ঘিওর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স :দৃষ্টিনন্দন ভবন তৈরি হলেও চালু হয়নি
২৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং
ঘিওর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স :দৃষ্টিনন্দন ভবন তৈরি হলেও চালু হয়নি
পুরনো ভবনেই শত সংকটে চলছে কাজ, চিকিত্সকসহ লোকবলের অভাব, এক্সরে মেশিন, অ্যাম্বুলেন্স অকেজো, নোংরা পরিবেশ

g  মোঃ শফি আলম, ঘিওর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবন নির্মাণ শেষ হয়েছে প্রায় তিন বছর আগে। অথচ এখনো এটি উদ্বোধন বা চালু করা হয়নি। আর ভেতরে পুরনো দ্বিতল ভবনের এ হাসপাতালটির অত্যন্ত বেহাল অবস্থা। নেই প্রয়োজনীয়সংখ্যক চিকিত্সক, নার্স, নেই প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। হাসপাতালের এক্সরে মেশিন ও অ্যাম্বুলেন্সটি দীর্ঘদিন যাবত্ অকেজো থাকায় এলাকার মানুষ অত্যন্ত দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন, পাচ্ছেন না যথাযথ চিকিত্সা সেবা।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, পুরাতন দ্বিতল ভবনের দুটি ওয়ার্ডের অধিকাংশ বেড ও ওয়ার্ডের ফ্যানগুলো নষ্ট। মশারি, চাদর, বালিশ ও কম্বলগুলো দুর্গন্ধের কারণে রোগীরা ব্যবহার করতে পারেন না। জন্মলগ্ন থেকেই হাসপাতালে কোনো জেনারেটর নেই। নেই পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা। বিদ্যুত্ চলে গেলে রোগীদের মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। প্রস্রাবখানা ও টয়লেটগুলো অত্যন্ত নোংরা থাকায় ব্যবহারের অযোগ্য।

আর অন্যদিকে নতুন ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার প্রায় ৩ বছর পরও এটি উদ্বোধন করা হয়নি। জানা গেছে, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না হওয়ায় এবং আসবাবপত্র ও চিকিত্সা সরঞ্জামাদি এবং সর্বোপরি প্রয়োজনীয়সংখ্যক চিকিত্সক না থাকার দরুন ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ৫০ শয্যাবিশিষ্ট ৪ তলাবিশিষ্ট অত্যাধুনিক এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ১ম তলায় ট্রমা সেন্টার, ১টি অবজারভেশন রুম, চিকিত্সকদের রোগী দেখার জন্য পৃথক কক্ষ, ২য় তলায় ওয়ার্ড, বহির্বিভাগ, সার্জিক্যাল চিকিত্সকদের রুম, নার্স রুম, এক্সরে রুম এবং ই পি আই রুম। ৩য় ও ৪র্থ তলায় অপারেশন থিয়েটার, পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড এবং দুটি কেবিন আছে।

বর্তমানে ৩ জন মেডিক্যাল অফিসার দিয়ে চলছে পুরো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিত্সা সেবা। এর মধ্যে ১ জন চিকিত্সক ঘিওরে ৩টি স্থানে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন। সপ্তাহে ২ দিন অফিস করেন। অফিসে এসে হাজিরা খাতায় সই করে চেম্বারে রোগী দেখেন। ৬ জন কনসালটেন্ট ডেপুটেশনে মানিকগঞ্জ সদরসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সক সংকট দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অর্থপেডিক্স, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, চোখ এবং নাক, কান, গলার কোনো চিকিত্সক নেই। নবজাতক, শিশু ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড নেই। সাধারণ রোগীদের সঙ্গে তাদের রাখা হয়। জরুরি বিভাগ প্রায় সময়ই চিকিত্সক শূন্য থাকে। উপ-সহকারী মেডিক্যাল অফিসার ( সেকমো) দিয়ে জরুরি বিভাগ চালানো হয়। 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মেজবাহুর রহমান বলেন, ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির কার্যক্রম জরুরি ভিত্তিতে চালু করা   প্রয়োজন। 

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২৭ নভেম্বর, ২০২১ ইং
ফজর৫:১৮
যোহর১২:০০
আসর৩:৪৪
মাগরিব৫:২৩
এশা৬:৪১
সূর্যোদয় - ৬:৩৯সূর্যাস্ত - ০৫:১৮
পড়ুন