মানিকগঞ্জে সোলার লাইট বিতরণে অনিয়ম
নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি কাজ
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় সোলার হোম ও স্ট্রিট লাইট বিতরণের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি লাইট স্থাপনের কাজ। অনেক এলাকায় লাইট বিতরণে অনিয়মের অভিযোগও পাওয়া গেছে। এই বিতরণ কার্যক্রমে সোলার লাইট পাওয়ার যোগ্য অনেক পরিবারকেও বাদ দেওয়া হয়েছে। এতে করে ভেস্তে যেতে বসেছে সরকারের সোলার লাইট বিতরণ কার্যক্রম।

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের ২য় পর্যায়ের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কাবিটা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার দশটি ইউনিয়নে ৩৪১টি হোম সিস্টেম সোলার ও ৪২টি স্ট্রিট লাইট স্থাপনের অনুমোদন পায় সান হোম এনার্জি লিমিটেড কোম্পানি। নিয়মানুযায়ী চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলে নির্ধারিত সময়ে তারা কাজ শেষ করতে পারেনি। কাজের জন্য সরকার ওই কোম্পানিকে শতকরা ৫০ ভাগ টাকা অগ্রিম পরিশোধ করেছে। কাজ শেষ হওয়ার পরে বাকি টাকা তাদেরকে পরিশোধ করা হবে। সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, সোলার লাইট স্থাপনের কাজ খুব ধীরগতিতে চলছে।

বেশির ভাগ এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এখনো সোলার লাইট স্থাপন করা হয়নি। এছাড়া ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসের সঠিক মনিটরিংয়ের অভাবে দেওয়া হয়েছে মনগড়া বরাদ্দ। এছাড়া ৩০টি ‘সোলার হোমে’ তিনটি তিন ওয়াটের এল.ই.ডি বাতি ও একটি ১৫ ইঞ্চি টেলিভিশনের লোড নেওয়ার কথা। জানা গেছে, এসব সোলার হোমে দুইটির বেশি বাতি জ্বলে না।

স্ট্রিট লাইট ও সোলার হোম স্থাপনে কোনো নিয়মনীতি মানা হয়নি। যার বাড়িতে বিদ্যুত্ নেই, দুঃস্থ, অসহায়, মসজিদ মন্দিরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ লাইট লাগানোর নিয়ম রয়েছে। ইউপি সদস্য মাকসুদা আক্তারের বাড়িতে বিগত সময়ে সোলার লাইট বরাদ্দ হয়েছে। তারপরেও নতুন করে ৩০ ওয়াট সোলার প্যানেলের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য মাকসুদা আক্তার বলেন, আমি এখনও সোলার প্যানেল পাইনি, তিন/চার মাস আগে যেটি লাগানো হয়েছিল তা দিয়ে তিনটি লাইট চালানো যায়। এখন আমার মেয়ের নামে আরেকটি সোলার প্যানেল বরাদ্দ হয়েছে। এতে আমার বাতি ও ফ্যান চালানো যাবে। যদি এটি লাগানো হয় তাহলে আমার বাসায় দুটি সোলার প্যানেল হবে।

চান্দরা জনুর বাড়ির পেছনে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৬০ ওয়াট স্ট্রিট লাইট। অথচ এখানে বছিরন নামের এক বিধবা তার প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে বসবাস করেন। তার বাড়িতে নেই কোনো বিদ্যুত্। তাদের সোলার হোম বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিপ্লব হোসেন সেলিম বলেন, আমি অফিসে যোগাযোগ করেছি। তাদের শ্রমিক সংকট থাকার কারণে এখনও কাজ শুরু করেনি, তবে এক সপ্তাহের মধ্যে করবে। কসবা কবরস্থানে সোলার হোমের পরিবর্তে স্ট্রিট লাইট দেওয়া হবে। এছাড়াও বেতিলা-মিতরা ইউনিয়নে অরঙ্গবাদে মাজেদ মেম্বার, আইরমারা শাহিন মেম্বার, পূর্ব মিতরার মালেক মেম্বার ও বেতিলায় রফিকুল ইসলাম মেম্বারের বাড়িতে বিদ্যুত্ থাকার পরও তাদের বাড়িতে সোলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যদিও ওই ইউনিয়নের অনেক পরিবার সোলার লাইট পাওয়ার যোগ্য ছিল।

৯নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল মালেক বলেন, চেয়ারম্যান খুশি হয়ে আমাকে সোলার লাইট দিয়েছেন।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ আগষ্ট, ২০২০ ইং
ফজর৪:১১
যোহর১২:০৪
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৩৮
এশা৭:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:৩২সূর্যাস্ত - ০৬:৩৩
পড়ুন