করমজল প্রজনন কেন্দ্রের ১৯টি কুমিরছানা বন বিড়াল খেয়েছে
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ইং
g  এইচ এম দুলাল, মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা

করমজল বন্যপ্রাণি প্রজনন কেন্দ্রে শেষ ধাপে গায়েব হওয়া ১৯ টি কুমিরের ছানা বনবিড়াল খেয়েছে বলে সুন্দরবন বিভাগের গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। যদিও এর আগে ছানা গায়েবের ঘটনায় প্রথম তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, প্রজনন কেন্দ্রের দুই কর্মচারী ছানা পাচারের জন্য দায়ী।

সুন্দরবন বিভাগের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন গত রবিবার পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় কর্মকর্তার দপ্তরে জমা দেওয়া হয়। তদন্ত কমিটিতে ছিলেন করমজল ফরেস্ট অফিসের ইনচার্জ মো. তৌহিদুর রহমান, চাঁদপাই স্টেশন ইনচার্জ মো. আলাউদ্দিন ও চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. মেহেদীজ্জামান।

প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম জানান, করমজলের কুমির ছানা রাখার ব্লকে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে সেটি যাচাই-বাছাই করা হয়। সেখানে স্থাপন করা ট্র্যাপিং ক্যামেরায় বন বিড়ালকে কুমির ছানা খেতে দেখা গেছে। এতে তদন্ত দল ১৯ টি কুমির ছানা গায়েব হওয়ার জন্য বন বিড়ালকেই দায়ী করে। তবে যেহেতু মামলা হয়েছে, সেহেতু প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় পাচার বা চুরি হওয়া ৪৩ টি কুমির ছানার বিষয়ে পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্ত দুই বনরক্ষীর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

গত ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি করমজল কুমির প্রজনন কেন্দ্র হতে দু’দফায় ৩৭টি কুমির ছানা রহস্যজনক ভাবে গায়েব হয়। এছাড়া মৃত উদ্ধার হয় আরো ৬টি কুমির ছানা। এসব ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট বিভাগ এক বনকর্মীকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত ও অস্থায়ী এক কর্মচারীকে চাকরিচ্যুতির পর তাদেরকে আসামি করে থানায় মামলা করে। এসব ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ৫ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১ টার দিকে নতুন করে আরো ১৯টি কুমির ছানার খণ্ডিত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা সহকারী বন সংরক্ষক মেহেদী  জামান বলেন, কুমির ছানা উধাও ও হত্যার ঘটনা বণ্যপ্রাণি ঘটিয়েছে এমন ধারণা হলে ১০টি ট্রাপিং ক্যামেরা বসানো হয়। এতে বনবিড়াল ধরা পড়ে  ট্র্যাপিং ক্যামেরায়। রাতেই এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন মহলকে জানিয়ে বন বিড়ালটিকে গুলি করে  হত্যা করা হয়। সাম্প্রতিককালে করমজলের ২৭৭টি কুমির ছানার মধ্যে ৬২টি ছানাই ওই বিড়াল খেয়েছে বলে মত ওই বন কর্তার। এ কর্মকর্তা আরো জানান, প্রথম দফার তদন্ত প্রতিবেদন ছিল ‘অনুমান নির্ভর’। তিনি আরো জানান, বনবিড়ালটির ময়না তদন্ত প্রতিবেদনে সেটির পেটে কুমিরের ছানার শরীরের খণ্ডাংশ ও মাথা পাওয়া গেছে। ময়না তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।

করমজল কুমির প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ তৌহিদুর রহমান জানান, ‘বর্তমানে প্রজনন কেন্দ্রে কুমির ছানা রক্ষায় পাহারা অরো জোরদার করা হয়েছে। ছানাদের নিরাপদ রাখতে প্যানগুলি (কুমিরের ছানা রাখার চৌবাচ্চা) ভালোভাবে নেট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সারারাত ৪ জন করে বনরক্ষী অস্ত্র নিয়ে ডিউটি করছেন এবং কয়েক মিনিট পরপর তেলের টিন পিটিয়ে শব্দ করা হচ্ছে। যাতে কোনো বন্যপ্রাণি না আসতে পারে। বর্তমানে প্রজনন কেন্দ্রে বিভিন্ন বয়সী ২১৫টি কুমিরের ছানা রয়েছে।’

 খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৩ সালে প্রজনন কেন্দ্রের এ প্যান থেকে ৮টি, ২০১৪ সালে ১১টি এবং ২০১৫ সালে আরো ১৭টি কুমির ছানা উধাও হয়েছিল। কিন্তু বনবিভাগের কাছে এ সবের কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি। আর ২০০২ সালে এ কুমির প্রজনন কেন্দ্রের  যাত্রা শুরু হলেও এ পর্যন্ত কুমিরের সঠিক পরিসংখ্যান নিয়ে কোনো রেজিস্টার নেই। করমজল প্রজনন কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা  তৌহিদুল ইসলাম জানান, ‘২০১৪ সাল থেকে বন্যপ্রাণির পরিসংখ্যান নিয়ে একটি রেজিস্টার খোলা হয়। তিনি এখানে  দায়িত্ব নেওয়ার পর হতে খাতায় সব লিপিবদ্ধ করছেন। 

 

 

 

 

 

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ইং
ফজর৫:১৬
যোহর১২:১৩
আসর৪:১৭
মাগরিব৫:৫৭
এশা৭:১০
সূর্যোদয় - ৬:৩২সূর্যাস্ত - ০৫:৫২
পড়ুন