চট্টগ্রামে পাঁচ বছরেও জনবলের অনুমোদন মেলেনি ট্রমা সেন্টারে
১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
g  মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস

চট্টগ্রামে পাঁচ বছরেও চিকিত্সকসহ জনবল নিয়োগ পায়নি ট্রমা সেন্টার। ২০১৩ সালে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে লোহাগাড়া এলাকায় বিশেষায়িত চিকিত্সা কেন্দ্রটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে চিকিত্সা কার্যক্রম চালু করা হয়; কিন্তু গত পাঁচ বছরেও অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী জনবলের অনুমোদন পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টরা জানান, ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তা পরিদর্শন করে গেছেন। জনবল চেয়ে অনেক লেখালেখিও হয়েছে। প্রতিদিন দুর্ঘটনায় হতাহত অসংখ্য রোগী এসে চিকিত্সা না পেয়ে ফেরত যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী ইত্তেফাককে বলেন, ‘ট্রমা সেন্টারটি উন্নয়ন খাতে নির্মাণ করা হয়েছে। চট্টগ্রামসহ দেশে এ ধরনের ৭৩টি চিকিত্সা কেন্দ্র উন্নয়ন খাতের অধীনে রয়েছে। রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় জনবলের অনুমোদন মিলছে না। আগামী অর্থ বছরে ট্রমা সেন্টারটি রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া চলছে।’

জনগুরুত্ব বিবেচনা করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের মাঝামাঝি স্থানে ২০ বেডের বিশেষায়িত চিকিত্সা কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়েছে। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন অসংখ্যক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে আহত হয়ে অনেকেই এই ট্রমা সেন্টারে চিকিত্সা নিতে আসছে; কিন্তু চিকিত্সা সুবিধা না থাকায় আহত রোগীদের ফেরত যেতে হচ্ছে। তিন তলা বিশিষ্ট ভবনটিতে বিল বকেয়া থাকায় বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। পানির সংযোগ দেওয়া হয়নি। পরিচ্ছন্ন কর্মী না থাকায় হাসপাতালটি ময়লা আবর্জনায় ছেয়ে গেছে। নিজতলায় বহিঃবিভাগে সীমিত আকারে চিকিত্সা কার্যক্রম চলে। তবে অন্তঃবিভাগ চালু না থাকায় হাসপাতালের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

বিশেষায়িত ট্রমা সেন্টারের তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে রয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। জনবল নিয়োগ না দেওয়ায় এটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। জানা যায়, উপজেলা হাসপাতালের একজন জুনিয়র কনসালটেন্টকে (অর্থোপেডিক্স) ট্রমা সেন্টারের বহিঃবিভাগে চিকিত্সা সেবা প্রদানের জন্য অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রতিদিন বহিঃবিভাগে রোগীর চিকিত্সা প্রদান করছেন।

কর্মরত চিকিত্সক ডা. মাহমুদুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, ‘প্রতিদিন ১৫/২০ জন রোগীকে চিকিত্সা দেওয়া হয়। এখানে প্রাথমিক চিকিত্সা সেবা দেওয়া হয়ে থাকে। যাদের আঘাত গুরুতর তাদের চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।’ জানা যায়, ২০১৩ সালে চিকিত্সা কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর আগেই প্রয়োজনীয় চিকিত্সক ও জনবলের তালিকা অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ট্রমা সেন্টারে অন্তঃবিভাগ চালু করতে হলে ৮/১০ জন চিকিত্সক, প্রায় ২০ জন নার্স ও ৩৫/৪০ জন অন্যান্য কর্মচারী প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ট্রাম সেন্টারে বিদ্যুত্ সংযোগ দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা বিল বকেয়া পড়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় বিদ্যুত্ বিভাগ। এরপর থেকে উপজেলা হাসপাতাল থেকে একটি বিদ্যুত্ সংযোগ এনে নিচতলায় বহিঃবিভাগের চিকিত্সা সেবা পরিচালিত হচ্ছে। জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. হানিফ ইত্তেফাককে বলেন, ‘ট্রমা সেন্টার নিয়ে আমরা অনেক লেখালেখি করেছি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের অনেক কর্মকর্তা পরিদর্শন করে গেছেন। এখন স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় বহিঃবিভাগ চালু করা হয়েছে।’

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৪:২৭
যোহর১১:৫৬
আসর৪:২৩
মাগরিব৬:১০
এশা৭:২৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৪সূর্যাস্ত - ০৬:০৫
পড়ুন