অপার সম্ভাবনার দ্বার ‘ব্লু-ইকোনমি’
সাধন সরকার২৬ আগষ্ট, ২০১৮ ইং
অপার সম্ভাবনার দ্বার ‘ব্লু-ইকোনমি’

সমুদ্র সম্পদ আহরণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনার দ্বার খুলে যেতে পারে। ২০১৪ সালে ভারত এবং ২০১২ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্র বিরোধ নিষ্পত্তির পর বাংলাদেশ ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ কিলোমিটারের বেশি সমুদ্র এলাকায় (টেরিটোরিয়াল সি’র) অধিকার লাভ করতে সক্ষম হয়। বাংলাদেশ ২০০ নটিক্যাল মাইলের একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং চট্টগ্রাম উপকূল থেকে ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপানের তলদেশে সব ধরনের প্রাণিজ ও অন্যান্য সম্পদের ওপর সার্বভৌম অধিকার লাভ করে। তবে দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, এই বিশাল অঞ্চলে কী পরিমাণ মত্স্য ও খনিজ সম্পদ আছে তা এখনো অজানাই রয়ে গেছে। সুবিস্তৃত ও অমিত সম্ভাবনাময় এই সমুদ্রসম্পদ বাংলাদেশের জন্য এখনো পর্যন্ত অনাবিষ্কৃত ও অব্যবহূত। সীমিত পর্যায়ে কিছু পরিমাণ তেল-গ্যাস এবং মত্স্য সম্পদ আহরণ করা হলেও তার পরিমাণ বঙ্গোপসাগরের অফুরন্ত সম্পদের তুলনায় খুবই নগণ্য। বিশাল অঞ্চলব্যাপী সমুদ্রের মত্স্য সম্পদ আহরণ করা সম্ভব না হলে তা হাতছাড়া হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। কত-শত চেষ্টার পরে বিশাল সমুদ্র বিজয়ের পর বাংলাদেশ সেই চেতনার ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পেরেছে বলে মনে হয় না। স্থলভাগতুল্য সমুদ্র এলাকা অর্জন যেকোনো দেশের জন্য গর্বের। কিন্তু তা অর্জন করলেই শুধু হবে না, সম্পদ দেশের স্বার্থে কাজে লাগাতে হবে।

সমুদ্রও এখন আগের মতো নেই। জলবায়ু পরিবর্তন আর প্লাস্টিক দূষণের কারণে সাগর-মহাসাগরে সব ধরনের প্রাণী ও উদ্ভিদের স্বাভাবিক জীবনাচরণ এখন হুমকির মুখে। সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বাড়ছে, অম্লতা বাড়ছে। ফলে সমুদ্রের জীববৈচিত্র্যের জন্য ঝুঁকি আগের থেকে অনেক বেশি। সমুদ্র সম্পদ সংরক্ষণেও গুরুত্ব দিতে হবে। তবে তার আগে সমুদ্র থেকে কিছু পেতে হলে সমুদ্রে যেতে হবে। এছাড়া বিশাল সমুদ্রের বাংলাদেশ অংশকে সবার আগে নিরাপত্তা দিতে হবে। বিদেশি কোম্পানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের পাশাপাশি দেশীয় পর্যায়েও চেষ্টা চালাতে হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়ানোর সময় এসেছে। সমুদ্রে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা সম্ভব হলে সমুদ্র থেকে সম্পদ দ্রুত আহরণ করা সম্ভব হবে। এছাড়া বিশাল বিশাল প্রকল্পের মাধ্যমে সমুদ্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে তা দেশের জন্য লাভই হবে। মহীসোপানের ওপরে ও সমুদ্রের অভ্যন্তরে আরও ব্যাপক জরিপ ও গবেষণার  প্রয়োজন রয়েছে। অন্যথায় জলজ সম্পদ, তেল-গ্যাস ও খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান ও এসবের বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা জানা সম্ভব হবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের অগভীর ও গভীর সমুদ্রের তলদেশে অতি মূল্যবান ইউরেনিয়াম, প্লাটিনাম, থোরিয়ামসহ নানা দুর্মূল্য ও দুর্লভ খনিজ সম্পদ পাওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া অগভীর সমুদ্রে সিমেন্ট তৈরির উপাদানও পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরের ‘সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড’ সমুদ্রের বিশাল জীববৈচিত্র্যময় ও সম্ভাবনাময় এলাকা। এখানকার সমুদ্র সম্পদ সম্পর্কে সরকারি-বেসরকারি আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

পৃথিবীর অনেক দেশ বাংলাদেশের থেকে কম সমুদ্র সম্পদের অধিকারী হয়েও সীমিত সম্পদকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আর স্থলভাগ সমান সমুদ্র সম্পদের অধিকারী হয়েও বাংলাদেশ এখনো গবেষণা পর্যায়ে রয়েছে! যেহেতু সমুদ্র অর্জনের পর ভারত ও মিয়ানমার অংশে তেল-গ্যাস ও খনিজ সম্পদ পাওয়া গেছে সেহেতু স্বাভাবিকভাবে ধরে নেওয়া যায় বাংলাদেশ অংশেও বিপুল মত্স্য, তেল-গ্যাস ও খনিজ সম্পদ রয়েছে। প্রাপ্তিসাপেক্ষে বিপুল মত্স্য সম্পদসহ এসব মূল্যবান খনিজ উত্তোলন ও আহরণ সম্ভব হলে আগামীতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিধারা আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে যাবে। জাতিসংঘের ১৫ বছর মেয়াদি ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার’ (এসডিজি) ১৪ নম্বরে ‘জলজ সম্পদের’ ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে সম্পদ অনুসন্ধান ও উত্তোলনে ব্যাপকভিত্তিক মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা। বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে ব্লু-ইকোনমির অমিত সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে টেকসই মত্স্য সম্পদ আহরণ ও সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ব্যাপক গুরুত্ব দিতে হবে। এছাড়া সামুদ্রিক পর্যটনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া যেতে পারে। সমুদ্রে বিভিন্ন ধরনের সম্পদ আহরণের পাশাপাশি পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো গেলে ব্যাপক কর্মসংস্থানেরও সুযোগ তৈরি হবে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দেশের স্বার্থে সমুদ্র সম্পদ আহরণ ও সদ্ব্যবহারে এখনই টেকসই পরিকল্পনা প্রয়োজন।  

n লেখক:শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৬ আগষ্ট, ২০২১ ইং
ফজর৪:২০
যোহর১২:০১
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:২৬
এশা৭:৪১
সূর্যোদয় - ৫:৩৮সূর্যাস্ত - ০৬:২১
পড়ুন