালিয়েছে বলে জঘন্য মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে। দেশে আন্দোলনের মোকাবিলায় পুলিশ বাড়াবাড়ি করে থাকলে অবশ্যই তার প্রতিকার দরকার। ড. কামাল হোসেনরা তার প্রতিবাদ জানাতে পারেন।

বিএনপির আমলে এর চাইতেও বেশি বাড়াবাড়িতে এবং রাজপথে আগুনে বোমার সন্ত্রাসে কয়েকশ নিরীহ নরনারী হত্যার সময় ড. কামাল হোসেনকে একবারও মুখ খুলতে দেখা যায়নি। এখন তিনি তার জন্য নিরাপদ বাংলাদেশে বসে শিক্ষার্থীদের প্রতি অতি দরদে বিগলিত হয়ে পড়েছেন। শিক্ষার্থীরা যদি উত্পীড়িত হয়ে থাকে তিনি তাদের পক্ষ নিয়ে আদালতে গিয়ে দাঁড়াতে পারেন। তা না করে বিএনপির গুজব ও মিথ্যা প্রচারে অংশ নেন কিভাবে? ’৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করার জন্য বিএনপি যখন বিদেশি আইনজীবী ভাড়া করে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছিল, তখনতো তাকে এই প্রচারণার জন্য একবারের জন্যও মুখ খুলতে দেখা যায়নি। এখন তিনি একটি সাধারণ নির্বাচন আসন্ন জেনে আবার ২০০১ সালের ভূমিকা গ্রহণ করেছেন। তিনি নিজের জন্য নিজেই ভারতের কামরাজের মতো পতনের কূপ খুঁড়ছেন। তাকে বাঁচাবে কে?

সবশেষে একটি কথা। তিনি বলেছেন, আমি একশত ভাগ নিশ্চিত বঙ্গবন্ধুর কাছে আইনমন্ত্রী হিসেবে এ ধরনের প্রস্তাব নিয়ে গেলে (গ্রেফতারকৃত শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করে দেওয়া) তিনি অবশ্যই কোনো রাখঢাক না করে ক্ষমা করে দিতেন। কামাল সাহেব সত্য কথাই বলেছেন। বঙ্গবন্ধু তার উপর গভীর আস্থা পোষণ করতেন। তার সুযোগ তিনি নিয়েছেন। আমার ধারণা তার পরামর্শে মিসরের সাদতের কাছ থেকে (অনেকের বিরোধিতা সত্ত্বেও) তিনটি ট্যাংক গ্রহণ না করলে এবং লাহোরে ইসলামি শীর্ষ সম্মেলনে গিয়ে ভুট্টোকে বাংলাদেশে আসার দাওয়াত না দিলে বঙ্গবন্ধু সম্ভবত ’৭৫-এর মর্মান্তিক ট্রাজেডি এড়াতে পারতেন।

[ লন্ডন, ২৫ আগস্ট, শনিবার, ২০১৮ ]

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৬ আগষ্ট, ২০২১ ইং
ফজর৪:২০
যোহর১২:০১
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:২৬
এশা৭:৪১
সূর্যোদয় - ৫:৩৮সূর্যাস্ত - ০৬:২১
পড়ুন