নদ-নদী রক্ষায় এগিয়ে আসুন
ফয়সল শাহিন১২ নভেম্বর, ২০১৮ ইং
নদ-নদী রক্ষায় এগিয়ে আসুন
প্রাকৃতিক রূপের মহিমায় সমৃদ্ধ আমাদের মাতৃভূমি। দেখে মনে হয় প্রকৃতি তার রূপের ভাণ্ডারের সম্পূর্ণ রূপ নিংড়ে দিয়েছে আমাদের  এই বঙ্গভূমিকে।  সুজলা-সুফলা শ্যামল এই বাংলার রূপের ঝলকানি দ্বারা যুগের পর যুগ মুগ্ধ  হয়েছেন বিভিন্ন কবি, সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিকরা। এই বাংলাকে রূপে-গুণে সমৃদ্ধ করতে যেসব প্রকৃতি প্রদত্ত উপকরণ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে তার মধ্যে অন্যতম এই সোনার বাংলার আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য নদ-নদী। নদ-নদীগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে :পদ্মা,  সুরমা, মেঘনা, যমুনা, গঙ্গা, কর্ণফুলি, খোয়াই, কুশিয়ারা, কীর্তনখোলা, চিত্রা, গড়াই, নাফ, তিতাস, মধুমতি, ব্র?হ্মপুত্র, ধলেশ্বরী, ধানসিঁড়ি, বিরিশিরি, বুড়িগঙ্গা, কপোতাক্ষ, করতোয়া, আড়িয়াল খাঁ, তিতাস  ইত্যাদি। এসব  নদ-নদীতে প্রচুর পরিমাণে মত্স্য পাওয়া যায় যা বৈদেশিক বাজারে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশ ইকোনমিক রিভিউয়ের তথ্যমতে, বাংলাদেশের জিডিপিতে মত্স্যখাতের অবদান এখন ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ২০১৭-১৮ সালে বাংলাদেশ প্রায় ৬৯ হাজার মেট্রিক টন মত্স্য এবং মত্স্যজাত পণ্য রপ্তানি করে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে। যার অধিকাংশ রপ্তানিযোগ্য মত্স্য আসছে বিভিন্ন নদ-নদী থেকে। এছাড়াও দেশের বিদ্যুত্ উত্পাদনের ক্ষেত্রে নদীর ভূমিকা অনন্য। আমরা জানি বাংলাদেশের একমাত্র জলবিদ্যুত্ কেন্দ্র কর্ণফুলি নদীতে অবস্থিত যা কাপ্তাই জলবিদ্যুত্ কেন্দ্র নামে পরিচিত। এ জলবিদ্যুত্ কেন্দ্র দেশের বিদ্যুত্ চাহিদা মেটাতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে। এসব নদ-নদীর সঙ্গে মিশে আছে অসংখ্য মণীষীর স্মৃতি তার মধ্যে অন্যতম জীবনানন্দ দাশের ধানসিঁড়ি নদী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মধুমতি নদী, মাইকেল মধুসূদন দত্তের কপোতাক্ষ নদ, কবি আল মাহমুদের স্মৃতি বিজড়িত  তিতাস নদী   ইত্যাদি। এসব নদ-নদীর রূপে মুগ্ধ হয়ে বিভিন্ন স্বনামধন্য সাহিত্যিকরা বিভিন্ন উপন্যাস ও  কবিতার সম্ভার উপহার দিয়েছেন এদেশের সাহিত্য প্রেমিদের, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ উপন্যাস, অদ্বৈত মল্লবর্মণ লিখেছেন ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ ইত্যাদি। ঐতিহ্যবাহী এসব নদ-নদী আজ ধ্বংসের মুখে। নদ-নদীগুলো ধ্বংসের অন্যতম কারণ হচ্ছে শিল্প-কারখানা থেকে নিঃসরণকৃত বর্জ্য, বসতবাড়ির ময়লা-আবর্জনা, শহরের ময়লা-আবর্জনা, কৃষিতে ব্যবহূত রাসায়নিক ও কীটনাশক যা প্রতিনিয়তই নদ-নদীতে পতিত হওয়ার ফলে এর পানিগুলো দূষিত হচ্ছে এছাড়া নদী ভরাট করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের ফলে ও নদ-নদীগুলো তাদের চিরযৌবনা রূপ হারাচ্ছে। বর্তমানে যদি আমরা দৃষ্টি দেই  বুড়িগঙ্গা নদীর দিকে লক্ষ্য করতে পারব যে এই বুড়িগঙ্গা পূর্বের মত নেই। যে বুড়িগঙ্গাকে বলা হতো ঢাকা শহরের প্রাণ সেই বুড়িগঙ্গা আজ বিলুপ্তির প্রহর গুনছে। সারা রাজধানী জুড়ে রয়েছে অসংখ্য শিল্প-কারখানা আর এসব শিল্প-কারখানা থেকে নিঃসৃত বর্জ্য ও শহরের ময়লা-আবর্জনা নদীতে পতিত হওয়ার ফলে নদীটির পানি দূষিত হচ্ছে ফলে নদীটি তার প্রাণ হারাচ্ছে। এসব নদ-নদীকে রক্ষায় আমাদের সকলকে এগিয়ে আসা উচিত। এসব নদ-নদীর পানি যদি দূষণ হওয়ার হাত থেকে পরিত্রাণ না পায় আমরা নিরাপদ পানির সংকটে পড়ব। এই ধারাবাহিকতা যদি প্রতিনিয়ত অব্যাহত থাকে হয়ত আমরা ভুলে যাব যে আমাদের বাংলাদেশ একদিন নদীমাতৃক দেশ ছিল।

আমাদের দেশের ঐতিহ্যবাহী এসব নদ-নদীগুলো আমাদেরই সম্পদ। আমাদের নিজেদের সম্পদকে আমাদেরই রক্ষা করতে হবে তা রক্ষার দায়িত্ব অন্য কেউ বহন করবে না। আসুন, আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত এসব নদ-নদীর হারিয়ে যাওয়া রূপ ফিরিয়ে দিতে কাজ করি এবং নদ-নদীতে বিভিন্ন ময়লা-আবর্জনা ফেলানো থেকে বিরত থাকি, নদী ভরাট করে তাতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের নীতি বর্জন করি। আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে আমাদের দেশের নদ-নদীগুলোকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে।

n লেখক:শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১২ নভেম্বর, ২০১৯ ইং
ফজর৪:৫৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৩৯
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পড়ুন