আধুনিক কৃষি
শিম উত্পাদনে জৈব প্রযুক্তির সফল ব্যবহার
সমীরণ বিশ্বাস০৬ অক্টোবর, ২০১৮ ইং

পৃথিবীর অধিকাংশ অঞ্চলে শিম চাষ হয়। শিম অত্যন্ত পুষ্টিকর খাদ্য। কিন্তু শিমের প্রধান ক্ষতিকারক পোকা হচ্ছে জাব পোকা। এই পোকাটিকে নিয়ন্ত্রণের জন্য সারা পৃথিবীতেই টনে-টনে কীটনাশক ব্যবহূত হয়ে থাকে; যা পরিবেশ এবং মানব-স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক এবং হুমকিজনক। তাই বাংলাদেশের কৃষক-কৃষানিদের উদ্ভাবিত জৈব পদ্ধতি ব্যবহার করে রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার ছাড়াই কীভাবে জাব পোকা দমন করা হয় তা আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

লক্ষ করলে আমরা দেখতে পাবো যে, জাব পোকা হচ্ছে এক ধরনের ক্ষুদ্র, সবুজ এবং কালো রঙের পোকা। এরা লতা-পাতার উপরিভাগে দলে-দলে বসবাস করে এবং রস খেয়ে শিম গাছের ক্ষতিসাধন করে থাকে। এ কারণে গাছের বৃদ্ধি খুব ধীরে হয়। জাব পোকা শীত ও বর্ষাকালের চেয়ে অন্যান্য ঋতুতে বেশি সমস্যার সৃষ্টি করে থাকে। এরা রোগাক্রান্ত গাছ থেকে স্বাস্থ্যবান গাছে ভাইরাস সংক্রমণ করতে পারে। কৃষকরা ছাই ও কেরোসিন একসঙ্গে ব্যবহার করেন, কারণ কেরোসিন একে আরো বেশি অম্লীয় করে। এক কিলোগ্রাম ছাই হোমিও ড্রামের পাঁচ মিলিলিটার কেরোসিনের সঙ্গে মিশিয়ে তা পাতার উপরিভাগে ছিটিয়ে দিতে হবে এবং যেখানে দলে-দলে জাব পোকা বাস করে, সেখানে তা ছিটিয়ে দিতে হবে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সকালে কেন ছাই ছিটানো হয়? এর উত্তর হচ্ছে, খুব সকালে ছাই ছিটিয়ে দিলে শিশিরের কারণে সেই ছাই পাতার উপরিভাগে লেগে থাকে। ছাই থাকার কারণে পাতার উপর একটি আবরণ তৈরি হয়, ফলে জাব পোকা গাছ থেকে আর রস চুষে খেতে পারে না। গাছের পাতা, বাঁশের পাতা এবং সরিষা গাছ ও পাতার ছাই শাকসবজির গাছের জন্য অম্লীয় হতে পারে; আর তাই শাকসবজিতে পাতার ছাই ব্যবহার করা যাবে না। কাঠের ছাই বা ধানের খড়ের ছাই বা ধানের তুষের ছাই ব্যবহার করা যায়, কারণ এতে গাছের কোনো ক্ষতি হবে না।

জাব পোকা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সাবানও ব্যবহার করা যেতে পারে। একটি কাপড় কাচার সাবান নিয়ে বুদবুদ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এক বালতি জলে সাবান মেশাতে হবে। এই সাবান জল অম্লীয়। দিনে একবার করে যদি তিনদিন ধরে এটি প্রয়োগ করা যায়, তাহলে তা জাব পোকা ধ্বংস করতে সাহায্য করবে।

এখন আমরা দেখি, শাকসবজিতে কেন সাবান-পানি স্প্রে করা হয়? এর কারণ হচ্ছে, সাবান জাব পোকা ধ্বংস করে এবং এটি বেশি ব্যয়বহুলও নয়। লেডি বার্ড গুবরে পোকা বা ঢ্যালা পোকার দেহ লাল, সেইসাথে কালো-কালো ছিটযুক্ত হয়ে থাকে। এগুলো জাব পোকার বসবাসের জায়গায় ঘোরাফেরা করে। এগুলো জাব পোকা খায়। লেডি বার্ড বিট্ল ফুলের মিষ্টি পরাগরেণু খেতেও পছন্দ করে। এ কারণে লেডি বার্ড বিট্লকে আকর্ষণ করার জন্য মূল ফসলের চারপাশে একসারি তিল বা সরিষা লাগানো যেতে পারে, যাতে সেগুলো ফসলের কাছে এসে জাব পোকা খেতে পারে।

যেহেতু জাব পোকা সরিষা গাছের রস খেতে পছন্দ করে এবং হলুদ রঙ দ্বারা আকৃষ্ট হয়, সে কারণে মূল ফসল থেকে সরিষা গাছ জাব পোকাগুলোকে দূরে সরিয়ে রাখে। জাব পোকা যখন সরিষা গাছের কাছে যায়, লেডি বার্ড বিট্ল তখন সেগুলোকে খেয়ে ফেলে। মূল ক্ষেতের চারপাশে একসারিতে সরিষা গাছ লাগাতে হবে। মূল ফসল লাগানোর সাতদিন পরে সরিষা গাছ লাগাতে হবে। এভাবে ফুল বেশিদিন টিকবে। ফসল রক্ষা করার জন্য সরিষা গাছ নির্দিষ্ট সময়েই ফুল দেবে। জাব পোকা ধ্বংস করে ক্ষেত থেকে ভালো ফসল পেতে হলে এসব বিষয় মেনে চলতে হবে।

nলেখক : কো-অর্ডিনেটর, কৃষি ও

বীজ কর্মসূচি, সিসিডিবি, ঢাকা

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৬ অক্টোবর, ২০২১ ইং
ফজর৪:৩৬
যোহর১১:৪৭
আসর৪:০৩
মাগরিব৫:৪৫
এশা৬:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:৫১সূর্যাস্ত - ০৫:৪০
পড়ুন