কমলগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো বেহাল
২৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
কমলগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো বেহাল
g  নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা

গত কয়েক মাসের বৃষ্টি আর ভারী-যানবাহন চলাচল বৃদ্ধি পাওয়ায় মৌলভীবাজারের চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন থেকে শমশেরনগর হয়ে মৌলভীবাজার যাওয়ার রাস্তা এবং শমশেরনগর থেকে কমলগঞ্জ হয়ে শ্রীমঙ্গল যাওয়ার প্রধান দুটি সড়ক বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক দু’টিতে বিঘ্নিত হচ্ছে যান চলাচল। এসব রাস্তায় চলাচল করা যানবাহন প্রায়ই নষ্ট হয়ে বিকল হচ্ছে। চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা। সম্প্রতি চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন থেকে মৌলভীবাজার ও শমশেরনগর-শ্রীমঙ্গল পর্যন্ত সড়ক এলাকা ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলা সদর থেকে কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর হয়ে কুলাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন দিয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের ঊনকোটি জেলার কৈলাসহরের সাথে যুক্ত হয়েছে সড়কটি। ভারতের সাথে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে সড়কটি ব্যবহূত হচ্ছে। চাতলাপুর চেকপোস্টের মাধ্যমে পাসপোর্টধারী যাত্রীরাও দুই দেশে যাতায়াত করে থাকেন। সড়কটি জেলা সদরের সাথে কমলগঞ্জ উপজেলা ও কুলাউড়া উপজেলার সাথেও সংযুক্ত। গত কয়েক মাসের টানা বৃষ্টিতে ৩৪ কি.মি. দীর্ঘ এ সড়কের প্রায় সহস্রাধিক স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে দুই ইঞ্চি গভীর অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়। প্রতিদিন এ সড়কে যাত্রীবাহী ও মালামাল পরিবহনকারী ট্রাক-কভার্ড ভ্যান দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলছে। চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন থেকে মৌলভীবাজার জেলা সদরে যেতে ৩৪ কি.মি. পথ পাড়ি দিতে আগে ৪০/৫০ মিনিট সময় লাগলেও এখন দেড় ঘণ্টার আগে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

এদিকে, শ্রীমঙ্গল থেকে কমলগঞ্জ-শমশেরনগর সড়কটি কুলাউড়া উপজেলার সাথে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করছে। দেশি-বিদেশি পর্যটকরা এ সড়ক ব্যবহার করে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, কুলাউড়া হয়ে বড়লেখার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত পরিদর্শনে যান। শমশেরনগর বিমান বন্দর এলাকা থেকে শ্রীমঙ্গল পর্যন্ত ২১ কি.মি. সড়কের অসংখ্য স্থানে পিচ উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। লাউয়াছড়া উদ্যানের ভেতরে পাহাড়ি এলাকায় সড়কের পার্শ্ববর্তী অনেক স্থানে মাটি সরে খাদের সৃষ্টি হয়েছে। চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে এ সড়কটিও।

সিএনজি অটোরিকশা চালক শিমুল মিয়া, মশাই মিয়া, মাইক্রোবাস চালক জসিম উদ্দীন, পিকআপ চালক নেছার মিয়াসহ যানবাহন চালক ও যাত্রীরা বলেন, এত খারাপ সড়কে যানবাহন চালানো সম্ভব নয়। বাধ্য হয়ে যানবাহন চালাতে গিয়ে গর্তে পড়ে মাঝে মাঝে গাড়ির অনেক যন্ত্রাংশ ভেঙে যায়। আর প্রতিনিয়ত বিকল তো হচ্ছেই। তা ছাড়া এতে সড়কে দুর্ঘটনার আশঙ্কা যেমন বাড়ছে যাতায়াতে দীর্ঘ সময়ও ব্যয় হচ্ছে। সড়ক দুটি সংস্কার না করায় ক্ষত-বিক্ষত হয়ে এখন যান চলাচলের অনুপোযুক্ত হয়ে পড়ছে। অথচ প্রতিদিন প্রায় সহস্রাধিক যানবাহন এ দুটি সড়কে চলাচল করে। মালামাল পরিবহন ছাড়াও যাতায়াতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে রোগীবাহী প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্স। হাসপাতালে পৌঁছার আগেই অনেক সময় রোগীর অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়ে।

শমশেরনগর-মৌলভীবাজার সড়কে যাতায়াতকারী যাত্রীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বেহাল দশা হলেও সড়ক জনপথ বিভাগ এ দিকে কোনো নজরই দিচ্ছে না। শমশেরনগর-কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়ক ব্যবহারকারী শমশেরনগর এর ব্যবসায়ীরা বলেন, শ্রীমঙ্গল পাইকারি হাট থেকে প্রতিদিন ভোরে ঝুঁকি নিয়ে ৮ থেকে ১০টি পিকআপ শাকসবজি এবং শনি ও মঙ্গলবার শ্রীমঙ্গলের পাইকারী হাট থেকে একাধিক ট্রাকবাহী মুদি সামগ্রী ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। আমদানি-রপ্তানিকারক ক্লিয়ারিং এজেন্ট রমাপদ সেন বলেন, অসংখ্য গর্তের ওপর দিয়ে পণ্য সামগ্রী নিয়ে ট্রাকসমূহ যাতায়াত করে। কখন মালামালসহ ট্রাক উল্টে পড়ে সেই আশঙ্কা থাকে সবসময়।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মিন্টু রঞ্জন দেবনাথ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দুটি বেহাল স্বীকার করে ইত্তেফাককে বলেন, এখন সড়কের গর্তগুলো সাময়িকভাবে ইটের খোয়া দিয়ে ভরাটের চেষ্টা করা হচ্ছে। সড়কটি সংস্কারে জরুরি প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবারে পাঠানো হয়েছে। তাছাড়া মৌলভীবাজার সড়কের এক কি.মি. ও শমশেরনগর বাজারের শ্রীমঙ্গল সড়কের দুই পাশে শীঘ্রই কাজ শুরু করা হবে।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:১৮
যোহর১২:০০
আসর৩:৪৪
মাগরিব৫:২৩
এশা৬:৪১
সূর্যোদয় - ৬:৩৯সূর্যাস্ত - ০৫:১৮
পড়ুন