পানিবন্দি সম্মানপুরে থমকে আছে জীবনযাত্রা
পানিবন্দি সম্মানপুরে থমকে আছে জীবনযাত্রা
এ বছর অকাল বন্যায় হাওরাঞ্চলের বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ায় হাওর পাড়ের মানুষের দিন কাটছে অভাব-অনটন আর নানা বঞ্চনার মধ্য দিয়ে। একদিকে ধান বিপর্যয় অন্যদিকে গ্রামের মানুষের দুর্বিষহ কষ্টের কান্না যেনো শুনছে না কেউ। জীবিকার তাগিদে গ্রামের মত্স্যজীবীরা মাছ ধরতে গিয়েও হাওরে বিভিন্ন ইজারাদারদের কারণে মাছ ধরতে পারছে না। ফলে স্থানীয় অধিবাসীরা কর্মহীন হয়ে পড়েছে। সিলেটের ওসমানীনগরের সাদিপুর ও উমরপুর ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত সম্মানপুর (ভরাউট) গ্রামবাসী চরম বিপর্যয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। গ্রামের দুই শতাধিক পরিবারের মধ্যে অধিকাংশ পরিবারই মত্স্যজীবী।

সরেজমিনে সম্মানপুর গ্রামে গিয়ে জানা গেছে, কুড়ি বিল ও বানাইয়া হাওরের পাশ ঘেঁষে গড়ে ওঠেছে সম্মানপুর গ্রাম। গ্রামের পানিবন্দি লোকজনের প্রতিটি বাড়ির আঙ্গিনা ও বসতঘরে পানি রয়েছে। নেই কোনো কমিউনিটি ক্লিনিক, সাব-সেন্টার কিংবা উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়। আর বিদ্যুত্ পাওয়াতো গ্রামের মানুষের স্বপ্ন। গ্রাম এলাকায় চিকিত্সা কেন্দ্র না থাকায় সঠিক চিকিত্সা সেবার অভাবে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, টাইফয়েড, সর্দি, জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বিনা চিকিত্সায় শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষসহ সব বয়সী মানুষকে বসবাস করতে হচ্ছে। গ্রামবাসীদের যাতায়াতের জন্য কোনো যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই, এক্ষেত্রে নৌকাই তাদের একমাত্র ভরসা। গ্রামের রাস্তার জন্য একাধিকবার সরকারি বরাদ্দ আসলেও তা যথাযথ স্থানে কাজে লাগানো হয়নি বলে গ্রামবাসীর অভিযোগ।

স্থানীয় বাসিন্দা যুবলীগ নেতা নুর হোসেনসহ গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, বন্যায় সরকারি বেসকারিভাবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হলেও এসব সহায়তা থেকে তারা বঞ্চিত  রয়েছেন।

গ্রামের বনমালী বিশ্বাস, বারিক মিয়া, সুজন মিয়াসহ অনেকেই জানান, আমাদের পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে সরকারিভাবে টিউবওয়েল দেওয়া হলেও আমাদের গ্রামে কোনো টিউবওয়েল দেওয়া হয়নি। খোলা পায়খানা ব্যবহার করার কারণে লোকজনের রোগবালাই লেগেই  আছে।

সম্মানপুর গ্রামের দূরবর্তী এলাকায় অবস্থিত একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভরাউট হাজী সুলেমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ফাতেহা খানম বলেন, হাওর এলাকায় অবস্থিত সম্মানপুর গ্রামে যোগাযোগ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, চিকিত্সা, স্যানিটেশন, বিদ্যুত্ ও বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে। সম্মানপুর গ্রামের ষষ্ঠ শ্রেণির স্কুল ছাত্রী জেবা রানী ও কল্পনা রানী জানায়, বছরের অধিকাংশ সময় পানি থাকায় আমরা নিয়মিত স্কুলে গিয়ে ক্লাস করতে পারি না। গ্রামের অনেকেরই প্রাইমারি শেষ করে মাধ্যমিক স্কুলে ভর্তি হয়ে লেখাপড়া করা হয়ে ওঠে না।

গ্রামের ষাটোর্ধ্ব মহিলা চন্দ্রা রায় বলেন, অভাব-অনটনে থাকলেও আমাদের খোঁজ-খবর কেউ নেন না। শরীরে বিভিন্ন রোগ বাসা বেঁধেছে, এই বয়সে আমি বয়স্ক ভাতাও পাচ্ছি না।

সাদীপুর ইউপির স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আলেয়া বেগম বলেন, অবহেলিত ও যোগাযোগ বঞ্চিত সম্মানপুর গ্রামটি সাদীপুর ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত, গ্রামের একটি অংশ আবার উমর ইউনিয়নের অধীনেও রয়েছে। গ্রামে প্রায় ৬ শতাধিক লোকের বসবাস যাদের মধ্যে শতভাগ লোকই হতদরিদ্র। বছরের অধিকাংশ সময় এই গ্রাম পানিতে নিমজ্জিত থাকে।

উমরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া বলেন, আমার ইউনিয়নের অধীনে থাকা সম্মানপুরের লোকজন সব সময় ত্রাণ সহায়তাসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা পাচ্ছেন। ওই এলাকায় আমি একটি মাটির রাস্তাও করে দিয়েছি।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন বলেন, সম্মানপুরের বিষয়টা আমাদের নজরে আছে, বর্তমানে টিউবওয়েল ও স্যানিটেশনের কোনো বরাদ্দ নেই। তবে এ বছর বন্যা হওয়ার কারণে আশা করছি বেশি পরিমাণে বরাদ্দ আসবে। বরাদ্দ পেলে সম্মানপুরকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৪:২৭
যোহর১১:৫৬
আসর৪:২৩
মাগরিব৬:১০
এশা৭:২৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০৫
পড়ুন