সীমান্তে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে এনজিও কর্মীরা!
১০ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
জসিম উদ্দিন টিপু, টেকনাফ (কক্সবাজার) সংবাদদাতা

কক্সবাজারের টেকনাফে বেসরকারি সংস্থা (এনজিও)-র প্রতিনিধিরা ইয়াবা পাচারে জড়িয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত বেশ কয়েকটি দেশি-বিদেশি সংস্থায় চাকরিরত স্থানীয় কিছু যুবকের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই ইয়াবা এবং মানব পাচারের অভিযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে ওইসব সংস্থার বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি হাতেনাতে ইয়াবাসহ আটক হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ক্যাম্পে কর্মরত এনজিও সংস্থার বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি ইত্তেফাককে জানায়, ইয়াবা পাচারে জড়িত এনজিও-র প্রতিনিধিদের সাথে স্থানীয় কতিপয় মাদক পাচারকারীর সখ্য রয়েছে। ক্যাম্পের আশপাশের মাদক ব্যবসায়ী এবং পাচারকারীদের সাথে আঁতাতের মাধ্যমে ইয়াবা পাচার করে এনজিও সংস্থার এসব প্রতিনিধি রাতারাতি অঢেল টাকার মালিক বনে গেছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মুচনী রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও লেদা অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বেশ কয়েকজন ইয়াবা মাফিয়ার মাধ্যমে এনজিও-কর্মীরা ইয়াবা নিয়ে এসে সহজেই কক্সবাজার হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রামে পাচার করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইতোমধ্যে বিদেশি এনজিও সংস্থা সলিডারিটিস ইন্টারন্যাশনালের ড্রাইভার আবুল হোছন তিন হাজার আটশত পিস ইয়াবাসহ আটক হন। এমএসএফ হল্যান্ডের নার্স (ধাত্রী) শিখা রাণী এম্বুলেন্সে করে ইয়াবা পাচারের সময় মরিচ্যা চেকপোস্টে বিজিবির হাতে আটক হয়েছেন। এসিএফ ইন্টারন্যাশনালের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ড. দেবাশীষ রঞ্জন বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ উখিয়ায় গ্রেফতার হন। গত মাসের শেষের দিকে আরটিএম ইন্টারন্যাশনালের ড্রাইভার বাদশা মিয়া এম্বুলেন্সে করে ইয়াবা পাচারের সময় পনের হাজার পিস ইয়াবা বড়িসহ উখিয়া থানা পুলিশ হাতে নাতে আটক করে। এছাড়া এনজিও সংস্থা এসিএফের আব্দুল মাবুদ, আবু ছাবের, রিদুওয়ানুল হক রিমু, এমএসএফের গোলাম আকবর, নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অফিস সহকারী আব্দুল মজিদ, এমএসএফ হল্যান্ড, সলিডারিটিস ইন্টারন্যাশনাল, আরটিএম ইন্টারন্যাশনালসহ বেশ কয়েকটি এনজিও সংস্থার প্রতিনিধিরা বিভিন্ন কৌশলে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা পাচার করছেন।

উখিয়া-টেকনাফে নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত বেসরকারি সংস্থা আরটিএম ইন্টারন্যাশনালের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর নাসরিন আক্তার মনিকা জানান, আসলে করার কিছুই নেই। এম্বুলেন্সে করে ইয়াবা পাচারের সময় যে ড্রাইভারকে আটক করেছে সে দীর্ঘ ১১ বছর ধরে আমাদের সাথেই কাজ করছে। তাকে আমরা সাথে সাথে বরখাস্ত করে দিয়েছি। এনজিও সংস্থার প্রতিনিধিরা ইয়াবা পাচারে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক জানিয়ে এই উন্নয়ন কর্মী আরো জানান, আমি নিজেও এখন ভয়ের মধ্যে আছি।

এনজিও-কর্মীরা মাদক পাচারে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক জানিয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন ছিদ্দিক বলেন, আমার উপজেলায় কর্মরত এনজিওদের সতর্ক করা হবে। এছাড়া তিনি মাদক এবং অপরাধে সংশ্লিষ্ট এনজিও কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১০ আগষ্ট, ২০২০ ইং
ফজর৪:১১
যোহর১২:০৪
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৩৯
এশা৭:৫৭
সূর্যোদয় - ৫:৩২সূর্যাস্ত - ০৬:৩৪
পড়ুন