বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধে গাছের বিস্ময়কর ভূমিকা
আলী ইদরিস২৬ আগষ্ট, ২০১৮ ইং
বৈশ্বিক উষ্ণতা রোধে গাছের বিস্ময়কর ভূমিকা
এবছরের জানুয়ারি মাসে বিশ্ব জলবায়ু সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি বছরে বিশ্বের তাপমাত্রা বাড়বে। ফলে দাবদাহ, বৃষ্টিপাত, বন্যা, মেরু অঞ্চলের বরফ গলা ইত্যাদি প্রাকৃতিক বিপর্যয় বিশ্ববাসীকে ভোগাবে। অতি সম্প্রতি সংস্থাটি আরো একটি প্রতিবেদনে বলেছে, বৈশ্বিক আবহাওয়া পূর্বাভাসের চেয়েও  অধিক চরম হয়ে উঠেছে। বিশ্বজুড়ে এ সমস্ত বিপর্যয়ের মূল কারণ জলবায়ু পরিবর্তন। পৃথিবীর অধিকাংশ পতিত স্থলভাগ যদি বৃক্ষ দ্বারা আবৃত করে দেওয়া হয়, তাহলে কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। বৃক্ষ কীভাবে পরিবেশ রক্ষা করে কার্বন নিঃসরণ কমায় তা নিম্নে বর্ণিত হলো।

১. বৃক্ষ কার্বন-ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড, সালফার-ডাই-অক্সাইড, অ্যামোনিয়া, ওজোন ইত্যাদি বায়ু দূষণকারী গ্যাস শোষণ করে তা পাতায় ও কাণ্ডে বন্দি করে রাখে এবং উপকারী গ্যাস অক্সিজেন নিঃসরণ করে। একটি গাছ দিনে চারজন মানুষের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারে। অপরপক্ষে একটি গাড়ি ২৬,০০০ মাইল চললে যে পরিমাণ কার্বন-ডাই-অক্সাইড উত্পন্ন হয় এক একর জায়গায় বিস্তৃত পরিণত বৃক্ষ সেটা শোষণ করে ফেলতে পারে।

২. বৃক্ষের উপস্থিতি থাকলে শহরের রাস্তা, বাড়ি, মাঠ ও খোলা জায়গার উষ্ণতা ১০ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত কমতে পারে।

৩. বাড়ির বা কারখানার আশে-পাশে সুপরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরাজি রোপণ করলে ওই বাড়ি বা কারখানার শীতাতপ  প্রয়োজনীয়তা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো যেতে পারে।

৪. বৃক্ষ নিকটবর্তী মাটি ও পানিকে শীতল রাখে। অতঃপর পাতার ওপরের পানিকে বায়ুতে রূপান্তরিত করে বাতাসকে ঠান্ডা রাখে। দশটি কক্ষের সমান একটি শীতাতপ যন্ত্র ২০ ঘণ্টা চললে যে শীতলতা সৃষ্টি করে একটি গাছের এই প্রাকৃতিক এভাপোরেশন পদ্ধতি একই পরিমাণ শীতলতা সৃষ্টি করে।

৫. যুক্তরাষ্ট্রের বনায়ন সোসাইটির মতে ১০ কোটি নতুন গাছ পৌণে দুই কোটি টন কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস শোষণ এবং বন্দি করতে পারে। এর ফলে যে পরিমাণ উষ্ণতা হ্রাস পায় সেই উষ্ণতা কমাতে শীতাতপ যন্ত্র  চালানোর খরচ বছরে ৪০০ কোটি ডলারে পৌঁছাত। সারাবিশ্বে যদি প্রতিবছর ১০০০ কোটি নতুন চারা রোপণ করা হয় তাহলে ওপরের হিসাব অনুসারে গাছগুলো বড় হয়ে ১৮০ কোটি টন কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস শোষণ এবং বন্দি করবে এবং ৪০০০০ কোটি ডলার জ্বালানি খরচ বাঁচাবে। বৈশ্বিক উষ্ণতা কমাতে ব্যাপারটি গভীরভাবে চিন্তার খোরাক জোগায়। প্রতিবছর নতুন বৃক্ষ রোপণের এই কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে কয়েক বছরের মধ্যেই বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে।

বৈশ্বিক উষ্ণতা কমাতে হলে জৈব জ্বালানির ব্যবহার হ্রাস করতে হবে। কিন্তু জীবাশ্ম এনার্জির ওপর নির্ভরতা কমাতে আরও কয়েক যুগ লেগে যেতে পারে। অথচ অল্প খরচে নতুন বনায়ন বৃদ্ধি করে, চলমান বনভূমি সংরক্ষণ করে এবং প্রতিইঞ্চি পতিত, অনাবাদী, সরকারি খাসজমি, রাস্তার কিনার, নদীর পাড়, বাঁধ, রেলওয়ের দু’পাশে বৃক্ষরোপণ করে কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যেতে পারে। ভারত যদি একই দিনে মধ্য ও উত্তর প্রদেশে মোট ১১ কোটি ৬০ লাখ বৃক্ষরোপণ করে বিশ্বরেকর্ড সৃষ্টি করতে পারে তাহলে অন্যান্য দেশের পক্ষে না পারার কারণ নেই। জাতিসংঘকে একটি  বিশ্ব বৃক্ষরোপণ দিবস নির্ধারণ করে আয়তন বা লোকসংখ্যা অনুযায়ী প্রত্যেক দেশের জন্য একটি টার্গেট নির্ধারণ করে দিতে পারে। যারা টার্গেট পূরণ করবে তারা পুরস্কৃত হবে। প্রস্তাবটি বিবেচনা করা যেতে পারে।

n লেখক :এফসিএ, কথাসাহিত্যিক

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৬ আগষ্ট, ২০২১ ইং
ফজর৪:২০
যোহর১২:০১
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:২৬
এশা৭:৪১
সূর্যোদয় - ৫:৩৮সূর্যাস্ত - ০৬:২১
পড়ুন