চারশ কোটি টাকার খাসিয়া পান সিলেট থেকে রপ্তানির সম্ভাবনা হারিয়ে যাচ্ছে
চারশ কোটি টাকার খাসিয়া পান সিলেট থেকে রপ্তানির সম্ভাবনা হারিয়ে যাচ্ছে
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে পান উত্পন্ন হয়। এই মিষ্টিপান দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশে রপ্তানি হয়। বৃহত্তর সিলেটেও পান উত্পাদনের খ্যাতি রয়েছে। সিলেটের জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, মৌলভীবাজারে শ্রীমঙ্গল, বড়লেখা, কমলগঞ্জ, চুনারুঘাটসহ কয়েকটি উপজেলায় সর্বাধিক পান উত্পাদন হয়। সিলেটের খাসিয়া সমপ্রদায়ের লোকজনই মূলত পান চাষ করে থাকে। তাই এখানকার উত্পাদিত পান খাসিয়া পান হিসেবেই পরিচিত। এই খাসিয়া পানই যুক্তরাজ্য, মধ্যপ্রাচ্য, পাকিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি হয়। সিলেট বিভাগে ছোট-বড় পাঁচ শতাধিক পান বাগান রয়েছে। খাসিয়া পানের কদর খুব বেশি। কারণ এটিতে একটু ঝাল রয়েছে।

সিলেটের পান রপ্তানিকারকরা জানান, সিলেটের পানের ক্রেতারা মূলত ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাঙালিরা। এ ছাড়া ইদানীং মধ্যপ্রাচ্য এবং পাকিস্তানেও খাসিয়া পানের বাজার সৃষ্টি হয়েছে। তবে ‘স্যালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া’র আক্রমণের কারণে বন্ধ রয়েছে পান রপ্তানি। ২০১২ সালে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি পানের মধ্যে ‘স্যালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া’ ধরা পড়ে। এরপর থেকে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে সিলেট থেকে পান রপ্তানি বন্ধ হয়ে পড়ে।

‘দীর্ঘদিন রপ্তানি বন্ধ থাকলে সম্ভাবনাময় একটি বাজার হারিয়ে ফেলার’ আশঙ্কা করে রপ্তানিকারকরা কৃষি অধিদপ্তরের উদ্যোগে বাগান চাষিদের স্যালমোনেলামুক্ত বাগান তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, রপ্তানি বন্ধ হয়ে পড়ায় দেশি বাজারেই এখন পান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা। এতে নায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।

জাফলংয়ের গোয়াবাড়ী এলাকার মলয় লতুবের বলেন, বাগানে উত্পাদিত উন্নতজাতের পান উত্পাদন হওয়ায় এখানকার বেশিরভাগ পানই রপ্তানিকারকরা কিনে নিতেন। কিন্তু দুই বছর ধরে রপ্তানি বন্ধ থাকায় দেশীয় পাইকারদের কাছেই পান বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে পানের নায্যমূল্য পাচ্ছি না আমরা।

তিনি বলেন, ‘এখন আমরা পান চাষ করতে পারছি না। একদিকে ভ্যাকটেরিয়া অন্যদিকে সন্ত্রাসীরা রাতের আঁধারে বাগান কেটে দিয়ে সাফ করে দেয়। গোয়াবাড়ীর ২১টি পরিবারের আদি পেশা পান চাষ। ‘কিন্তু গত বছর ৯ সেপ্টেম্বর দুর্বৃত্তরা ২১ একরের পানের জমিতে হামলা চালিয়ে দুর্বৃত্তরা বাগান নষ্ট করে দেয়।

জালালাবাদ ভেজিটেবল, ফ্রুটস এন্ড ফিশ এক্সপোর্টার গ্রুপের সভাপতি হিলকিল গুলজার বলেন, সিলেট থেকে বছরে তিন থেকে চারশ কোটি টাকার খাসিয়া পান ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হতো। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে পান রপ্তানি।

তিনি জানান, বছর পাঁচেক আগে যুক্তরাজ্যে পান খেয়ে এক নারী অসুস্থ হয়ে পড়ার পর বাংলাদেশের পানের মধ্যে ‘স্যালমোনেলা’ নামের এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান পান চিকিত্সকরা। এরপর থেকেই পান আমদানি বন্ধ করে দেয় যুক্তরাজ্য।

কর্মকর্তারা বলেন, স্যালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া যা খালি চোখে দেখা যায় না। কিন্তু পানের গায়ে লেগে থাকে। বাগান পরিচ্ছন্ন রাখা, পান গাছে রোগবালাই হলে দ্রুত প্রতিষেধক ব্যবহার, পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে বাগান মুক্ত রাখা গেলে স্যালমোনেলা ব্যাকটেরিয়ার বিস্তারও রোধ করা যাবে। এ ছাড়া রপ্তানির আগেও যথাযথ প্রক্রিয়ায় পান পরিষ্কার করে নিতে হবে। তা হলে পান এই ব্যাকটেরিয়া মুক্ত রাখা যাবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সিলেটস্থ নবাগত উপ-পরিচালক আলতাবুর রহমার বলেন, সিলেটের পানের কদর রয়েছে। সঠিকভাবে বাজারজাত করতে পারলে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ আগষ্ট, ২০২০ ইং
ফজর৪:১১
যোহর১২:০৪
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৩৮
এশা৭:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:৩২সূর্যাস্ত - ০৬:৩৩
পড়ুন