ছাতকে সুরমা নদীতে ব্রিজ নির্মাণ শেষ হয়নি ১৩ বছরেও
ছাতকে সুরমা নদীতে ব্রিজ নির্মাণ শেষ হয়নি ১৩ বছরেও
সুনামগঞ্জ জেলার শিল্পাঞ্চল ছাতকে সুরমা নদীর উপর একটি ব্রিজের নির্মাণ কাজের ৪০ ভাগ শেষ হওয়ার পর অতিবাহিত হয়েছে ১৩ বছর। শতভাগ কাজ কবে শেষ হবে বলতে পারে না কেউ!

২০০৪ সালের ২৩ আগস্ট সেতুটির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। পরে বিশেষ প্রকল্পের আওতায় ২০০৬ সালের জানুয়ারি মাসে পৌরসভার শ্যামপাড়া ও নোয়ারাই ইউপির বারকাপন এলাকায় সুরমা নদীর উপর ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে শুরু হয় সেতুর নির্মাণ কাজ। তিন বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের কাজ শুরুর এক বছরের মধ্যে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নদীর দু তীরে চারটি পিলার নির্মাণ করা হয়। পরে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর প্রকল্পটি সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে বাদ দেওয়ায় সেতুর ভবিষ্যত্ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

পরে ২০১০ সালে এ সেতুটির অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে ৫১ কোটি টাকার একটি সংশোধিত প্রকল্প যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। আবেদনের প্রেক্ষিতে নতুন করে ১১২ কোটি ৯৯ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদনের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হলেও অদ্যাবধি কোনো অগ্রগতি হয়নি। পরে ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে পরিকল্পিত অ্যাপ্রোচ ও নেভিগেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে সেতু নির্মাণে ১১৩ কোটি টাকার প্রকল্প একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর থেকে অ্যাপ্রোচের ভূমি অধিগ্রহণের জন্যে ঝুলে আছে প্রকল্পটি।

সূত্র জানায়, সওজ সেতু নির্মাণে ভূমি অধিগ্রহণ বিষয়ে গত জুনে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে একটি আবেদন পাঠায়। সুরমা নদীর দুই তীরে প্রায় ২০ একর ভূমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব এখন প্রক্রিয়াধীন। অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ শুরু করা হবে বলে সুত্র জানায়। ভূমি অধিগ্রহণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সেতু এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সওজের সিলেটস্থ প্রধান প্রকৌশলী মো.শাহনওয়াজ ইত্তেফাককে জানান, এ বছর ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সজিব আহমদ জানান, মূল সেতুর দরপত্র মূল্যায়ন এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এটি অনুমোদনের জন্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পূর্বের ৪টি পিলারের সঙ্গে নতুন ৩টি পিলার সংযোজন করেই সেতুর কাজ সম্পন্ন করা হবে। এদিকে সুরমা সেতু নির্মিত হলে দক্ষিণ সুরমার বিশাল এলাকা সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্কের আওতায় চলে আসবে। ব্যবসা বাণিজ্যের আরো প্রসার ঘটবে। বিশেষ করে  দক্ষিণ সুরমায় অবস্থিত একাধিক সিমেন্ট ফ্যাক্টরি থেকে মালামাল পরিবহন সহজ হবে।

 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১০ আগষ্ট, ২০২০ ইং
ফজর৪:১১
যোহর১২:০৪
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৩৯
এশা৭:৫৭
সূর্যোদয় - ৫:৩২সূর্যাস্ত - ০৬:৩৪
পড়ুন