হাটহাজারীর সরকারি ডেইরি ফার্ম সড়ক
ক্ষত-বিক্ষত সড়কে হেঁটে চলাও দায়
হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
ক্ষত-বিক্ষত সড়কে হেঁটে চলাও দায়
দেখলেই মনে হবে এটি কোনো অজপাড়া গাঁয়ের রাস্তা। পুরো সড়কই কাদাপানিতে ঢাকা। দেড় কি.মি এলাকাজুড়ে সড়কটি যেন অদক্ষ চালকের ট্র্যাক্টর দিয়ে চাষ করা উঁচু-নিচু জমিতে পরিণত হয়েছে। সড়কে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য খানা-খন্দ। জীপ, সিএনজি চালিত অটোরিক্সা কিংবা তিন চক্র বিশিষ্ট ভ্যানের চাকা আটকা পড়ছে এসব গর্তে। তিন মাস ধরে এ সড়কে বলতে গেলে যান চলাচল বন্ধ, হেঁটে চলাও দায়। এটি সরকারি ডেইরি ফার্ম সড়ক। হাটহাজারী পৌর এলাকায় নির্মাণাধীন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ এন্ড ফার্মবেজড ক্যাম্পাসের সড়ক নামেও পরিচিত এটি। সড়কটি হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে দিয়ে চলে গেছে।

জানা যায়, ১৯৯৫ সালের দিকে হাটহাজারী সরকারি দুগ্ধ ও ছাগল উন্নয়ন খামারে যাতায়াত ও পৌর এলাকার আদর্শ গ্রামে চলাচলের জন্য প্রায় ৩ কি.মি দৈর্ঘ্যের সড়কটির এক কি.মি এলাকা ডাবল ইটসলিং করা হয়। জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের এ অংশের বেশ কয়েকটি স্থানে দেবে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে দেড় শতাধিক ছোট ছোট গর্ত। এই সড়কের বাকি অংশে স্বাধীনতার পর থেকে অদ্যাবধি উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। মাটির তৈরি এ সড়ক দিয়ে উত্তর চট্টগ্রামের একমাত্র সরকারি দুগ্ধ খামার ও আদর্শ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করে থাকে। সড়ক দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হাটহাজারী ফায়ার সেন্টারের যানবাহনও চলাচল করে। সড়কের উভয় প্রান্তে শত শত একর জমি চাষের জন্য এলাকার মানুষ সড়কটি ব্যবহার করে। সড়কের উন্নয়নে হাটহাজারীর সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ কিংবা ২০১২ সালে সৃষ্টি হওয়া হাটহাজারী পৌরসভা থেকে মেলেনি কোনো বরাদ্দ। অল্প বৃষ্টিতেই মাটির তৈরি এ সড়ক কর্দমাক্ত হয়ে যায়। সরকারি দুগ্ধ খামার কিংবা সেনাবাহিনীর ফায়ার সেন্টারের ভারী যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে সড়কটি বেহাল দশায় পরিণত হয়।

গত তিন মাস ধরে সড়কটিতে বলতে গেলে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সড়কটি কি পৌরসভা, না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নাকি চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ যান চলাচল উপযোগী করবে তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সড়ক ব্যবহারকারী কৃষক নূরল আলম (৭০) ও আবুল কালাম (৬০) জানান, জন্মের পর থেকে এই সড়কের কোনো উন্নয়ন দেখিনি। মরার আগে এ সড়কটির উন্নয়ন হবে কি-না জানি না।

সড়কের পাশে তৈরি হওয়া মুরগির খামার মালিক মো. রাশেদ আলম জানান, ৭ বছর ধরে দশ হাজার বর্গফুটের তিনটি খামার করছি। তিন মাস ধরে যাতায়াত ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় অধিক লেবার খরচ দিয়ে খামার পরিচালনা করতে হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে খামার বন্ধ করে দিতে হবে।

স্থানীয় অধিবাসী রিজুয়ানুল ইসলাম (৩৪) বলেন, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে গত ২৪ আগষ্ট সড়কটির উন্নয়নের জন্য হাটহাজারী পৌরসভা বরাবরে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।

সরকারি দুগ্ধ ও ছাগল উন্নয়ন খামারের পশু উত্পাদন কর্মকর্তা সাদ মোঃ নেহাল উদ্দিন মিয়া বলেন, এ সড়ক দিয়ে খামারের খাদ্যবাহী যান চলাচল করতে হয়। অনেক সময় যান আটকে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।  এখন বিকল্প পথে খামারের খাদ্যপণ্য নিয়ে আসতে হচ্ছে।

হাটহাজারী পৌরসভা প্রকৌশলী বেলাল আহমদ খান বলেন, সড়কটি ডাবল ইট সলিন করার জন্য ২৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অর্থাভাবে তা সম্ভবপর হয়ে উঠেনি।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ বলেন, সড়কটি জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে করার পরিকল্পনা আছে বলে শুনেছি। তা না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে ৩ কি.মি দৈর্ঘ্যের সড়কটির উন্নয়নের একটি প্রকল্প পরিকল্পনায় আছে যা এক বছরের মধ্যে শুরু করার সম্ভাবনা নেই।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৪:২৭
যোহর১১:৫৬
আসর৪:২৩
মাগরিব৬:১০
এশা৭:২৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০৫
পড়ুন