সুনামগঞ্জে ঘুষ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর অভিযোগ
তালিকায় পাওয়া গেছে রাজাকারের নামও
সুনামগঞ্জ জেলায় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কোথাও যাচাইয়ের সময় রাজাকারের নামও মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় পাওয়া গেছে। কোনো কোনো স্থানে আবার কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধেও ঘুষ আদান-প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। জেলার জামালগঞ্জ উপজেলায় ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ লিখিতভাবে স্বীকার করেছেন কমিটির এক সদস্য। কমিটির দুই সদস্য এই উপজেলায় ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার তালিকা তৈরির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। অবশ্য গত বুধবার এই দুজন কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন।

এদিকে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জামালগঞ্জের দুই মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। বিষয়টি জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলকেও জানানো হয়েছে। ওখানে দুজন সদস্য পরিবর্তনেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

গত ২১ জানুয়ারি থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই শুরু হয়েছে। জামালগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য মুজিবুর রহমান উপজেলার শান্তিপুর গ্রামের মো. আব্দুল করিমকে মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে দেবেন বলে ৮ বারে তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব প্রসূন কুমার চক্রবর্তী এই অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেনকে। বুধবার উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট দায়ের করা তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, মুজিবুর রহমান চৌধুরী লিখিত বক্তব্যে আব্দুল করিমের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা এবং রাহিমা বেগম নামে অপর একজনের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন বলে স্বীকার করেন এবং ৭ দিনের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ারও অঙ্গীকার করেন। এ ছাড়া জামালগঞ্জ উপজেলার ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের প্রতিনিধি মজিবুর রহমান চৌধুরী এবং মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি সফর আলীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ঘুষ গ্রহণ করে অনেককে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর অভিযোগ ওঠায় কমিটি থেকে তাদের পদত্যাগের দাবি তোলা হয়। পরে এই দুই সদস্য বুধবার শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন। জামালগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আসাদ উল্লাহ্ সরকার বলেন, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকারদের মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার জন্য ঘুষ আদান-প্রদান হচ্ছে। ধর্মপাশা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আলী আমজাদ বলেন, ২০১৪-তে যারা মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম উঠিয়েছে তাদের অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। এরা কীভাবে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই করবে?

এদিকে জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার বীরসিংহ গ্রামের আলাউদ্দিন রাজাকার মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নিজের নাম উঠিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করেছেন এবং তার মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যরা সুবিধা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ঐ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে উপস্থিত হওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হলেও পরিবারের কেউ উপস্থিত হননি।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ইং
ফজর৫:১০
যোহর১২:১৩
আসর৪:২১
মাগরিব৬:০১
এশা৭:১৪
সূর্যোদয় - ৬:২৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৬
পড়ুন