গোপালগঞ্জে নৌকা প্রতীক পেতে মরিয়া প্রার্থীরা, বিএনপি আত্মগোপনে
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি০২ ডিসেম্বর, ২০১৫ ইং
গোপালগঞ্জে পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নৌকা প্রতীক পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। আওয়ামী লীগের দুর্ভেদ্য ঘাঁটি গোপালগঞ্জের ভোটারদের কাছে নৌকা সর্বাধিক জনপ্রিয় প্রতীক। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ মাটির শ্রেষ্ঠ সন্তান। বঙ্গবন্ধুর নৌকা প্রতীকের প্রতি গোপালগঞ্জের মানুষের বরাবরই দুর্বলতা রয়েছে। আসন্ন পৌর নির্বাচনে যিনি নৌকা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনিই নির্বাচনে সুবিধাজনক স্থানে থাকবেন বলে ভোটাররা মত দিয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর নৌকা প্রতীক পেতে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা জোর গ্রুপিং-লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনার নিজ  জেলা গোপালগঞ্জ। গোপালগঞ্জ সদর আসনের এমপি শেখ ফজলুল করিম সেলিম গোপালগঞ্জকে আধুনিকতার ছোঁয়া দিয়ে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তারপরও পৌর এলাকায় রয়েছে সমস্যা। গোপালগঞ্জকে পরিচ্ছন্ন, মাদকমুক্ত ও আধুনিক শহর হিসাবে গড়ে তোলার দাবি পৌরবাসীর। নৌকা প্রতীক পেলেই প্রার্থীর  নির্বাচনী কাজ অন্তত ৭৫ ভাগ সম্পন্ন হবে। গোপালগঞ্জে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা বিএনপি-জামায়াতের প্রতীক নিয়ে খুব একটা সুবিধা করতে পারবেন না। দলীয় প্রতীকে পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্তের পর গোপালগঞ্জের পৌর নির্বাচনের দৃশ্যপট  পাল্টে গেছে। সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন পেতে মরিয়া হয়ে উঠেন। তারা কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগে প্রকাশ্যে কোন দ্বন্দ্ব-সংঘাত বা গ্রুপিং নেই। এখানে আওয়ামী লীগ থেকে যাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে তিনিই সুবিধাজনক অবস্থায় থাকবেন। বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীরা কোন সুবিধাই করতে পারবেন না। আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী নির্বাচনী তত্পরতা চালাচ্ছেন। এছাড়া বর্তমান মেয়র রেজাউল হক সিকদার রাজু, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান লিটন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন বলে শোনা যচ্ছে।

আসন্ন নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে বর্তমান মেয়র জেলা শ্রমিকলীগের আহ্বায়ক মো. রেজাউল হক সিকদার রাজু , জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক এম. বদরুল আলম বদর, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মুশফিকুর রহমান লিটন, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী লিয়াকত আলী লেকু, জেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি জি.এম শিহাবউদ্দিন আজম, সাধারণ সম্পাদক এম.বি সাঈফ বি মোল্লা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক বি.এম আলম সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক পদ থেকে  আওয়ামী লীগে যোগদানকারী নেতা আশরারুল হক লিটু, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক কালাচাঁদ সাহা। এছাড়া আওয়ামী যুবলীগ কর্মী শেখ মুরাদ হোসেন মেয়র পদে প্রার্থী হতে পারেন  বলে শোনা যাচ্ছে।

গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এসএম জিলানী বলেন, গোপালগঞ্জে আমরা এখন দল গোছাতে ব্যস্ত। প্রকাশ্যে আমাদের কর্মকাণ্ড তেমন নেই। কিন্তু গোপনে গোপনে আমরা সাংগঠনিক তত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছি। ওয়ার্ড,  ইউনিয়ন,  পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী এমদাদুল হক  বলেন, দলীয় প্রতীকে পৌর মেয়র নির্বাচনের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে অধ্যাদেশ জারি হয়েছে। তবে প্রার্থী মনোনয়নের ব্যাপারে  কেন্দ্র থেকে এখনো আমাদের কাছে কোন নির্দেশনা আসেনি।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:০৪
যোহর১১:৪৮
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:২৪সূর্যাস্ত - ০৫:০৯
পড়ুন