পথশিশুদের জাগরণের স্কুল ‘নবজাগরণ’
টাঙ্গাইলে এক শিক্ষানুরাগীর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
পথশিশুদের জাগরণের স্কুল ‘নবজাগরণ’
রুবেল ও তামিম লেখাপড়া বাদ দিয়ে স্থানীয় হোটেলে কাজ করত। রুবেলের বাবা দিনমজুর ও তামিমের বাবা রিকশা চালক। সারাদিনে যে উপার্জন করে তাতে সন্তানদের লেখাপড়া তো দূরের কথা সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয় তাদের। রুবেল ও তামিমদের মতো শতাধিক পথশিশু নিয়ে নিজ উদ্যোগে প্রাথমিক স্কুল গড়ে তুলেছেন শিক্ষানুরাগী ভূঞাপুরের আব্দুল বাছেদ।

মোহাম্মদ আব্দুল বাছেদ খান জীবনের শুরু থেকে ছিলেন শিক্ষানুরাগী। তিনি মানুষকে বই পড়ার প্রতি মনোযোগী করে তুলতে নিজ উদ্যোগে ১৯৯৫ সালে ‘নবজাগরণ’ নামে ভূঞাপুরে একটি পাঠাগার গড়ে তোলেন। এরপর থেকে তিনি মানুষকে বই পড়ার দিকে আগ্রহী করে তোলার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যান। পরে ঝরেপড়া পথশিশুদের লেখাপড়ার দিকে মনোযোগী ও স্কুলমুখী করতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্বপ্ন দেখেন। এরই ফল হিসেবে ২০১০ সালে পৌর এলাকায় ভাড়া বাসায় “শিক্ষাই আলো, বিদ্যালয়ে চলো” প্রতিপাদ্যে নবজাগরণ পথশিশু প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন। বর্তমানে আব্দুল বাছেদের বাড়ির অর্ধেক অংশে বিদ্যালয়টি পরিচালিত হচ্ছে। বিদ্যালয়ে পথশিশু ছাত্র/ছাত্রী সংখ্যা ১৪১জন। এদের পড়ালেখার দায়িত্বে রয়েছেন ৪জন শিক্ষক। নিজ উপার্জন থেকে শিক্ষকদের বেতন দিচ্ছেন তিনি। এছাড়া শিশুদের বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ ও নাশতার ব্যবস্থা করেছেন। ঝরেপড়া পথশিশুরা আনন্দ নিয়ে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে। তিনি পৌর এলাকার শিয়ালকোল গ্রামে “অনুসন্ধান পাঠাগার” ও উপজেলার শালদাইর গ্রামে “জ্ঞান বিকাশ পাঠাগার” নামে আরো দুইটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।

সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী আশা, আনোয়ারা, হাসিয়া, তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র তামিম, রুবেল ও রিফাতের মতো আরো অনেকের সাথে কথা হয়। তারা জানায়, আগে আমরা পড়ালেখা কি জানতাম না। অন্যের বাসায়, দোকানে, হোটেলে কাজ করতাম। পরিবারে আর্থিক যোগান দিতে বাধ্য হয়েই বাসাবাড়িসহ বিভিন্ন পেশার কাজ করতে হতো। এখন আমরা স্কুলে আসি, ভাল লাগে আমাদের। স্কুল থেকে আমাদের শিক্ষা উপকরণ ও খাবার দেয়া হয়। স্কুলের স্যারদের ব্যবহার অনেক ভাল।

নবজাগরণ পথশিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রাসেল ভূঁইয়া জানান, স্কুলগুলোতে অর্থের অভাবে শ্রমজীবী  ও পথশিশুদের পড়ালেখার সুযোগ হয় না। ফলে প্রাথমিকেই ঝরেপড়ে তারা। ভাল পরিবেশের পাশাপাশি শিশুরা এখানে বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ, এক বেলা নাশতা ও লেখাপড়ার সুযোগ পাচ্ছে। ফলে শিশুরা নিজেরাই আগ্রহ করে স্কুলে আসছে।

নবজাগরণ পথশিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আব্দুল বাছেদ খান জানান, আমার অনেক আগ থেকেই স্বপ্ন ছিল পাঠাগারের পাশাপাশি পথশিশুদের বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করা এবং সেটা করেছি। বিদ্যালয়টি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে পথশিশুদের লেখাপড়ার মান আরো উন্নত হবে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ মীর জাহিদুল কবীর তুহিন বলেন, ঝরেপড়া শিশুদের জন্য আব্দুল বাছেদের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। তার এই মহতি উদ্যোগ ও সফলতাকে অনেকেই অনুকরণ করবে। আমাদের তরফ থেকে সকল ধরনের সহযোগিতা করা হবে।”

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:২০
যোহর১২:০১
আসর৪:৩৩
মাগরিব৬:২৫
এশা৭:৪০
সূর্যোদয় - ৫:৩৮সূর্যাস্ত - ০৬:২০
পড়ুন