সড়কটি পাকা হতে গিয়েও হলো না
১০ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
সড়কটি পাকা হতে গিয়েও হলো না
শহিদুল ইসলাম সুজন, মানিকগঞ্জ  প্রতিনিধি 

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটী-মুন্সিচড় সড়কটি পাকা হতে গিয়েও হলো না। কাঁচা রাস্তার বাঁকে বাঁকে বড় বড় গর্তে বৃষ্টির পানি জমে বলা চলে প্রায় পুকুরের সৃষ্টি হয়েছে। এলজিইডি’র আওতাধীন এ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা থাকায় এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে এ বছর বালিয়াটী মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তা পাকা করা হয়। মুন্সিচর জগা মার্কেট র্পযন্ত সড়কের ইট সোলিং-এর কাজ শুরু হয়। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ না করেই চলে যাওয়ায় সড়কটি আর পুরো পাকা হলো না, অধিকাংশ অংশ কাঁচাই থেকে গেল।

সরেজমিনে গিয়ে দেখ যায়, ইট সোলিং-এর জন্য সড়কটির মাটি কেটে সমান করে এতে বালি ফেলা হয়। কিন্তু রমজান মাসে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে দেয়। এবারের বর্ষায় প্রবল বৃষ্টিতে সড়কটি চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সড়কের অন্তত ১০-১৫টি স্থানে কয়েক মিটার গভীর গর্ত হয়ে ছোট ছোট জলাশয় তৈরি হয়েছে। দূর থেকে দেখলে পুকুর বলে ভ্রম হয়।

আতুল্লা গ্রামের আমিনুর রহমান জানান, সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এ সড়ক দিয়েই ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী চলাচল করে থাকে। কাঁদাপানিতে চলাচল করতে প্রচুর ভোগান্তি পোহাতে হয় তাদের। মুন্সিচর গ্রামের মরণ জানান, ধামরাই, সাটুরিয়া এবং মির্জাপুর উপজেলার মানুষ এ সড়কটি ব্যবহার করেন। কিন্তু এবারের বর্ষায় প্রবল বৃষ্টিপাতের পর থেকে কর্দমাক্ত, গর্তে পরিপূর্ণ এ সড়কে সিএনজি অটোরিকশা চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। তিন উপজেলার মানুষকে দারুণ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

আতুল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমার মোটর সাইকেল থাকার পরও এ সড়কে চালাতে পারি না। কয়েকদিন বাইসাইকেল নিয়ে স্কুলে যেতাম, দুই সপ্তাহ ধরে তাও যেতে পারছি না। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক এতদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকলেও কর্তৃপক্ষ নিশ্চুপ কেন তা আমার বোধগম্য নয়। বালিয়াটী ঈশ্বর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০ম শ্রেণির ছাত্র রাসেল জানায়, স্কুলে যাবার সময় আমরা প্রায়ই কাদায় পড়ে যাচ্ছি। এত কাদা হয়েছে যে ১০ মিনিটের রাস্তা হেটে যেতে সময় লাগছে ২০-২৫ মিনিট। আর যেদিন বৃষ্টি থাকে সেদিন স্কুল ড্রেস ব্যাগে করে নিয়ে যাই এবং স্কুলের কাছে গিয়ে তা পরে নেই।

এ ব্যাপারে সাটুরিয়া উপজেলার উপ- সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক জানান,  ৫২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বালিয়াটী- মুন্সিচর সড়কে ইট সোলিং-এর কাজ শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। আমি ‘আন অফিশিয়ালি’ যেটুকু জানি, তা হলো ইটের দাম বেড়ে যাওয়ায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ রেখেছে। আমরা কাজ শুরু করার জন্য লিখিতভাবে জানিয়েছি ঐ প্রতিষ্ঠানকে। ঠিকাদার আবার আমাদের কাছে লিখিতভাবে সময় চেয়েছে। সম্ভবত ইটের দাম কমলে অর্থাত্ নতুন ইট আসলে আবার কাজ শুরু করবে প্রতিষ্ঠানটি।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১০ আগষ্ট, ২০২০ ইং
ফজর৪:১১
যোহর১২:০৪
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৩৯
এশা৭:৫৭
সূর্যোদয় - ৫:৩২সূর্যাস্ত - ০৬:৩৪
পড়ুন