নোয়াখালীর উপকূলে মেঘনার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ঝাউ বাগান
নোয়াখালী প্রতিনিধি০৮ আগষ্ট, ২০১৬ ইং
নোয়াখালীর উপকূলে মেঘনার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ঝাউ বাগান
মেঘনার ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে উপকূলীয় হাতিয়ার বয়ারচরের বাড়িঘর ও বনবিভাগের সামাজিক বনায়নের ঝাউ বাগান। কয়েকশ পরিবার ইতিমধ্যে নদী ভাঙনের শিকার হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সাম্প্রতিক জোয়ারে নদীর সে াতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় ব্যাপকভাবে ভাঙনের হুমকির মুখে পড়েছে বয়ারচরের পশ্চিমাংশের টাংকির খাল এলাকার বেড়িবাঁধ। এতে বেড়িবাঁধের পাশে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বসবাসকারী বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বয়ারচরের বিভিন্ন অংশে ব্যাপক ভাঙনের ফলে বাড়িঘর, ফসলি জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। টাংকির খাল এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ রক্ষায় ৫ বছর আগে সামাজিক বনায়নের আওতায় বন বিভাগের লাগানো ঝাউ গাছগুলো ভেঙে পড়ছে ও নদীতে ভেসে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সামাজিক বনায়নের উপকারভোগী সদস্য নিজাম উদ্দিন জানান, পাঁচ-ছয় বছর আগে মেঘনার তীরবর্তী বয়ারচরের টাংকির খাল থেকে পশ্চিমাংশ পর্যন্ত একটি বেড়িবাঁধ চর রক্ষার্থে নির্মাণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ওই বাঁধ রক্ষার জন্য সেখানে ঝাউ বাগান গড়ে তোলে বন বিভাগ। প্রতিদিনই জোয়ারের পানির তোড়ে গাছ ভেঙে পড়ে নদীতে ভেসে যাচ্ছে এবং বাড়িঘর ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এতে করে উপকারভোগীরা বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ভাঙনে গত তিন-চার বছরে কমপক্ষে পাঁচশ পরিবার গৃহহীন হয়েছেন। এসব পরিবারের বেশিরভাগই অন্য এলাকার নদী ভাঙনে গৃহহীন হয়ে এখানে এসে বসতি স্থাপন করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের  কোনো তত্পরতা নেই। এই ব্যাপারে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জহিরুল ইসলাম বলেন, ভাঙন কবলিত এলাকার জরিপশেষে তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ভাঙনরোধে অর্থ বরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। বরাদ্দ পেলেই বেড়িবাঁধ মেরামত করা হবে।

অন্যদিকে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আমির হোসাইন চৌধুরী জানান, ২০১০-১১ সালে নোয়াখালী উপকূলীয় বন বিভাগের উদ্যোগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি প্রকল্পের আওতায় বেড়িবাঁধ রক্ষায় বেড়িবাঁধ ও বাঁধের বাইরে নদী তীরবর্তী এলাকায় ৩৫ কিলোমিটার এলাকায় বনায়ন করা হয়। সেখানে ঝাউ, অর্জুন ও আকাশ মনির ৩৫ হাজার গাছ লাগানো হয়। কিন্তু গত দুই বছর ধরে নদী ভাঙনে ৬ কিলোমিটার এলাকার প্রায় ৭ হাজার গাছ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নদী ভাঙনরোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলেছেন।

মনপুরায় পানিবন্দী ১০ গ্রামের মানুষ

খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট

মনপুরা (ভোলা) সংবাদদাতা মোঃ ছালাহউদ্দিন জানিয়েছেন, ভোলার দ্বীপ উপজেলা মনপুরার মূল ভূখণ্ডের ১নং মনপুরা ইউনিয়নের চৌমহনী বাজার সংলগ্ন পশ্চিম পাশের বেড়িবাঁধ ও বেতুয়া বেড়িবাঁধ ভেঙে অমাবস্যার জোয়ারের পানি ঢুকে ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। সহস াধিক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। গত ৪ দিন ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে হু হু করে জোয়ারের পানি ঢুকে ১নং মনপুরা ইউনিয়নের পশ্চিম কুলাগাজী তালুক, কাউয়ারটেক চৌমহনী গ্রামের ৭নং ওয়ার্ড, পূর্বকুলাগাজির তালুক, সিতাকুণ্ড, ঈশ্বরগঞ্জ, হাজির হাট ইউনিয়নের পূর্ব সোনারচর, চরযতিন, চরজ্ঞান, চরমরিয়ম, দাসেরহাট গ্রাম তলিয়ে গেছে। এছাড়া মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন কলাতলীচর, ঢালচর, চরনিজাম, চরশামসুউদ্দিন চরের চারপাশে কোনো বেড়িবাঁধ না থাকায় অমাবস্যায় জোয়ারের পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেলে এসব চরাঞ্চল  প্লাবিত হয়। এসব প্লাবিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম বলেন, জোয়ারের তীব্রতায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ভেতরে পানি ঢুকছে। আমরা বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিসেস শেলিনা আকতার চৌধুরী বলেন, আমি বিষয়টি পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এমপিকে জানিয়েছি। তিনি এ ব্যাপারে দ্রুত উদ্যোগ নেবেন বলে আমাকে জানিয়েছেন। আশা করি, সমস্যা সমাধান হবে।

বাগেরহাটে জোয়ারের পানিতে

অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত

বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, বাগেরহাটে নদ-নদীতে জোয়ারের পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ভারী বর্ষণে অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বেড়িবাঁধের বাইরের গ্রামগুলো হাঁটু পানিতে তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে অসংখ্য পুকুর ও চিংড়ি ঘেরর মাছ। এসব এলাকার বাড়ি—ঘর, রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ফসলের মাঠ পানিতে তলিয়ে আছে। অনেকস্থানে বাড়ি-ঘরে পানি উঠে রান্না-খাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। স্লুইস গেটগুলো দিয়ে ঠিকমত পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় বিপর্যয় আরও বাড়ছে। ফলে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। 

বাগেরহাট, মোড়েলগঞ্জ ও মংলা পৌরসভার অধিকাংশ রাস্তাঘাট ও বস্তি এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। জেলার শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ, রামপাল, ফকিরহাট, মোল­াহাট, চিতলমারী, কচুয়া ও সদর উপজেলার ৫০টির অধিক গ্রামের মানুষ মানবেতর অবস্থার মধ্যে পড়েছেন। বীজতলা ও পান বরজের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।

জেলার ১২টি স্থানে বেড়িবাঁধ ও সড়কে ফাটল দেখা দিয়েছে। রবিবার বাগেরহাট সদরের নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ নজরুল ইসলাম বারইপাড়া, বিষ্ণুপুর, গোটাপাড়া ও কাড়াপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম সরেজমিন পরিদর্শন করে জানান, ভাঙনরোধে চেষ্টা করা হচ্ছে। রবিবার দুপুরে জোয়ারের সময় ভৈরব নদের পানিতে তলিয়ে গেছে শহরের প্রাণকেন্দ্র রাহাতের মোড়, ডাকবাংলা, কাপুড়ে পট্টি, সাধনার মোড়, পুরাতন বাজার, মিঠাপুকুর পাড়, লোকাল বোর্ড ঘাট, বাসবাটি ও খারদ্বারসহ বিভিন্ন এলাকা। বাগেরহাট পৌরসভায় পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতে নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
৮ আগষ্ট, ২০১৯ ইং
ফজর৪:০৯
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৪০
এশা৭:৫৯
সূর্যোদয় - ৫:৩১সূর্যাস্ত - ০৬:৩৫
পড়ুন